নয়াদিল্লি: ১৮ বছরের কম বয়সিদের সোশাল মিডিয়া (Social Media) ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনার পথে কি এগোচ্ছে দেশ? এমনই জল্পনা তৈরি হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে। নাবালকদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলায় কেন্দ্রের বক্তব্য জানতে নোটিস দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে ছিল বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার নামও। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, নাবালকদের সুরক্ষার জন্য কোনও না কোনও ধরনের নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, শিশুদের জন্য উপযুক্ত ‘রক্ষাকবচ’ থাকা জরুরি।
‘জাস্ট রাইটস ফর চিল্ড্রেন অ্যালায়েন্স’ নামে একটি এনজিওর তরফে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, বিভিন্ন সমাজমাধ্যমে শিশুদের যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত কনটেন্ট নিষিদ্ধ করার নিয়ম থাকলেও বাস্তবে তা পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। তাই নাবালকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কড়া ব্যবস্থা চাওয়া হয়েছে।
আবেদনকারীদের আরও দাবি, ১৮ বছরের কম বয়সিদের কোনও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে অভিভাবক বা আইনসম্মত অভিভাবকের সম্মতি বাধ্যতামূলক করা হোক। একই সঙ্গে অভিভাবকের পরিচয় যাচাই বা ই-কেওয়াইসি ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।
এনজিওটির যুক্তি, অবাধে সোশাল মিডিয়া ব্যবহারের ফলে শিশুদের অনলাইন গ্রুমিং, যৌন শোষণ, পাচার, সাইবারবুলিং এবং ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের মতো ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এই বিষয়গুলিই আদালতের সামনে তুলে ধরেন তাদের আইনজীবী এইচ এস ফুলকা।
এরই মধ্যে কর্নাটক সরকার ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত নাবালকদের সোশাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে অনূর্ধ্ব ১৬-দের সমাজমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধের প্রসঙ্গও উঠেছে। ফলে ভারতের ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে এমন কোনও নীতির দিকে এগোনো হবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।







