শুভেন্দুর উপর থেকে ভরসা কমছে বিজেপি নেতৃত্বের, বহু হাঁক-ডাকের পরেও নির্বাচনী সাফল্য যাকে বলে, তা এনে দিতে পারেননি শুভেন্দু অধিকারী। ওনাকে ছাড়াই যেটুকু এগিয়েছিল বঙ্গ বিজেপি, আজ সেই সাফল্যও ধরে রাখা যাচ্ছে না, আর বিজেপির বেশ কিছু নেতার মতে দলের মধ্যে এক নব্য তৃণমূলি সংস্কৃতির অনুপ্রবেশের ফলেই সেই সাফল্য অর্জন করা যাচ্ছে না। শুভেন্দুর সঙ্গে আসা বা শুভেন্দুর আনা তৃণমূলের বা বামেদের নেতা কর্মীরা চলো নিজ পথে, এরকম এক শুভেন্দুর অনুগামী হয়ে উঠেছে। কিন্তু সামনে নির্বাচন, ঝপ করে শুভেন্দু অধিকারীকে কেটে দেওয়াও তো যায় না, তাই তাঁর কিছু অনুগামীকে সমঝানো হচ্ছে, ওনার ডানা ছাঁটার পর্ব চলছে, ফলাফল যদি পক্ষে না আসে তাহলে ডাডার অনুগামী সমেত সবটাই কাটা পড়বে, এটাও নিশ্চিত। এবং সেই প্রেক্ষিতে আদি বিজেপিদের আরেকবার তুলে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি নেতৃত্ব। শুভেন্দুর প্রবল চাপে দিলীপ ঘোষকে সরিয়েই রাখা হয়েছিল, কিন্তু শনিবারের বৈঠকে তাঁকে ডেকে আবার আগের মতো দায়িত্ব নিয়ে মাঠে নামানোর কথা বলা হয়েছে। দিলীপ ঘোষ সেই সুযোগ ছাড়বেন বলেও মনে হয় না। তিনি এখনও পর্যন্ত খুব পজিটিভ সিগন্যাল কি দিয়েছেন? না, দেননি। সম্ভবত তিনিও এক দর কষাকষির মধ্যেই আছেন, তিনিও চান হাতে ক্ষমতা নিয়েই মাঠে নামতে। সেটাই বিষয় আজকে, দিলীপের উত্থান, শুভেন্দুর পতন?
হ্যাঁ, দিলীপ ঘোষ সম্ভবত এক দর কষাকষি সেরেই মাঠে নামতে চান। খেয়াল করুন তিনি বৈঠক থেকে বেরিয়ে প্রথম যে কথাটা বলেছেন তা হল, “আমাকে শোনার জন্য ডাকা হয়েছিল”, অর্থাৎ আলোচনার জন্য নয়, ওনাকে কিছু বলা হয়েছে। সেটা উনি মানবেন কী না, মানলে কোন শর্তে মানবেন – সেসব কথা এখনও হয়নি। আর গতকাল তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, ওনাকে খড়্গপুর থেকে তুলে নেওয়ার ফল তো ভালো হয়নি, মানে সেই কাঠিবাজির ঘা এখনও শুকোয়নি। ওদিকে শুভেন্দু অনুগামী কী না জানি না, কিন্তু বেশ কিছু বিজেপি কর্মী ‘দিলীপ ঘোষ গো ব্যাক’ বলে কালো ঝান্ডা দেখিয়েছিল দিলীপ ঘোষকে, সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, “কিছু লোক বাইরে থেকে ঢুকে পড়েছে। কখন কাকে কালো পতাকা দেখাতে হবে, ভুলে যায়!” দিলীপের ব্যাখ্যা, “তৃণমূলের লোকেরা আমাকে চিরদিন কালো পতাকা দেখাত। সেখান থেকে কিছু লোক ঢুকে পড়েছে। অভ্যাসটা রয়ে গিয়েছে। দিলীপ ঘোষের কাছে এটা কোনও সমস্যা নয়।“ সমঝদারোঁ কে লিয়ে ইশারা হি কাফি হ্যায়!
আরও পড়ুন: Aajke | দিল্লির নির্দেশে ইচ্ছেমতো নাম বাদ দিচ্ছে AI, আপনিও কিন্তু বাদ পড়তে পারেন!
ওদিকে অমিত শাহ এক্কেবারে সোজাসুজিই জানিয়ে গিয়েছেন, কোনওরকম দলাদলি চলবে না, এবং বঙ্গ বিজেপির এক শীর্ষনেতার কথায়, “অমিত শাহের নেটওয়ার্ক খুবই শক্তিশালী। এ রাজ্যে একটা পাতা পড়লেও নাকি তিনি জানতে পারেন। বেশ কয়েকটা বেসরকারি ভোটকুশলী সংস্থা বাংলায় কাজ করছে। তারা নিয়মিত রিপোর্ট পাঠায় শাহের দফতরে।” সব মিলিয়ে, উপর তলার এই হুমকি সাফ জানিয়ে দিচ্ছে যে, শুভেন্দু এখন কড়া রাডারের তলায়, দিলীপ ঘোষকেও এক্কেবারে খোলা ষাঁড়ের মতো ঘুরতে দেওয়া হবে না, কিন্তু তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। যদিও দিলীপ ঘোষ খুব কেতাবী পদ্ধতিতে কাজ করায় অভ্যস্থ নন। আর এই যুযুধান দুই রথীর ক্রমাগত সংঘাতের মধ্যে পড়ে গিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি আদি বিজেপিরই একজন, কিন্তু দিলীপ ঘোষের মেঠো রাজনীতি তাঁর পছন্দের বিষয় নয়, ‘বুদ্ধিজীবীদের কড়কে দেব’, ‘গরুর দুধে সোনা’ ইত্যাদি এপিসোডগুলোতে তিনি নীরব থেকেই তাঁর মতামত জানিয়েছিলেন। ওদিকে নব্য বিজেপির বা বিজেপিতে তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের রাজনীতিও তাঁর না-পসন্দ, কিন্তু সর্বত্র তাঁদের বাড়-বাড়ন্ত দেখেই তিনি সম্ভবত খুব বড় কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবতে পারছেন না। আর এই সবের মধ্যে এখনও ঝুলে রয়েছে নতুন সভাপতির টিমের ঘোষণা। অনেকে বলছে নতুন টিমের ঘোষণা নাকি হবেই না, কারণ সে নতুন টিমের ঘোষণা হলে জেলায় জেলায় ‘মূষল পর্ব’ শুরু হয়ে যাবে। আমরা আমাদের দর্শকদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, বিজেপিতে শুভেন্দু-দিলীপ ঝগড়া কি বিজেপি-র নির্বাচনী লড়াইকে পিছিয়ে দিচ্ছে, সুবিধে পাচ্ছে তৃণমূল দল?
মাত্র ক’দিন পরে নির্বাচন, গত ২০২১-এর নির্বাচনে বিজেপির টার্গেট ছিল ২০০ এবারে টার্গেট দুই-তৃতীয়াংশ, মানে ১৯৮, গতবারের চেয়ে দু’টো কম। টার্গেট বাড়ে, কিন্তু আমিত শাহের ঘোষণাতে টার্গেট কমে গেল। সে যাই হোক, ৭৭-এর চেয়ে বেশি তো পেতে হবে! কিন্তু সেই কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের আগে দলের মধ্যের ‘চার ঘোড়া চার মুখো’, বা বলা ভালো ‘তিন ঘোড়া তিন মুখো’, আর সারথী সভাপতি তিন ঘোড়াকে এক জায়গায় নিয়ে আসার প্রাণপণ চেষ্টা চালালেও, কোনও লাভ হচ্ছে না। এর মধ্যে দু’জন মেদিনীপুরেরই কী না!
দেখুন আরও খবর:








