Tuesday, March 24, 2026
HomeScrollAajke | না, শুভেন্দু অধিকারী হচ্ছেন না বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মুখ
Aajke

Aajke | না, শুভেন্দু অধিকারী হচ্ছেন না বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মুখ

শুভেন্দু কি মমতার বিকল্প মুখ হতে পারতেন?

Written By
অনিকেত চট্টোপাধ্যায়

‘আমও গিয়েছে, ছালাও গিয়েছে’- এই প্রবাদ বাক্য পড়ানোর সময়ে, বোঝানোর সময়ে আর কিছুদিন পর থেকে মাস্টারমশাইয়েরা অনায়াসে শুভেন্দু অধিকারীর নাম আর অবস্থার উদাহরণ দিতেই পারেন। ভাবা যায়, একলা নয় গুষ্টিশুদ্ধু নানান খেতাব আর পোস্ট, সঙ্গে সরকার থাকলে দুর্নীতির খোলা ছুট, উনি একলাই দু’টো না তিনটে মন্ত্রী, বাবা সাংসদ, ভাই সাংসদ, আরেক ভাই মিউনিসিপালিটির চেয়ারম্যান, দিদির দৌলতে আলিবাবা চল্লিশ চোরের খাজানা হাতে। কিন্তু ওই যে জীবনানন্দ বলেছিলেন, কেন জানা নেই, এক গোছা দড়ি হাতে কেউ কেউ চলে যায় ঝুলে পড়তে, মাথার মধ্যে বোধ না কী একটা পোকা কামড়ায়, তাই ওসব হয়। তো, শিশিরবাবুর মেজ ছেলে প্রথমে সম্ভবত ভয় পেলেন, জেল খাটার ভয়, আর তারপরেই এ রাজ্যে এক নম্বরের প্রস্তাব, এক্কেবারে মুখ্যমন্ত্রী হব সেই কড়ারেই দল ছেড়েছিলেন, দুষ্টু লোকজনে তো তাই বলে। ওনার হিসেব ছিল ২০১৯-এ ১৮টা আসন, কেবল সাত দিয়ে গুণ করলেই তো ১২৬টা আসন, তারপরে তো অনেক সাহা-ঘোষ-বসু-বিশ্বাসেরা আছেন, তাঁদের সঙ্গে কথাবার্তাও হয়েই ছিল, সিগন্যাল পেলেই তাঁরা দেওয়াল টপকাতেন, সেই সল্টলেকের হোটেলে বসেই কথা হয়েছিল। কিন্তু ১২৬ তো দুরস্থান ৭৭-এই ঘোড়া দম তোড় দিয়া, অশ্বমেধের ঘোড়ার অকাল মৃত্যু। আর সেই থেকে পঞ্চায়েত, মিউনিসিপালিটি, লোকসভা – সবখানে ক্রমশ নামতে থাকা এক দলকে বিজেপি জানে কীভাবে খাড়া করতে হয়, অন্তত খাড়া করার আগে দান তো ছাড়বে না বিজেপি, কিন্তু সেই পদ্ধতিতে আগের হেরো সেনাপতিরা আর সামনের মুখ হয়ে উঠবেন না। হ্যাঁ, শোনা গেল, প্রচুর চেষ্টাচরিত্রীর পরেও মেজখোকার নাম কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মুখের জন্য ঘোষনা হচ্ছে না। সেটাই বিষয় আজকে, না, শুভেন্দু অধিকারী হচ্ছেন না বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মুখ।

বিজেপি কি প্রধানমন্ত্রী মুখ বা মুখ্যমন্ত্রী মুখের ঘোষণা ছাড়াই নির্বাচনে নামে? হ্যাঁ এবং না। অটল বিহারী বাজপেয়িকে প্রধানমন্ত্রী মুখ হিসেবে ঘোষণা করে নির্বাচনে লড়েছিল বিজেপি, নরেন্দ্র মোদিকেও তাই, কিন্তু তার আগে ৯১ বা ৯৬-এ, এমনকি ১৯৯৮-এও প্রধানমন্ত্রী মুখ ছিল না। ২০১৪-র পরে অবশ্য অন্য কোনও বিকল্প বিজেপি চিন্তাও করেনি, নরেন্দ্র মোদিই ছিলেন ১৯ বা ২৪-এর মুখ। কিন্তু বহু রাজ্যেই বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী মুখ ছাড়াই লড়েছে, আবার বহু রাজ্যে সেরকম হয়নি। অসমে মুখ হিসেবেই ঘোষিত ছিলেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা, এবারেও তিনিই ঘোষিত মুখ, প্রথমবারে যোগিজি ঘোষিত মুখ ছিলেন না, কিন্তু দ্বিতীয়বারে তিনিই ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর মুখ, ইন ফ্যাক্ট তিনিই একজন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মুখ, যিনি দ্বিতীয়বার জয়ের পরে মোদি-শাহকে ছাড়াই সেলিব্রেশন করেছিলেন সেবারের বিরাট জয়কে। হ্যাঁ, লক্ষ্ণৌতে সেই অনুষ্ঠানে মোদি-শাহ কেউ ছিল না, তখনও এমএলএ দলের বৈঠকও হয়নি, কিন্তু বিজয় উৎসব হয়েছিল। কর্নাটকে পরের নির্বাচনে ইয়েদুরিয়াপ্পাকে মুখ্যমন্ত্রী মুখ হিসেবে ঘোষণা করেই নেমেছিল বিজেপি, লাভ হয়নি আবার মধ্যপ্রদেশে মামাজি, শিবরাজ সিং চৌহানের নাম ঘোষণা না করেই নির্বাচনে নামার সাহস দেখিয়েছিল বিজেপি। কাজেই বাংলাতে কেন মুখ্যমন্ত্রী মুখের ঘোষণা না করেই বিজেপি ভোটে নামছে, এটা বিষয় নয়। কিন্তু যেটা বোঝার সেটা হল, শুভেন্দু বাবু কী চাইছিলেন?

আরও পড়ুন: Aajke | শুভেন্দুবাবু, নন্দীগ্রামে তো বিসর্জনের বাজনা বাজছে

এটা ঘটনা যে কিছুদিন ধরেই উছৃষ্টভোগীকিছু সাংবাদিকদের দিয়ে, খেয়াল করবেন বারবার একটা প্রশ্ন তোলার চেষ্টা চলছিল, এ রাজ্যে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী মুখ কে? একজন মুখ্যমন্ত্রী মুখকে সামনে নিয়ে নামলেই নাকি বিজেপির অনেক বেশি সুবিধে হবে। আর সেই সব আলোচনাতে একটা হিন্টসও দেওয়া হচ্ছিল যে, সেই লড়াইয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছেন আমাদের মেজখোকাবাবু। এবং এটাও বাজারে ঘুরছে যে, উনি নাকি কিছু ওনার লয়াল এমপি-দের বলেছেন এ নিয়ে সরব হতে। হ্যাঁ, কদিনের মধ্যেই তেমন দাবি তুলতেই পারেন বিচারক গাঙ্গুলি, অবাক হবেন না। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মুখ তো দুরস্থান, প্রধান মুখ হিসেবেও শুভেন্দু অধিকারীকে রাখতে রাজি নয় দিল্লি বিজেপি। ওনাদের বক্তব্য, শুভেন্দু যেভাবে নব্য বিজেপিদের প্রতিনিধি হয়ে উঠেছেন তাতে ওনাকে প্রধান মুখ করার মানেই হল দলের মধ্যে কোন্দলকে আরও বাড়িয়ে তোলা। তা ছাড়া এমনকি বর্তমান বিধায়কদের এক অংশ ভয়ঙ্করভাবে শুভেন্দু বিরোধী, বেশ কিছু জেলা যেমন – পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদ, মালদা ইত্যাদি জায়গাতেও শুভেন্দুকে নিয়ে প্রশ্ন আছে। সব মিলিয়ে, দিল্লি বিজেপি নাকি এবারে বরং অনেক বেশি বাঙালি ভদ্রলোক মুখ শমীক ভট্টাচার্যকেই প্রধান মুখ হিসেবে সামনে রাখতে চায়। সেরকমভাবেই জেলা সফর ইত্যাদি সাজানো হচ্ছে। আমরা আমাদের দর্শকদের জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, শুভেন্দুকে করা হচ্ছে না বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী মুখ, উনি কি হতে পারতেন মমতার বিকল্প মুখ?

এটা ঘটনা যে, এই মুহূর্তে বাংলাতে তৃণমূলের মুখোমুখি লড়াই করার জন্য একটা মুখের প্রয়োজন আছে বিজেপির, সেই মুখ হতেই পারতেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু সমস্যা হল, যেদিন থেকে তিনি বিজেপিতে এসেছেন সেদিন থেকেই এক আদি বিজেপি-নব্য বিজেপি লড়াই শুরু হয়েছে। আজ সেই লড়াই এতটাই তীব্র, এতটাই ছড়িয়ে পড়েছে যে, সত্যিই আপাতত বঙ্গ বিজেপির কাছে একমাত্র মুখ এই শুভেন্দু অধিকারীকে সামনে রাখলে দলের অর্ধেক কর্মকর্তা, সমর্থক বসে যাবেন। কাজেই দিল্লি বিজেপি সেই রিস্ক নিতে চান না। হ্যাঁ, তাতে করে শুভেন্দু শিবির খানিক দম হারাবে, এটা জেনেও দিল্লি বিজেপির কিছু করার নেই।

দেখুন আরও খবর:

Read More

Latest News

evos gaming

https://www.annabelle-candy.com/about/ JUARA88 situs slot gacor situs slot gacor joker toto slot maxwin slot maxwin situs bola WATITOTO LGO188 DEPOBOS https://www.demeral.com/it/podcast xgo88 WDBOS SLOT GACOR toto togel slot toto togel slot poker slot gacor idn poker 88 slot gacor mix parlay idn slot https://www.annabelle-candy.com/about/ https://www.demeral.com/it/demeral_software/ nobu99 toto slot