কলকাতা: বাংলা ও কান্নাড মিউজিক ভিডিওর ধারায় এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল ঈশান মজুমদারের (Ishaan Majumder) সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত অ্যাকশন মিউজিক ভিডিও ‘একবার এসো’ (Ekbaar Esho)। একই সঙ্গে দুই ভাষায় নির্মিত এই প্রজেক্টটি ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে তার অভিনব ভাবনা ও সিনেম্যাটিক উপস্থাপনার জন্য। এই প্রথম বাংলা ও কান্নাড ভাষায় একটি সম্পূর্ণ অ্যাকশনভিত্তিক মিউজিক ভিডিওতে গানকে কেন্দ্র করেই একটি পূর্ণাঙ্গ গল্প বলা হয়েছে।
‘একবার এসো’-র গল্পে প্রেম, প্রতিশোধ ও উত্তেজনাপূর্ণ অ্যাকশনের মেলবন্ধন দর্শকদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখে। এখানে গান কেবল আবেগ প্রকাশের মাধ্যম নয়, বরং কাহিনি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মূল শক্তি। দৃশ্য থেকে দৃশ্যে সংঘর্ষ, নাটকীয় মোড় এবং ক্লাইম্যাক্স ঠিক যেন একটি পূর্ণদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্রের অভিজ্ঞতা এনে দেয়। ভিএফএক্স, আধুনিক ভিজুয়াল ট্রিটমেন্ট এবং সুচারু স্টান্ট কোরিওগ্রাফি মিউজিক ভিডিওটিকে দিয়েছে এক আলাদা মাত্রা।
আরও পড়ুন: পুজোয় বক্স অফিসে ‘বহুরূপী’, সঙ্গে যিশু-শিবপ্রসাদ
এই মিউজিক ভিডিওর সঙ্গীত পরিচালনায় রয়েছেন এস. গোপাল ময়রা ও অভিষেক নাড়ু। বাংলা সংস্করণের গান লিখেছেন এস. গোপাল ময়রা এবং কান্নাড সংস্করণের গীতিকার শিল্পা নাগোজি। আবেগী কথা ও শক্তিশালী সুরের সঙ্গে অ্যাকশনভিত্তিক ভিজ্যুয়াল মিলিয়ে ‘একবার এসো’ হয়ে উঠেছে এক সম্পূর্ণ সিনেম্যাটিক অভিজ্ঞতা। উল্লেখযোগ্যভাবে, ঈশান মজুমদার নিজেই বাংলা ও কান্নাড—দু’টি ভাষায় গান গেয়েছেন, যা এই প্রজেক্টের গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।
ঈশান মজুমদারের কেরিয়ারপথ এক অনন্য যাত্রার গল্প। ২০১৬ সাল থেকে বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর পথচলা শুরু হলেও, তার আগে দীর্ঘ ১৫ বছর তিনি কর্পোরেট জগতে কাজ করেছেন। সেই স্থিতিশীল জীবন ছেড়ে সৃজনশীলতার পথে হাঁটার সিদ্ধান্তই আজ তাঁকে একজন স্বতন্ত্র পরিচয়ের শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলেছে।
দক্ষিণী সংগীত জগতেও ঈশানের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। বেঙ্গালুরুতে স্নাতকোত্তর পড়াশোনার সময় থেকেই তিনি কান্নাড সংগীতে পেশাদারভাবে যুক্ত হন এবং একাধিক রিয়েলিটি শো জিতে নিজের প্রতিভার স্বীকৃতি পান। কিংবদন্তি কিশোর কুমারের গাওয়া একমাত্র দক্ষিণী ভাষার গান—কান্নাড গানটি গাওয়ার সুযোগ পাওয়াও তাঁর সংগীতজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
সব মিলিয়ে, ‘একবার এসো’ প্রমাণ করে দিল যে মিউজিক ভিডিও শুধুমাত্র গানভিত্তিক বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং শক্তিশালী গল্প বলার একটি নতুন ভাষা। বাংলা ও কান্নাড—দু’টি ইন্ডাস্ট্রিতেই এই প্রজেক্ট একটি নতুন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।







