কলকাত: রহস্যের উদ্ঘাটনে এ বার দিদা-নাতনির জুটি। ষাটের কোঠায় বয়স, শ্রাবন্তী এবার ঠাকুমার চরিত্রে! রহস্য সমাধানে সঙ্গী ছোটপর্দার নায়িকা! দেখে নেব বিস্তারিত টলিউডের প্রথম সারির নায়িকাকে এবার দেখা যাবে ঠাকুমার চরিত্রে! শুধু তাই নয়, ‘ঠাকুমার ঝুলি'(Thakumar Jhuli) নামটা শুনলেই আমাদের মনে পড়ে ছোটবেলার রূপকথার গল্প। কিন্তু এই ঝুলিতে রূপকথা নয়, লুকিয়ে আছে রহস্য। আর সেই নামভূমিকায় দেখা যাবে শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়কে (Srabanti Chatterjee)।
অয়ন চক্রবর্তী পরিচালিত এই ওয়েব সিরিজ মুক্তি পাবে মার্চ মাসে। গোয়েন্দা গল্পের ধারার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই সিরিজে শ্রাবন্তী উদঘাটন করবেন এক নতুন রহস্যের।বাংলা গোয়েন্দা গল্পের দীর্ঘ ঐতিহ্যের সঙ্গে তাল মিলিয়েই তৈরি হয়েছে এই কাহিনি, তবে নির্মাতাদের দাবি—চেনা ছক ভেঙে নতুন প্রজন্মের কাছে ভিন্ন স্বাদ নিয়ে হাজির হবে এই গল্প। এই সিরিজের হাত ধরেই ওয়েবের দুনিয়ায় পা রাখছেন অভিনেত্রী দিব্যাণী মণ্ডল (Divyani Mondal)। প্রকাশ্যে এসেছে এই ওয়েব সিরিজে শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের লুক।গল্পে তাঁর বয়স ষাটের কোঠায়, নাম গিরিজাবালা সান্যাল।
আরও পড়ুন: রণবীর ‘অল ইন্ডিয়া রেডিও’, কেন এমন বললেন অভিনেত্রী
প্রথম ঝলকেই ধরা পড়েছে এক অন্যরকম শ্রাবন্তী। মাথাভর্তি পাকা চুল, চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা, শান্ত, ধীর স্থির, সংযত কিন্তু ক্ষুরধার বুদ্ধিসম্পন্ন গিরিজাবালা জীবনে ভীষণ গুরুত্ব দেন নিয়মানুবর্তিতাকে। তাঁর জীবনে বারে বারেই প্রতিকূলতা এসেছে। গিরিজাবালার একাকিত্বের সঙ্গী তাঁর তিন পোষ্য বিড়াল— হরি, বেলা ও ফন্টে। বলাই বাহুল্য তাদের উপস্থিতি সিরিজ়ের গল্পে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ও ইঙ্গিতবহ। গিরিজাবালার জীবনে প্রতিকূলতা এসেছে একের পর এক। অল্প বয়সে স্বামীকে হারিয়েছেন। পরে অকালে চলে গিয়েছে একমাত্র পুত্রও। এই দুই আঘাত তাঁকে ভেঙে দেয়নি, বরং আরও নিঃশব্দ, আরও কঠিন করে তুলেছে। গল্প গতি পায় যখন গিরিজাবালার নাতনি যাজ্ঞসেনী দেশে ফেরে।
সে ‘ক্রিমিনাল সাইকোলজি’র ছাত্রী এবং সান্যাল পরিবারের কনিষ্ঠতম সদস্য। বন্ধু আম্রপালী সিংহ রায়ের বিয়েতে যোগ দিতেই ফেরে সে। কিন্তু বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালীনই আম্রপালীর আকস্মিক মৃত্যু থেকেই রহস্যের জাল বিস্তৃত হতে শুরু করে। যাজ্ঞসেনীর চরিত্রে দেখা যাবে দিব্যাণীকে। পরিবারের তরফে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলা হলেও, প্রথম থেকেই সন্দেহ জাগে গিরিজাবালার মনে। তাঁর অভিজ্ঞ চোখে ধরা পড়ে অস্বাভাবিকতা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ঘটনাটা যত সহজ দেখাচ্ছে, ততটা নয়।সত্য উদ্ঘাটন না হওয়া পর্যন্ত সে বিদেশে ফিরবে না। বহু বছর পর নাতনির বন্ধুর মৃত্যুর তদন্তে আবার সক্রিয় হন গিরিজাবালা দেবী।এভাবেই শুরু হয় ঠাকুমা ও নাতনির যুগল অনুসন্ধান। রাজনৈতিক প্রভাব, সামাজিক আবরণ আর ব্যক্তিগত গোপন অন্ধকারের ভেতর দিয়ে তাঁরা এগোতে থাকেন সত্যের খোঁজে।শ্রাবন্তীর এই রূপ দর্শকদের চমকে দিয়েছে। গ্ল্যামারের বাইরে এমন সংযত, বয়সী চরিত্রে তাঁকে আগে দেখা যায়নি। অন্যদিকে দিব্যাণীর সঙ্গে তাঁর মুখের মিল নিয়েও চলছে আলোচনা।







