ওয়েবডেস্ক- ভেনিজুয়েলা (Venezuela) এর পর ইরান (Iran) তার পর আরও এক দেশকে নিশানা আমেরিকার (America) । অভিযোগ মাদকসন্ত্রাস ও জঙ্গিদমন। আরও এক সামরিক অভিযান (Military Campaign) শুরু করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার রাতে পেন্টাগনের (Pentagon) তরফে এই অভিযানের কথা জানানো হয়েছে। জানা গেছে, দক্ষিণ আমেরিকার (South America) আরও এক দেশে ইকুয়েডরের (Ecuador) বিরুদ্ধে এবার সামরিক অভিযানে নামল মার্কিন সেনা।
ইকুয়েডরের সেনার সঙ্গে যৌথ ভাবেই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সাদার্ন কমান্ড তাদের এক্স হ্যান্ডলে জানিয়েছে, ইকুয়েডরে জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাদকসন্ত্রাস বন্ধ করতেই তাদের এই অভিযান। এই অঞ্চলে জঙ্গিদের শেষ করার কাজ শুরু হয়েছে। কয়েক দশক ধরেই ক্যারিবীয় অঞ্চল মাদকসন্ত্রাসের একটা মূল ঘাঁটি হয়ে উঠেছে। মাদকপাচারকারী নৌকাগুলিকে নিশানা করেছে আমেরিকা। আমেরিকা জানিয়েছে, ক্যারিবীয় অঞ্চলে তাদের বন্ধু রাষ্ট্রগুলিকে সঙ্গে নিয়ে একযোগে মাদকসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখবে তারা।
এই অভিযানটি বৃহত্তর মার্কিন উদ্যোগ ‘অপারেশন সাউদার্ন স্পিয়ার‘ (Operation Southern Spear)-এর অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, এর লক্ষ্য হচ্ছে লাতিন আমেরিকায় মাদক পাচার ও সংঘাত নিয়ন্ত্রণ করা। গত কয়েকবছরে ইকুয়েডর মাদক সংক্রান্ত সংহিসতার কারণে ব্যাপকভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। লোস লোবোস (Los Lobos) এবং লোস চোনেরোস (Los Choneros)-এর মতো গোষ্ঠীগুলোকে আমেরিকা ইতিমধ্যেই জঙ্গি সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
মার্কিন প্রশাসনের এক সূত্রের দাবি, ইকুয়েডরের ভিতরে মাদকসন্ত্রাস এবং জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সে দেশের সেনাকে সব রকম ভাবে সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত তারা। ইকুয়েডরের সেনাকে তারা এই অভিযানে রণকৌশল, গোয়েন্দা এবং নানা রকম অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করবে। মার্কিন সেনার সাদার্ন কমান্ডার জেনারেল ফ্রান্সিস এল ডোনোভান জানিয়েছেন, ইকুয়েডর সেনা নিরন্তর মাদকসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এ বার তাদের নানা ভাবে সহযোগিতা করবে আমেরিকা। মঙ্গলবার রাত থেকে যে সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে, সেই অভিযানে সিংহ ভাগই ইকুয়েডরের সেনা।
আরও পড়ুন- ‘জবাব কিভাবে দিতে হয় এবার দেখাব’, তৃতীয়বার সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
উল্লেখ্য, বিশ্বে মাদকপাচারী দেশগুলির মধ্যে শীর্ষে ইকুয়েডর। এখানে মাদক তৈরি হয় না ঠিকই। ইকুয়েডর নিজে কোকেন উৎপাদন করে না। তবে বিশ্বের বৃহত্তম দুই কোকেন উৎপাদনকারী দেশ, কলম্বিয়া এবং পেরু-র মাঝখানে এর অবস্থান হওয়ায় এটি পাচারকারীদের জন্য স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে। ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়ার মতে, বিশ্বের মোট কোকেনের একটি বিশাল অংশ (প্রায় ৭০ শতাংশ)পর্যন্ত দাবি করা হয়) এখন ইকুয়েডরের বন্দরগুলো দিয়ে পাচার হচ্ছে।







