ওয়েব ডেস্ক : ফের ভয় ধরাচ্ছে ইবোলা (Ebola)। আফ্রিকার ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় (Congo) চলতি বছরের প্রাদুর্ভাব ইতিমধ্যেই ভয়াবহ আকার নিয়েছে। ১৩ অগস্টের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ প্রদেশ পেরিয়ে সংক্রমণ এবার ষষ্ঠ প্রদেশেও পৌঁছেছে। আক্রান্তের সংখ্যা ৪৫০০ ছাড়িয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা ২১০০-রও বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই পরিস্থিতির দ্রুত বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এই প্রাদুর্ভাবের নেপথ্যে রয়েছে ইবোলার বিরল ‘বুন্দিবুগিয়ো’ প্রজাতি। গত ১৫ মে কঙ্গোয় আনুষ্ঠানিকভাবে সংক্রমণের কথা ঘোষণা করা হয়। তার দু’দিনের মধ্যেই WHO পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্তই কঙ্গোয় ২১২৪টি নিশ্চিত সংক্রমণ এবং ৮২৮ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল WHO। এরপর সংক্রমণ আরও দ্রুত ছড়িয়েছে।
আরও খবর : বিদ্যুৎ সংকটে নাজেহাল বাংলাদেশ, রাত ৮টার পর বন্ধ দোকান-বাজার! সাহায্যের জন্য ভারতের দ্বারস্থ ঢাকা
সবচেয়ে বড় সমস্যা হল এই নির্দিষ্ট স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে এখনও কোনও অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। WHO জানিয়েছে, বুন্দিবুগিয়ো ভাইরাসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে দ্রুত শনাক্তকরণ, আইসোলেশন, নজরদারি এবং সহায়ক চিকিৎসাই আপাতত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুহার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে ছিল। কঙ্গোর সংঘাতপ্রবণ এলাকা, দুর্বল স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, চিকিৎসাকর্মীদের ঘাটতি এবং মানুষের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠিন করে তুলছে।
ইবোলার (Ebola) লক্ষণও তাই ফের সামনে এসেছে। সাধারণত ভাইরাস শরীরে প্রবেশের ২ থেকে ২১ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিতে পারে। হঠাৎ জ্বর, প্রচণ্ড দুর্বলতা, মাথা ও পেশিতে ব্যথা এবং গলা ব্যথা দিয়ে শুরু হয়ে পরে বমি, ডায়রিয়া, ত্বকে র্যাশ এবং গুরুতর ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সরাসরি শরীরের তরল বা দূষিত সামগ্রীর সংস্পর্শে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় নজরদারি, পরীক্ষা, সংক্রমিতদের শনাক্তকরণ এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রস্তুতি আরও জোরদার করছে WHO ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলি। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ইবোলা ভাইরাসের গড় মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ।







