কলকাতা: কেন্দ্রীয় বাজেট সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে কেন্দ্রীয় পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব (Union Minister Bhupendra Yadav) সাংবাদিক সম্মেলন করছেন। বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনে ভূপেন্দ্র যাদব বলেন, কেন্দ্র বাজেট নিয়ে মিথ্যাচার করেছে তৃণমূল। তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বলেন, ভূপেন্দ্র যাদব আবাস থেকে মিড ডে মিল, সর্বত্রই দুর্নীতি। তৃণমূলের আমলে বাংলা অত্যাচারিত। ভূপেন্দ্র যাদব বলেন, ২০২৬ এর শুরুতে ভারত জাপানকে পিছনে ছড়িয়ে পৃথিবীর চতুর্থ জিডিপির দেশ। এই বাজেটেও এটা স্পষ্ট ২০২৫-২৬ এ ভারতের জিডিপি ৭.৪% রাজ্যে তে ইনভেস্টমেন্ট, ইন্ডাস্ট্রি ও রোজকার তৈরি করা। যার সাহায্যে রোজকার বৃদ্ধি পায়।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বার বার অভিযোগ করেন রাজ্যের প্রাপ্য দু’লক্ষ কোটি টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্র এবং বিজেপির তরফ থেকে বার বার পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলা হয়েছে, কেন্দ্রের পাঠানো টাকার হিসাব দেয় না রাজ্য সরকার। তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এ বার সে পথে হাঁটলেন না। বুধবার কলকাতায় কেন্দ্রীয় বাজেট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে ভূপেন্দ্র পাল্টা অভিযোগ তুললেন মমতার বিরুদ্ধে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কটাক্ষ, যিনি টাকা বকেয়া রাখার অভিযোগ তুলছেন, তিনিই বছরের পর বছর নিজের সরকারের কর্মীদের ন্যায্য প্রাপ্য বকেয়া রেখে দিয়েছেন!
আরও পড়ুন: সাংবাদিক সম্মেলন থেকে মমতাকে একাধিক বিষয়ে আক্রমণ শুভেন্দু’র
বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে তিনি পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকও। ভোট প্রস্তুতি তদারকি করতে গত পাঁচ মাস ধরে তিনি বার বার পশ্চিমবঙ্গে যাতায়াত করছেন।বুধবার ভূপেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে তথা মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করেন। মুখ্যমন্ত্রী যে বকেয়া অর্থের যে হিসাব দিচ্ছেন, সে প্রসঙ্গেও কোনও মন্তব্য করতে চাননি। বরং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেই তিনি পাল্টা অভিযোগ করেছেন রাজ্য সরকারি কর্মীদের প্রাপ্য আটকে রাখার। ডিএ মামলার উদাহরণ দিয়ে ভূপেন্দ্র বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী, যিনি নিজের রাজ্য সরকারের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা লড়ছেন!এমন মুখ্যমন্ত্রী এখনও পর্যন্ত কোথাও দেখেছেন? ভারতের সর্বত্র সপ্তম বেতন কমিশন চালু হয়ে গিয়েছে। আর এখানে ২০ লক্ষ কর্মচারী ষষ্ঠ বেতন কমিশনের জন্য লড়াই করছেন।’’
ভূপেন্দ্র যাদব বলেন, SIR এ যারা মারা গেছেন তারা sir এর জন্য মারা যাননি, তারা ডিএ এর জন্য মারা গেছে। ডিএ দিচ্ছেন না আপনি। আপনি কোনো যোজনা করতে দিচ্ছেন না। পশ্চিমবঙ্গের আর্মির প্রাক্তন আধিকারিককে পিটিশন ফাইল করতে হচ্ছে জাতিয় সুরক্ষা নিয়ে। বিএসএফ কে জায়গা দিচ্ছেন না। রেভিনিউ রিসিভ এ দেশে সর্বনিম্ন পশ্চিমবঙ্গ। পশ্চিমবঙ্গ পর ক্যাপিটা ইনকাম এ নিচে যাচ্ছে, পরিযায়ী কর্মী বাড়ছে, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ধ্বসে পড়ছে। শিক্ষা দুর্নীতি সব থেকে বড় এরাজ্যে। আনন্দপুর যেখানে আগুনে ২৭ জন মারা গেছে সেখানে শুভেন্দু অধিকারীর গেলেন কোর্ট অর্ডার নিয়ে। কিন্তু ১০০০ কিমি দূরে মুখ্যমন্ত্রী যেতে পারলেন অথচ ১৫ কিমি দূরে ঘটনাস্থলে যেতে পারলেন না। বাবরি মসজিদ তৈরি অবৈধ, ইল্লিগাল কাজ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজকালে এই ধরনের বহু অবৈধ কাজ হচ্ছে।‘প্রশাসনিক ব্যর্থতা, জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে আপস, এবং অস্বচ্ছতা’— এই তিন ‘বাণে’ মমতার সরকারকে বিঁধেছেন ভূপেন্দ্র। নিজের সরকারের কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করা এবং সে মামলায় হারা সবচেয়ে বড় ‘প্রশাসনিক ব্যর্থতা’র নমুনা বলে ভূপেন্দ্রের মত।







