নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টে শুরু হল আইপ্যাক (IPAC ED Case) কাণ্ডে ইডি মামলার শুনানি। রাজীব কুমার (Rajeev Kumar)-সহ উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের সাসপেন্স চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) মামলা দায়ের ইডির। কলকাতার পুলিশ কমিশনার ও ডিসি সাউথকেও সাসপেন্ড করার দাবি করল ইডি। দুর্ব্যবহার এবং অসহযোগিতার অভিযোগে রাজ্য পুলিশের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণের আর্জি জানানো হল ইডি-র তরফে । চলতি সপ্তাহে মামলার শুনানির সম্ভাবনা।
বৃহস্পতিবার আইপ্যাক তল্লাশি কাণ্ডে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তরফে সুপ্রিম কোর্টে নতুন করে আরও একটি আবেদন করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে ডিজিপি রাজীব কুমারকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হোক। শুধু ডিজিপি একা নন, আরও যে যে আধিকারিকরা আইপ্যাক তল্লাশির সময় উপস্থিত ছিলেন তাঁদের সাসপেন্ড করা হোক। অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী ডিসিপি সাউথ, সিপিকে সঙ্গে নিয়ে জোর করে বাড়িতে ঢোকেন। ইডির অভিযোগ, তদন্ত চলাকালীন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক গুরুতর অসদাচরণ করেছেন। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেননি। এই আচরণ তদন্তের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে দাবি করেছে ইডি।
আরও পড়ুন: NIA- এর নতুন ডিজি IPS রাকেশ আগরওয়াল
বিচারপতি মিশ্রা তখন প্রশ্ন করেন, ‘‘আপনি চান আমরা সাসপেনশন করি? ’’ সলিসিটার জেনারেল উত্তরে বলেন, ‘‘এর আগেও এরকম ঘটনা ঘটেছে। ওই সময় যে সমস্ত অফিসাররা উপস্থিত ছিলেন তাদের সাসপেনশন চাইছে। মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে পুলিশ অফিসাররা এসেছিলেন সিজ করা নথিগুলো নিতে ইডির অভিযোগ রাজীব কুমার শুধু তদন্তে বাধা দিয়েছেন এমনটা নয়, তাঁর বিরুদ্ধে এই ঘটনার নজির আগেও রয়েছে। এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ধরনায় বসেছিলেন সেই সময় কলকাতার পুলিশ কমিশনার ছিলেন রাজীব। তখনও তিনি একই ভাবে ধরনায় বসেছিলেন। যা একজন আইপিএস অফিসারের কাজের বিরোধী।ইডি আরও জানিয়েছে, শুধু ডিজিপি নন, রাজ্য পুলিশের কয়েকজন সিনিয়র অফিসারের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তৃণমূল পক্ষের আইনজীবী গোটা বিষয়টিতেই আপত্তি জানিয়েছেন৷ রাজ্যের আইনজীবী মনু সিংভী জানান, মুখ্যমন্ত্রী সেখানে গিয়েছিলেন তাই সঙ্গে পুলিশ অধিকারীরা গিয়েছিল। কারণ মুখ্যমন্ত্রী জেট প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পান।
আই-প্যাক দফতরে ইডির অভিযান ঘিরে মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ওঠে। শুনানির সময় বিচারপতি পি কে মিশ্র সরাসরি জানতে চান, ঠিক কী কারণে ইডি আই-প্যাকের দফতরে গিয়েছিল এবং সেখানে গিয়ে তারা কোন বিষয়ে তদন্ত করছিল। এর জবাবে ইডির পক্ষে সওয়াল করা সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, তদন্তে উঠে এসেছে যে অবৈধভাবে তোলা কয়লা একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছিল। সেই সূত্র ধরেই সংশ্লিষ্ট নথি ও তথ্য সংগ্রহের জন্য আই-প্যাক দফতরে অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।







