কলকাতা: অবশেষে সেই বিশেষ দিন। ঘরে ঘরে দুই বন্দনা—একদিকে সরস্বতী পুজোর (Saraswati Puja 2026) অঞ্জলি, অন্যদিকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি (Netaji Subhas Chandra Bose Birth Anniversary)। দুই ক্ষেত্রেই অপরিহার্য হলুদ গাঁদা ফুল। গাঁদা মালায় সাজানো হবে নেতাজির ছবি, আর সরস্বতী পুজোর অঞ্জলিতে কচিকাঁচাদের হাতে ভরে উঠবে সেই গাঁদাই। এর মধ্যেই রয়েছে বিয়ের লগন। সব মিলিয়ে ‘ত্রিফলায়’ শুক্রবার রাজ্যজুড়ে ফুলের বাজারে চড়া দামের ছবি। মূল্যবৃদ্ধির চাপে ফুল কিনতে গিয়ে রীতিমতো নাজেহাল সাধারণ ক্রেতারা।
রাজ্যের বৃহত্তম ফুলবাজার কলকাতার মল্লিকঘাটে বৃহস্পতিবার লাল গাঁদা ঝুরো বিক্রি হয়েছে কেজি প্রতি ৯০ টাকা, হলুদ গাঁদা ১০০ টাকা এবং চিনা গাঁদা ৮০ টাকা দরে। শুধু মল্লিকঘাট নয়, শহর ও জেলার প্রায় সব ছোট-বড় ফুলবাজারেই প্রায় একই দামে গাঁদা বিক্রি হয়েছে।
মালার দামেও চড়াভাব। তিন ফুট লম্বা কুড়ি পিস লাল গাঁদা ফুলের মালা বিক্রি হয়েছে ৪৫০ টাকায়, হলুদ গাঁদা ফুলের মালা ৫৫০ টাকা এবং চিনা গাঁদা ফুল ৭৫০ টাকা কেজি দরে। সাদা চেরি ফুল কেজি প্রতি বিক্রি হয়েছে ২৫০ টাকা দরে।
এখানেই শেষ নয়। বৃহস্পতিবার একটি চেরি ফুলের মালার দাম ছিল ১৫০ টাকা। গোলাপ ফুল প্রতি পিস ৪–৫ টাকা, রজনীগন্ধা কেজি প্রতি ৩০০ টাকা, দোপাটি ২০০ টাকা এবং অপরাজিতা ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে পদ্ম—প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং পলাশ কেজি প্রতি ২,৫০০ টাকা।
শুক্রবার সরস্বতী পুজো। সকাল থেকেই বাকদেবীর আরাধনা শুরু হবে। তার আগে স্থানীয় খুচরো বাজারে ফুল কিনতে গিয়ে পকেটে কিছুটা হলেও টান পড়বে বলেই আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের।
সারা বাংলা ফুলচাষী ও ফুলব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক জানান, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবছর ফুলের ফলন ভালো হয়েছে। তবে একসঙ্গে সরস্বতী পুজো, ২৩ জানুয়ারি নেতাজির জন্মদিন, ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস এবং ২৩–২৪ জানুয়ারি বিয়ের লগন থাকায় চাহিদা বেড়েছে। যদিও অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর দাম খুব বেশি চড়া নয় বলেই দাবি তাঁর।







