কলকাতা: নির্বাচন কমিশনকে (Election Commission) ‘তুঘলকি কমিশন’ বলে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা অভিযোগ করেন, এসআইআর (Bengal SIR) প্রক্রিয়ায় বিহারের ক্ষেত্রে এক নিয়ম, বাংলায় ক্ষেত্রে আলাদা কেন? বিহারে যে নথি যোগ্য, বাংলায় বাদ কেন? তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভোটপ্রক্রিয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। তবে প্রতিবেশী রাষ্ট্রে ভোট সুষ্ঠুভাবে হয়েছে। এদিকে ভারতে কমিশনের দৌলতে ভোট প্রক্রিয়া জটিল হচ্ছে। সেই কথাও এদিন জানিয়েছেন মমতা। কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করে নির্বাচন কমিশনকে ‘তুঘলকি কমিশন’ বলে বিঁধলেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে অমান্য করছে কমিশন। কমিশনের সঙ্গে বিজেপিকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, ওদের সাইকোলজিক্যাল সমস্যা আছে আমার মনে হয়। বিজেপি পার্টির অনেককে বলব গিয়ে মাথার চিকিৎসা করান। ব্রেনকে ড্রেন করবেন না।
মমতা বলেন, তুঘলকি কমিশনের একজন বিজেপি কন্যা এআই করে ভোটার বাতিল করে দিলেন ৫৮ লক্ষ ভোটারকে। অনেক আসল ভোটারআছে। দু’নম্বরি চলছে। কোন ভোটার অ্যাকসেপটেট হয়ে জানা গেল না। জোচ্চুরি করার কাজ চলছে। ১৪ তারিখে কেউ মারা গেলে ১৬ তারিখে এসে চিকিৎসক কী দেখবে ? জ্যান্ত মানুষ না চীতা? ওরা সুপ্রিম কোর্টের অর্ডারও মানেনি। ‘নির্বাচন কমিশন ক্যাপচার কমিশন’ বলে কটাক্ষ মমতার। মমতা বলেন, তৃণমূল সংবিধান মেনে চলে। ছাব্বিশের পর তো কেন্দ্রে এই সরকারও থাকবে না। এখন থেকে বলছি খোঁজ রাখুন। অনেক ঘটনা ঘটে গিয়েছে, আমরা মুখ খুলিনি। ভদ্রতা করেছি। পার্লামেন্ট চালাতে দিয়েছি।
আরও পড়ুন:তদন্তে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে একাধিক নির্দেশ দিল হাইকোর্ট
তৃণমূল নেত্রী বলেন, তৃণমূল গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। কিন্তু কেউ যদি মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে চায়। নির্বাচন প্রক্রিয়াকে নির্বাচনের আগেই শেষ করতে চায়। আমায আঘাত করলে, আমি প্রত্যাঘাত করব। আমি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড প্রচার করব। যদিও আমি নিজের দেশকে ভালবাসি।কমিশনকে বিঁধে মমতা আরও বলেন, এখনও মাইনরিটি-তপশিলী-গরীব মানুষ খুঁজে বেড়াচ্ছে, গরিব লোক খুঁজছে। সব ধর্মের লোক আছে। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে মেয়েদের অধিকার কাড়ছে। ইয়ং জেনারেশনকে সুযোগই দিলেন না। ঘলকি কমিশন দিল্লির জমিদারের কথায়…ভাবছেন ওই চেয়ারটা পারমানেন্ট। ডোন্ট কেয়ার মনোভাব দেখিয়ে গেছে। একজন বিএলও মৃত্যুর আগে সুইসাইড নোট লিখে গেছে। ইআরও-র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে কমিশন বিরুদ্ধে নয় কেন? ডিএম দের বলছে চাকরি থাকবে না। আপনাদের চাকরি থাকবে তো? এদিন প্রশ্ন তুললেন মমতা।
বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবর সরব হয়েছেন। সঠিক পদ্ধতি মেনে এসআইআর করছে না নির্বাচন কমিশন! বিজেপির হয়ে কাজ করছে কমিশন, একাধিকবার সেই অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।সুপ্রিম নির্দেশের পরে বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়ার সময়সীমা বাড়ানো হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। দিন কয়েক আগেই বাংলায় শুনানির কাজ শেষ হয়েছে। এদিন মমতা বলেন, “বিহারে যে তথ্য গণ্য করা হয়েছে এসআইআরের সময়, কেন বাংলায় তা নয়? বিহারে ফ্যামিলি রেজিস্টার গ্রাহ্য হলে বাংলায় নয় কেন?” নির্বাচন কমিশন তুঘলকি কাজকর্ম চালাচ্ছে। সঠিক নীতি-নিয়ম না মেনে কাজ করা, নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এরপরই নির্বাচন কমিশনকে ‘তুঘলকি কমিশন’ বলে কটাক্ষ করেছেন মমতা। তাঁর কটাক্ষ, “নির্বাচন কমিশন ক্যাপচার কমিশন”। মমতা কমিশনকে নিশানা করে বলেন, আমি কমিশনের সকলকে বলছি না। আমি মহম্মদ বিন তুঘলককে বলছি না। আমি জেলে যেতে প্রস্তুত। ওর মেরে ফেলুক। কিন্তু আমি সারেন্ডার করব না। আমি উৎসর্গ করব মানুষের জন্য। কিন্তু আমি ওদের বিরুদ্ধে লড়াই করব।







