ওয়েব ডেস্ক : রাজ্যে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া শেষ হতে চলেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি, শনিবার প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। আর এই প্রক্রিয়া নিয়েই একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। সেই মামলা এখনও শীর্ষ আদালতে বিচারাধীন। সম্প্রতি এই মামলার শুনানিতে বড় নির্দেশ দিয়েছে আদালত। জানানো হয়েছে, নাম বাদের ক্ষেত্রে ইআরও’র (ERO) সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত। এর পরেই শনিবার হোয়াটস্অ্যাপের চ্যাটের স্ক্রিনশট প্রকাশ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইআরও’দের নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে। আর এক্ষেত্রে ভাঙা হয়েছে তিনটি নিয়ম।
এদিন অভিষেক (Abhishek Banerjee) যে স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন তাতে দেখা গিয়েছে, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়ালের (Manoj Kumar Agarwal) সঙ্গে কথোপকথন হয়েছে জেলাশাসকদের এখটি গোষ্ঠীর। সেখানে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক প্রশ্ন তুলেছেন, ইআরও কেন অন্যের এক্তিয়ারে ঢুকে কাজ করছেন? তাঁকে তো নিজের এলাকা নিয়েই ভাবার কথা। এ নিয়ে জেলাশাসকদের তরফে জানানো হয়েছে, নজরদারির জন্যই এমনটা করা হয়েছে। আর এ নিয়েই এসআইআর প্রক্রিয়ায় নিয়মভঙ্গের অভিযোগ তুললেন অভিষেক।
ইআরও প্রসঙ্গে এ নিয়ে তিনটি নিয়ম ভঙ্গের কথা বলেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমত, এটি গণপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী স্পষ্ট বিধান লঙ্ঘন করেছে। ওই আইনের ১৩বি ধারায় বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও সংশোধনের দায়িত্ব ইআরও-র। আবার ১৩সি ধারায় উল্লেখ রয়েছে, এএইরও (AERO)-রা ইআরও-কে সহায়তা করবেন এবং তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন থাকবেন।
আরও খবর : বঙ্গসম্মানে ভূষিত একঝাঁক উজ্জ্বল তারকা, সম্মান পাচ্ছেন পরমব্রত, নচিকেতা, ইমন
দ্বিতায় পয়েন্টে অভিষেক জানিয়েছেন, এই বিষয়টি গত ৯ ফেব্রুয়ারির সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের সরাসরি পরিপন্থী। যেখানে বলা হয়েছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন শুধুমাত্র ইআরও (ERO)-রাই। একইভাবে ২০ ফেব্রুয়ারির নির্দেশেও স্পষ্ট বলা হয়েছে, নোটিসপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের দাবি ইআরও-দের আধা-বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে।
তৃতীয়ত, এটিকে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) নিজস্ব ২৪ জুন ২০২৫-এর নির্দেশিকারও লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে তুলেছেন তৃণমূল সাংসদ। তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও নিশ্চিত করবেন যেন কোনও যোগ্য নাগরিক বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ তালিকায় ঢুকে না পড়েন। আর এই তিনটি নিয়ম লঙ্ঘন করে শাসনব্যবস্থার মূল কাঠামোর নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য ধ্বংস করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ।
It has come to our notice that EROs are no longer able to monitor the progress of AEROs on the ECINet portal with respect to the conduct of SIR in Bengal. This amounts to a TRIPLE VIOLATION.
FIRST, it violates Section 13B of the Representation of the People Act, which states… pic.twitter.com/nyIqeipsl4
— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) February 21, 2026
তিনি আরও বলেন, আরও উদ্বেগজনক বিষয়, জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের মাধ্যমে বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের নজরে আনা হলেও, তা অত্যন্ত অবহেলাপূর্ণ ও দায়সারা ভাবে দেখা হয়েছে। যা একটি সাংবিধানিক দফতরের মর্যাদার পরিপন্থী। শেষে অভিষেক বলেন, বাংলার ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে ইচ্ছামতো ছিনিমিনি খেলার অধিকার কারোর নেই। যারা ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে ফেলার মতো চক্রান্ত করতে চাইছে, তাদের আইনের আদালত এবং জনতার আদালত, দুই জায়গাতেই জবাবদিহি করতে হবে।
দেখুন অন্য খবর :







