কলকাতা: পরিবর্তন যাত্রার শেষলগ্নে বাংলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। বাঙালি অস্মিতাকে শান দিতে মঞ্চের কোনায় কোনায় বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। বঙ্গবাসীর মন পেতে শুধু হিন্দুত্ব নয়, বাঙালিয়ানায় জোর দিয়েছে বিজেপি। শনিবার কলকাতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ব্রিগেডে মেগা র্যালি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi Brigade)। শনিবার সকাল ১১টা ১০ মিনিটে অসমের শিলচর থেকে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী।দুপুর ১টা ২০ মিনিটে কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ। এরপর কপ্টারে রেসকোর্সের হেলিপ্যাডে পৌঁছোবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে বেলা গাড়িতে ব্রিগেডে যাবেন মোদি। ব্রিগেডেই সরকারি মঞ্চ থেকে ১৮,৮৬০ কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাস এবং উদ্বোধন করবেন তিনি। দুপুর ৩টে ৩৫ মিনিটে এ ব্রিগেডের সভাস্থল ছাড়বেন মোদি। ০৩:৪০-এ রেসকোর্সে পৌঁছোবেন, ০৮:০৫-এর কপ্টারে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছিবেন নরেন্দ্র মোদি। বিকেল ০৪:১০-এ কলকাতা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী।বিধানসভা ভোটের আগে কলকাতা শহরে মোদির ব্রিগেড সমাবেশ নিয়ে স্বভাবতই কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
তৃণমূল একাধিকার বিজেপিকে বিঁধে দাবি করেছে বিজেপি বাংলা ও বাঙালি বিরোধী। তাকে ভ্রান্ত প্রমাণ করতে সাম্প্রতিক অতীতে নানা কর্মসূচি নিতে দেখা গিয়েছে রাজ্য বিজেপিকে। এবার মোদির জন্য মঞ্চে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরকে বানিয়ে ফেলল বিজেপি। মোদির ব্রিগেডের মঞ্চ তৈরি হয়েছে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের আদলে। ১২০ ফুট বাই ৭০ ফুট মঞ্চের মধ্যভাগে ভবতারিণী মন্দিরের প্রতিরূপ। মঞ্চের ডান এবং বাঁ’দিক জুড়ে ফুটে উঠেছে বাঙালির কৃষ্টি, সংস্কৃতি এবং শিল্পের টুকরো টুকরো ছবি। মঞ্চের ঠিক সামনে ‘পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপির সরকার’ লেখা বিশাল কাটআউট।মঞ্চ দেখে অবশ্য খোঁচা দিতে ছাড়েনি রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। তাদের কটাক্ষ, রাজনৈতিক সভাকে ‘থিম পুজো’র মণ্ডপ করে ফেলেছে বিজেপি। তাদের দাবি, এ সব করেও বাঙালির মন পাবে না পদ্মশিবির।তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের কথায়, ‘‘ওটা রাজনৈতিক মঞ্চ না থিমপুজো? বিজেপিকে মনে করিয়ে দিই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন দক্ষিণেশ্বর স্টেশনের টিকিট কাউন্টারটিই ভবতারিণীর মন্দিরের আদলে তৈরি করেছিলেন।’’
আরও পড়ুন: শনিবার কলকাতায় প্রধানমন্ত্রী! ব্রিগেডে মোদির সভা ঘিরে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপ!
এর আগে আলিপুরদুয়ার, দুর্গাপুর, মালদহে সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। জানুয়ারি মাসে সভা করেছেন সিঙ্গুরে। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে ডিসেম্বরে নদিয়ার তাহেরপুরে যেতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী। এবার বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election) আগে কলকাতা শহরে মোদির ব্রিগেড সমাবেশ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীকের দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে প্রথম কোনও রাজনৈতিক দল হিসাবে ব্রিগেডে সভা করছে বিজেপি। বস্তুত, শনিবার বিজেপির ব্রিগেডের সভা একটি ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মসূচির পরিসমাপ্তি। সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোট ন’টি ‘পরিবর্তন যাত্রা’ বের করেছিল পদ্মশিবির। প্রায় ৫,০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সেই যাত্রাগুলি গত মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। তার পরে শনিবার প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ব্রিগেড সমাবেশের মাধ্যমে ওই কর্মসূচিরই আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি।অন্যদিকে রাজনৈতিক মহল সহ শাসকদলের দলের নজরে রয়েছে, নজর মোদির সভায় ভিড় কেমন হবে। দ্বিতীয়ত, কোন পথে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেন। তৃতীয়ত, সম্প্রতি অমিত শাহ যখন রায়দিঘির সভা থেকে স্পষ্ট তিনটি প্রতিশ্রুতি দিয়ে গিয়েছিলেন, তেমন কোনও প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর তরফে দেওয়া হয় কি না।







