ওয়েবডেস্ক- রেশন ব্যবস্থায় (Raiton System) স্বচ্ছতা আনতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্র সরকার (Central Government) । এই ব্যবস্থা না করালে রেশন পরিষেবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। রেশন কেওয়াইসি ৩১ মার্চের (31 March) মধ্যে সম্পূর্ণ করতেই হবে, না হলে বন্ধ হয়ে যাবে রেশন।
কেন্দ্রীয় খাদ্য মন্ত্রকের (Union Food Ministry) নির্দেশ অনুযায়ী রেশন কার্ডের আধার-ভিত্তিক ই-কেওয়াইসি (e-KYC) সম্পন্ন করার সময়সীমা ৩১ মার্চ, ২০২৬ পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ই-কেওয়াইসি না করলে সংশ্লিষ্ট উপভোক্তার নাম রেশন তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে বা রেশন পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রেশন কেওয়াইসি করবেন কীভাবে
অফলাইন পদ্ধতি: আপনার নিকটস্থ রেশন দোকানে (Fair Price Shop) গিয়ে আধার কার্ড দিয়ে বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ) যাচাইকরণের মাধ্যমে এই কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।
আরও পড়ুন- টিকিট বুকিং থেকে ক্যানসেল- একাধিক নিয়ম বদলে দিল রেল! না জানলেই বিপদ!
অনলাইন পদ্ধতি: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের অফিসিয়াল পোর্টালে গিয়েও আধারের সঙ্গে রেশন কার্ড লিঙ্ক বা ই-কেওয়াইসি করাতে পারবেন।
কেন কেওয়াইসি করা জরুরি
১. রেশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে।
২. ভুয়ো বা মৃত ব্যক্তিদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে।
৩. বিনামূল্যে বা ভর্তুকিযুক্ত খাদ্যশস্য সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে।
রেশন কেওয়াইসি হল- একটি অনলাইন বা ইলেকট্রনিক যাচাইকরণ প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে গ্রাহকের আধার কার্ড ও বায়োমেট্রিক তথ্য রেশন কার্ডের ডেটাবেসের সাথে মিলিয়ে দেখা হয়। এটি করা বাধ্যতামূলক কারণ সঠিক উপভোক্তা চিহ্নিত করা এবং জালিয়াতি বন্ধ করতে সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কড়া নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকার প্রতি ৫ বছর অন্তর রেশন গ্রাহকদের KYC পরীক্ষা করে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে কেন্দ্র সরকার রেশন সংক্রান্ত বিষয়ে ভুয়ো কার্ড শনাক্ত করে। আর যদি কেওয়াইসি না হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কার্ড ভুয়ো বলে গণ্য করা হবে। খাদ্য মন্ত্রক সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত গোটা দেশে ৮৭ শতাংশ KYC সম্পূর্ণ হয়েছে। বাকি রয়েছে ২৩ শতাংশ। KYC হয়েছে ৬৯ কোটি ৭০ লক্ষ রেশন গ্রাহকের। কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য ১০০ শতাংশ KYC সম্পূর্ণ করার। আর সেই কারণেই ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়সীমা ধার্য করা হয়েছে। আধার সংযোগ, আঙুল ছাপ, মোবাইল নম্বর নিয়ে তা রেশন কার্ডের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। KYC- সম্পূর্ণ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম থাকবে রেশন গ্রাহকের তালিকায়।
KYC সম্পূর্ণ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেমন জানতে পারবেন তাঁর বা তাঁর পরিবারের নামে রেশন তোলা হয়েছে কিনা! কারণ তার কাছে এসএমএস আসবে। অপরদিকে কেন্দ্র সরকারের কাছেও সব রিপোর্ট থাকবে। কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়ে রেশন ডিলার বা দোকানদের দ্রুত গ্রাহকদের KYC সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেশে বর্তমানে ভুয়ো রেশন গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৮ কোটি ৫১ লক্ষ। তাদের বাদ দিলে কেন্দ্রের সাশ্রয় হবে ৪ হাজার কোটি ৩৭৮ কোটি টাকা। কেন্দ্র সরকার প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনার মাধ্যমে দেশের ৮০ কোটি গরিব মানুষকে মাসে জনপ্রতি বিনামূল্যে ৫ কিলো চাল-গম-ডাল দিয়ে থাকে।







