কলকাতা: উত্তর ভারতের (North India) ঠান্ডার ছবিটা এবার একেবারেই উল্টো। হিমাচল প্রদেশের (Himachal Pradesh) শিমলা (Shimla) বা উত্তরাখণ্ডের (Uttarakhand) মৌসুরির চেয়েও বেশি ঠান্ডা দিল্লি ও হরিয়ানার গুরুগ্রামে। মঙ্গলবার রাজধানী দিল্লিতে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। অন্যদিকে, হরিয়ানার গুরুগ্রামে পারদ প্রায় শূন্যে পৌঁছে গিয়েছে। সেখানে সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল মাত্র ০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তুলনায় শিমলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মসুরীতে ৭.৭ ডিগ্রি। অর্থাৎ পাহাড়ি শহরগুলিকেও পিছনে ফেলে দিয়েছে সমতলের রাজধানী ও তার আশপাশের এলাকা। দিল্লিতে গত চার দিন ধরেই তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রির আশপাশে ঘোরাফেরা করছিল। রবিবার আয়ানগরে পারদ ৩ ডিগ্রির নীচে নামে, আর মঙ্গলবার তা আরও কমে গিয়ে চলতি মরসুমের শীতলতম দিনের রেকর্ড গড়ে।
আরও পড়ুন: পথকুকুর কামড়ালেই মিলবে ক্ষতিপূরণ! বিরাট নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
হরিয়ানাতেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। গুরুগ্রামে শৈত্যপ্রবাহ জারি রয়েছে। আবহবিদদের মতে, গত প্রায় ৫০ বছরে এই শহরে এতটা কম তাপমাত্রা খুব কমই দেখা গিয়েছে। এর আগে মাত্র তিনবার গুরুগ্রামে তাপমাত্রা শূন্যের কাছাকাছি নেমেছিল—১৯৬৬, ১৯৭০ ও ১৯৭৯ সালে।
উত্তর ভারতের অন্যান্য এলাকাতেও ঠান্ডার দাপট স্পষ্ট। হিমাচলের কাংড়া ও পালমপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি, জম্মুতে ৩.৪ ডিগ্রি। উত্তরাখণ্ডের মুক্তেশ্বর, জলিগ্রান্ট ও টিহরীতে তাপমাত্রা ছিল ৪.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মৌসম ভবন উত্তর ভারতজুড়ে আরও হাড়কাঁপানো ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি করেছে।
আবহবিদেরা জানাচ্ছেন, এই অস্বাভাবিক শীতের নেপথ্যে রয়েছে পশ্চিমি ঝঞ্ঝা এবং উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা প্রবল ঠান্ডা হাওয়া। পাহাড়ে তুষারপাতের পর সেই হিমেল হাওয়া কোনও বাধা ছাড়াই সমতলে ঢুকে পড়ছে। অন্যদিকে, শৈলশহরগুলিতে মেঘলা আকাশ থাকায় সেখানে তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকছে। ফলেই সমতলের শহর দিল্লি ও গুরুগ্রামে পাহাড়ের থেকেও বেশি ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে।







