ওয়েব ডেস্ক: ত্বকের যত্নে (Skincare) আজ স্ক্রাব–সিরামের দাপট যেমন, তেমনই অনেকেই এখনও ভরসা রাখেন ঘরোয়া প্রাকৃতিক উপকরণে। নিম–হলুদ, চন্দন, অ্যালোভেরা বা মধু— প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই সব উপাদান ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এক সময় ফেসওয়াশ বা স্ক্রাব না থাকলেও বেসন, হলুদ, চালের গুঁড়ো দিয়েই মুখ পরিষ্কার করা হত। কিন্তু প্রশ্ন হল, প্রাকৃতিক উপাদান মানেই কি তা সবার জন্য ত্বক-বান্ধব? বিশেষ করে যদি পিসিওএস (PCOS) থাকে, তাহলে ভুল রূপচর্চাই ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ।
পিসিওএস বা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম হলে শরীরে অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। তার প্রভাব পড়ে ত্বকেও। ব্রণ, অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব, ফুস্কুড়ি, কালচে দাগ, অবাঞ্ছিত লোম— একাধিক সমস্যা একসঙ্গে দেখা দেয়। এই অবস্থায় না বুঝে ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার করলে সমস্যার সমাধানের বদলে তা আরও বাড়তে পারে, সতর্ক করছেন ত্বক বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন: পৌষ সংক্রান্তিতে জমে উঠুক পিঠেপার্বণ! ঘরেই বানান নরম-সুস্বাদু পুলি পিঠে
পাতিলেবুর রস
ব্রণ কমাতে অনেকেই সরাসরি পাতিলেবুর রস মুখে মাখেন। কিন্তু লেবুতে থাকা অ্যাসিড ত্বকে জ্বালা, লালচে ভাব ও প্রদাহ বাড়াতে পারে। পিসিওএস-এর কারণে সংবেদনশীল হয়ে ওঠা ত্বকে এর প্রভাব আরও মারাত্মক হতে পারে।
নারকেল তেল
চুলের যত্নে উপকারী হলেও মুখে নারকেল তেল মাখা সবার জন্য নয়। এটি ত্বকের রন্ধ্র বন্ধ করে দিতে পারে, ফলে ব্রণ ও ফুস্কুড়ি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ ত্বকে নারকেল তেল এড়িয়ে চলাই ভাল।
এসেনশিয়াল অয়েল
টি ট্রি, ল্যাভেন্ডার বা পিপারমিন্ট অয়েল উপকারী হলেও কখনওই সরাসরি ব্যবহার করা উচিত নয়। কেরিয়ার অয়েল ছাড়া এগুলি লাগালে অ্যালার্জি বা প্রদাহ হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ।
অ্যালোভেরা জেল
গাছের পাতা কেটে সরাসরি অ্যালোভেরা শাঁস মাখলে অনেকেরই অ্যালার্জি দেখা যায়। বাজারচলতি প্রক্রিয়াজাত জেল তুলনামূলক নিরাপদ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পিসিওএস-এর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বাহ্যিক যত্নে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সাময়িক জেল্লা এলেও মূল সমস্যা থেকে যায়। তাই হরমোনের ভারসাম্য ফেরাতে নিয়মিত শরীরচর্চা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং চিকিৎসকের পরামর্শই সবচেয়ে জরুরি। ত্বক ভালো রাখতে ‘প্রাকৃতিক’ শব্দে ভরসা করার আগে একবার ভাবুন— আপনার ত্বকের জন্য সেটাই কি সত্যিই নিরাপদ?







