নয়াদিল্লি: বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর (150th Anniversary Vande Mataram) পূর্ণ হচ্ছে৷সারা দেশ জুড়ে এই গানটি সাহস ও ঐক্যের চিরন্তন প্রতীক হয়ে উঠেছিল, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছিল। ভারতের জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-র ১৫০ বছর উপলক্ষে সোমবার ডিসেম্বর ৮ লোকসভায় একটি বিশেষ আলোচনা শুরু হয়েছে।দুপুর ১২টার কিছু পরে বন্দে মাতরম নিয়ে লোকসভায় আলোচনা শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। বন্দে মাতরমের গুরুত্বর কথা তুলে ধরে মোদি বলেন, “এই গান শক্তির মন্ত্র দিয়েছিল। স্বাধীনতা সংগ্রামে গোটা দেশের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছিল বন্দে মাতরম।” এদিন আলোচনা শুরুতে বিতর্ক শুরু হয়। লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কংগ্রেসকেই নিশানা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ অন্যদিকে লোকসভায় (Lok Sabha) বন্দে মাতরম নিয়ে আলোচনায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে একাধিক বার ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। দমদমের তৃণমূল সাংসদ বলেন, “অন্তত বাবু বলুন।” সঙ্গে সঙ্গে ভুল সংশোধন করেন মোদি।
সোমবার সংসদ অধিবেশনের শুরুতে ‘বন্দে মাতরম’-এর উপর বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।বন্দে মাতরম গানের ইতিহাস তুলে ধরেন, সেই সঙ্গে স্বাধীনতা আন্দোলনে এই গীতের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তবে শুরু থেকে নিজের ভাষণে ‘বন্দে মাতরম’-এর রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলে উল্লেখ করছিলেন মোদি। এতেই আপত্তি তোলেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। ভাষণের মাঝেই ভুল শুধরে শেষে ‘বন্দে মাতরম’-এর শ্রষ্ঠাকে ‘বঙ্কিম বাবু’ বলে সম্বোধন করলেন মোদি।ভুল শুধরে তিনি বলেন, “আপনার ভাবনাকে আমি সম্মান করি। বঙ্কিমদা বলা আমার ভুল। ওনাকে ‘বঙ্কিমবাবু’ বলছি।” পাশাপাশি সৌগতকে দাদা সম্বোধন করে মোদি বলেন, ”আপনাকেও তো দাদা বলেই সম্বোধন করি।”
আরও পড়ুন:‘বন্দেমাতারম’ নিয়ে সংসদে আলোচনার আগেই বিক্ষোভে তৃণমূল!
এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে বন্দে মাতরম।শুরু তাই আগামী প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করবে। সরকার বন্দে মাতরমের মাহাত্ম্যকে পুনরুদ্ধার করতে চায়। মোদি অভিযোগ করেছিলেন যে, কংগ্রেস বন্দে মাতরমের গুরুত্বপূর্ণ স্তবক বাদ দিয়ে দিয়েছিল। তিনি বলেন, “দুর্ভাগ্য হল, ১৯৩৭ সালে বন্দে মাতরমের গুরুত্বপূর্ণ স্তবক, যা গানটির প্রাণ, সেগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বন্দে মাতরমের ওই বিভাজন দেশভাগের বীজ বপন করেছিল।আজকের প্রজন্মের জানা উচিত, জাতি গঠনের এই ‘মহামন্ত্র’-এর সঙ্গে কেন এই অবিচার করা হয়েছিল।১৯৭৫ সালে বন্দে মাতরমের ১oo বছর পূর্তিতে সংবিধানকে রুদ্ধ করা হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে ইন্দিরা গান্ধীর আমলের জরুরি অবস্থাকে নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী।মোদি বলেন, “কংগ্রেস এখনও বন্দে মাতরমকে অপমান করছে।” একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, প্রথমে বন্দে মাতরমকে ভাঙা হয়েছে। আর তার পরেই ভারত ভেঙেছে।
দেখুন ভিডিও







