ওয়েব ডেস্ক : আইপ্যাকের (IPAC) কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও সল্টলেকের অফিসে ইডির (ED) অভিযানের ঘটনা ঘিরে নতুন করে তৎপর হল কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) অভিযোগের ভিত্তিতে এবার ওই অভিযানে অংশ নেওয়া ইডি আধিকারিকদের পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে লালবাজার। পুলিশ সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে চিঠি পাঠানো হতে পারে। ই-মেলের মাধ্যমে অভিযানে অংশ নেওয়া আধিকারিকদের নাম ও পরিচয় জানতে চাওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানাচ্ছে, অভিযানের দিন ইডি (ED) আধিকারিকদের নিরাপত্তায় যে সিআরপিএফ জওয়ানরা মোতায়েন ছিলেন, তাঁদের পরিচয়ও সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। ছ’জন সিআরপিএফ (CRPF) কর্মীর নাম জানতে পূর্বাঞ্চলীয় সিআরপিএফ দফতরে ই-মেল পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যেই তদন্তের অংশ হিসেবে প্রতীক জৈনের আবাসনের সিসিটিভি ফুটেজ এবং ডিভিআর সংগ্রহ করেছে কলকাতা পুলিশ। পাশাপাশি, বাড়ির পরিচারিকা ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে আবাসনের সিকিউরিটি রেজিস্টারও। সেই রেজিস্টারে অভিযানের সময় ইডি আধিকারিকরা কোনও নাম নথিভুক্ত করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
আরও খবর : মমতার পাল্টা জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি পাঠালেন শুভেন্দু!
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রয়োজনে প্রতীক জৈন, তাঁর স্ত্রী ও মায়ের সঙ্গে কথা বলতে পারে তদন্তকারী দল। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট আবাসনের ফেসিলিটি ম্যানেজারকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। লালবাজারের নথি অনুযায়ী, অভিযানের দিন সকাল আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিট থেকে ১১টা ২০ মিনিটের মধ্যে ইডি (ED) আধিকারিকরা প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন। ওই সময়ের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, সেদিন সেখানে উপস্থিত থাকা পুলিশ কর্মীদের বডি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও সংস্থার সল্টলেক অফিসে ইডির (ED) অভিযান ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে প্রতীক জৈনের বাড়িতে যান। পরে তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি আইপ্যাক কর্ণধারের বাড়ি ও অফিসে রাখা ছিল এবং ইডি আধিকারিকরা সেগুলি সরিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।
এই অভিযোগের পরেই শেক্সপিয়র সরণি থানা ও বিধাননগরের ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশ। তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।
দেখুন অন্য খবর :







