নদিয়া: নদিয়ার (Nadia) শান্তিপুরের (Shantipur) হরিপুর পঞ্চায়েতের নৃসিংহপুর তেওয়ারি মাঠ নিম্ন বুনিয়াদি প্রাথমিক বিদ্যালয় টানা ন’দিন ধরে তালাবন্দি। অভিযোগ, বিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষকই ব্যস্ত রয়েছেন SIR কর্মসূচির কাজে। ফলে স্কুলের দরজা বন্ধ, পঠন-পাঠন কার্যত স্তব্ধ। পুজোর পর থেকেই অনিয়মিত ক্লাসে ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা এখন বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ায় আরও উদ্বিগ্ন। কারণ ডিসেম্বরেই রয়েছে বার্ষিক পরীক্ষা (District news)।
বিদ্যালয়ে বর্তমানে মাত্র ৩০ জন ছাত্রছাত্রী, যা অতীতের তুলনায় অনেক কম। অভিভাবকদের অভিযোগ, কোনও রকম নোটিস ছাড়াই হঠাৎ স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, “শিক্ষকরা যদি স্কুল বন্ধ রেখে অন্য কাজে যান, তাহলে সন্তানরা পড়াশোনা শিখবে কীভাবে? পরীক্ষা দরজায়, অথচ ক্লাস নেই!”
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে পাচারের আগেই ধরা ২ হেরোইন কারবারি, উদ্ধার প্রায় ২৮ লক্ষ টাকার মাল
এই অভিযোগকে সমর্থন করছেন স্থানীয় বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্য। তিনি জানান, ৩ নভেম্বরই প্রধান শিক্ষককে সতর্ক করা হয়েছিল বিদ্যালয় বন্ধ না রাখতে। শান্তিপুর নতুন চক্রের এসআই গৌতম পালও নাকি জানিয়েছিলেন, প্রয়োজন হলে অন্য বিদ্যালয় থেকে শিক্ষক এনে ক্লাস চালু রাখা হবে। তবুও দশ দিন কেটে গেলেও কোনও ব্যবস্থাই হয়নি।
অন্যদিকে, তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান বীরেন মাহাতো দাবি করেন, বিদ্যালয় বন্ধ থাকার বিষয়টি তিনি সংবাদমাধ্যম থেকেই প্রথম জানেন। তাঁর বক্তব্য, “SIR-এর কাজ থাকতেই পারে, কিন্তু স্কুল বন্ধ থাকলে প্রশাসনকে জানানো উচিত ছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, বিডিওর সঙ্গে কথা বলছি।” বিদ্যালয়ের পরিদর্শক জানান, অভিভাবকদের অভিযোগ পাওয়ার পর ৪ নভেম্বরই মেল করে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। কিন্তু ঊর্ধ্বতন মহল ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি অসহায়।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, নাগরিকত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির জন্য যদি স্কুল বন্ধ রাখতে হয়, তবে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের ক্ষতি পূরণ করবে কে? পাশের বিদ্যালয়গুলির কোনও শিক্ষককেই ডিউটিতে না পাঠিয়ে বেছে বেছে এই বিদ্যালয়ের তিনজনকেই পাঠানো হয়েছে, বলেই ক্ষোভ স্থানীয়দের। প্রতিদিন ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে এসে তালা ঝুলে থাকতে দেখছে। ফলে আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে বিদ্যালয়টি বন্ধ হওয়ার মুখে পড়বে। পরীক্ষার আগে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিপাকে পড়বে নৃসিংহপুরের এই ছোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা, এমনই দাবি অভিভাবক ও এলাকাবাসীর।
দেখুন আরও খবর:







