ওয়েব ডেস্ক : লিবিয়ার স্বৈরাচারী শাসক মুয়াম্মর গদ্দাফির ছেলে সইফ আল-ইসলাম গদ্দাফি-কে (Saif al-Islam Gaddafi) হত্যার (Murder) অভিযোগ উঠল। মঙ্গলবার গভীর রাতে লিবিয়ায় (Libya) নিজের বাসভবনেই তিনি হামলার শিকার হন বলেই অভিযোগ। প্রথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, চার জন সশস্ত্র দুষ্কৃতী এই হামলা চালায়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তল্লাশি শুরু হয়েছে বলে খবর।
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক আড়াইটে নাগাদ সইফ আল-ইসলামের (Saif al-Islam Gaddafi) উপর হামলা চালানো হয়। এই হামলার আগে বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরা অকেজো করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। সইফ আল-ইসলামের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ২০২০-২১ সালে তাঁর দলের সদস্য আবদুল্লাহ ওসমান সমাজমাধ্যমে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। যদিও লিবিয়ার প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আরও খবর : এপস্টিন ফাইলসের ‘বলিউড গাই’ কে? বিতর্কে এই বিখ্যাত পরিচালক
প্রসঙ্গত, সরকারি কোনও পদে না থেকেও দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়ার অন্যতম ক্ষমতাশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন সইফ আল-ইসলাম (Saif al-Islam Gaddafi) । চার দশকের বেশি সময় ধরে দেশ শাসন করা মুয়াম্মার গাদ্দাফির উত্তরসূরি হিসেবেই তাঁকে দেখা হত। লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্সে পড়াশোনা করা ইসলাম এক সময় নিজেকে সংস্কারপন্থী হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। সংবিধান, মানবাধিকার এবং পশ্চিমের সঙ্গে মেলবন্ধনের কথা বলেছিলেন তিনি। কিন্তু ২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত বিদ্রোহে তাঁর অবস্থান বদলে যায়। বাবার পক্ষেই দাঁড়িয়ে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর দমন নীতির অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন তিনি।
গাদ্দাফি সরকারের পতনের পর পালানোর সময় জিনতান অঞ্চলে ধরা পড়েন সইফ আল-ইসলাম। প্রায় ছ’বছর সেখানেই বন্দি ছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে ত্রিপোলির আদালত তাঁকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। পরে ২০১৭ সালে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। ২০২১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে ফের রাজনীতির মঞ্চে ফেরার চেষ্টা করেন। কিন্তু জিততে পারেননি। কিন্তু এবার তাঁকে হত্যার অভিযোগ উঠল।
দেখুন অন্য খবর :







