Tuesday, January 13, 2026
HomeScrollAajke | শুভেন্দু অধিকারীর বাংলার সংস্কৃতি এবং হিজাবে আপত্তি
Aajke

Aajke | শুভেন্দু অধিকারীর বাংলার সংস্কৃতি এবং হিজাবে আপত্তি

হিজাব সংস্কৃতিকে আটকাবো বলে শুভেন্দু অধিকারী যা বলছেন...

২৬ এ বাংলার নির্বাচন (WB Assembly Election 2026 ) কেবল এ বাংলার মসনদে কে বসবেন সেটাই ঠিক করবে তা তো নয়, ২৬ এর নির্বাচনে অনেক অনেক কিছু ঠিক হবে, গোটা দেশের রাজনীতির দিশা নির্ধারণ হবে বললেও ভুল হয় না। গতকাল কেরালাতে গিয়ে অমিত শাহ বলেছেন ২০২৪ এ লোকসভাতে বিজেপি ২০% ভোট পেয়েছে, এবারে ৩০% পাবে। বাড়িয়েই বলেছেন, কিন্তু বিধানসভাতে ওই ২০/২২ % ভোট পেলেও বিজেপি খান ১০/১২ আসন নিয়ে কেরালার রাজনীতিতে ২০২৬ থেকে একটা বড় ভূমিকাতে থাকবে এটা নিশ্চিত। ওদিকে তামিলনাড়ুতে থলপতি বিজয়ের সঙ্গে বোঝাপড়া করার অনেক চেষ্টার পরেও চিঁড়ে ভেজেনি, থলপতি বিজয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বি জেপি, ডি এম কে দুজনেই শত্রু কাজেই জোট হবে না। কংগ্রেস আর এ আই ডি এম কে র সঙ্গে হতেই পারে। তো এ আই ডি এম কে বিজেপি জোটের কথাবার্তা প্রায় পাকা। মানে যে ভাবেই হোক তামিলনাড়ুতে তিন পক্ষের লড়াই নিশ্চিত, আর তা হলে এম কে স্তালিন গতবারের থেকে কিছু বেশি আসন পেতেই পারেন। হ্যাঁ এই অবধি হিসেবটা বিজেপি খুউউব ভালো করেই জানেন। এবার তাঁদের বাংলা চাই। যদিও ভোটের তফাত ৮/৯%, কিন্তু ওই যে আমার সোনার হরিণ চাই। কিন্তু সেই লড়াই এ সবথেকে বড় স্টেক কার? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই মুহূর্তে আর কিছু প্রমাণ করতে হবে না। কিন্তু এই নির্বাচন যুবরাজের নির্বাচন। দলকে এক কর্পোরেট চেহারা দিয়েছেন তিনি, দলের কর্মসূচী নির্ধারণ আর সংগঠনের খোল নলচে বদলানোর দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি, কাজেই এই নির্বাচনে তাঁর বিরাট স্টেক আছে। যদি তাঁর স্টেক ৫০% ধরি, তাহলেও তা বিরাট, তাঁকে প্রমাণ করতে হবে যে আইপ্যাক, ফাইপ্যাক নয়, আজকের দিনে নির্বাচন লড়তে হলে ভোট কুশলী সংস্থার প্রয়োজন আছে, তাঁকে প্রমাণ করতে হবে যে দলের আগামী নেতৃত্বে তিনি যাঁদের গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁদের কাঁধ ওজন বইতে পারে। আর অন্যদিকে বিরাট দায় দায়িত্ব শুভেন্দু অধিকারির ওপরে, হ্যাঁ এখনও, মানে ২১ বা ২৪ এর হারের পরেও বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখনও নির্ভর করে আছেন শুভেন্দু অধিকারির সঙ্গে। আর তাই এই মুহূর্তে একলা জগাই হলেও শুভেন্দু মাঠেই আছেন, কিন্তু তাঁকে বইতে হচ্ছে নানান সমস্যা আর ভুগছেন হাজারো স্ববিরোধিতায়। সেটাই বিষয় আজকে, শুভেন্দু অধিকারীর বাংলার সংস্কৃতি এবং হিজাবে আপত্তি।

মাত্র গতকাল আমাদের শান্তিকুঞ্জের খোকাবাবু বলেছেন বাংলাতে উনি বাংলা সংস্কৃতি চান, হিজাবের আরবী সংস্কৃতি বাদ দিয়ে বাংলা সংস্কৃতি চান। এটা ঘটনা যে হিজাব শব্দটা আরবী, এবং এটাও ঘটনা যে আমাদের বাংলাতে হুদো হুদো আরবি শব্দ ব্যবহার করা হয়, আদালত, উকিল, আসামি, এজলাস, হাকিম, মোক্তার, মামলা, মোকদ্দমা, কানুন, ইশতাহার, জেরা, মক্কেল, নাজির, ফয়সালা, মুন্সেফ, মুলতুবি, খারিজ, অন্তর, শহর, দোকান, বাজার, তারিখ, সময়, বাকি, হিসাব, জরুরি, মজবুত, পছন্দ, জবাব, সালাম, তুফান, দুনিয়া এসবই শুভেন্দু বাবু না জানলেও আরবি ভাষার শব্দ, আর কে না জানে যে ভাষা এক জাতি বা দেশের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংগ। আর অন্যদিকে হিন্দু মহিলাদের ঘোমটা দেওয়ার মত হিজাব এই বাংলার ৩৩% মুসলমান মহিলাদের খুব সাধারণ রেওয়াজ, সেই হিজাব বহু সাহিত্য উপন্যাস, ছবি কবিতাতে এসেছে বারবার, আর সেসবের ভেতর দিয়েই তা বাংলা সংস্কৃতির অংগ হয়ে উঠেছে। আসলে শুভেন্দু বাবু সেই কবেই তো বলেছেন, ওদের ভোট চাই না আমরা, সেই ওরা মানে মুসলমানরা যে এই রাজ্যের মানুষ, এই দেশের মানুষ এককালে তা বললেও এখন তিনি তা মনে করেন না, আর এস এস – বিজেপির দর্শনের সঙ্গে তাল মিলিয়েই মুসলমানদের বিদেশী হিসেবেই মনে করেন, সেটাই গতকাল আবার বলেছেন, হিজাব সংস্কৃতির বিরুদ্ধে লড়বো। কেমন করে লড়বেন? কেন কদিন আগেই তো ওনাদের জোটের মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমার দেখিয়ে দিয়েছেন এক তরুণী ডাক্তারের হিজাব টেনে খুলে খ্যাক খ্যাক করে হেসে দেখিয়ে দিয়েছিলেন রাস্তাটা, সেটাই এ রাজ্যে লাগু করবেন আমাদের টাচ মি নট খোকাবাবু শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), উনি আর ওনার অনুগামীরা হিজাব দেখলেই তুলে দেবেন, খুলে নেবেন। না ওনাদের মুখ ঢাকা ঘোমটাতে আপত্তি নেই, হিজাবে আছে। আমরা আমাদের দর্শকদের জিজ্ঞেষ করেছিলাম, বাঙালি হিন্দু মহিলাদের অনেকেই মাথায় ঘোমটা দেন, মুসলমান মহিলারা হিজাব রাখেন, এটাই কি আমাদের বাংলার এক অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি নয়? তাহলে হিজাব সংস্কৃতিকে আটকাবো বলে শুভেন্দু অধিকারী যা বলছেন, তা কি এক ধর্মের মহিলাদের ভয় দেখানোর জন্য বলছেন? শুনুন মানুষজন কী বলেছেন।

আরও পড়ুন: Aajke | রাজ্য বিজেপির নতুন কমিটি এবং একঘর কমেডি

হিন্দু মহিলারা ঘোমটা পরতেন, সবাই পরতেন, এখন অনেকেই পরেন না। মুসলমান মহিলাদেরও অনেকেই হিজাব রাখেন না। এগুলো ধর্ম, সংস্কৃতি, রেওয়াজ রিতী নীতির অংগ, যাঁর ইচ্ছে হবে সে তিন হাত ঘোমটা দিন, বোরখা পরুন, হিজাব রাখুন, এক্কেবারে চাঁদি থেকে নাকের ডগা পর্যন্ত সিঁদুর লাগান। ধর্ম, বিশ্বাস, ইচ্ছে, অনিচ্ছে তো ব্যক্তিগত বিষয়। হিজাব পরতে দেবনা, হিজাব সংস্কৃতি আরবি সংস্কৃতি এসব বলে শুভেন্দু বাবু আসলে যা করছেন তাকেই সাম্প্রদায়িকতা বলে। হিজাব পরা বা না পরা নিয়ে আলোচনা তো করাই যায়, যেমন করা যায় সিঁদুর পরা বা না পরা নিয়ে। কিন্তু গায়ে না মানে আপনি মোড়ল এসে যদি বলেন আমি হিজাব সংস্কৃতিকে আটকাবো, তাহলে জেনে রাখুন তা আইনত অপরাধ, সংবিধান বিরোধী আর সেই কাজের জন্য তিন বছর জেলেও পাঠানো যায়।

Read More

Latest News