Thursday, January 15, 2026
HomeScrollসুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন কপিল সিব্বলের
IPAC ED Case

সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন কপিল সিব্বলের

দুপুর ২টোয় ফের আইপ্যাক মামলাটি শুনবে সুপ্রিম কোর্ট

নয়াদিল্লি: আইপ্যাক  (IPAC ED Case) ইডির তল্লাশিকাণ্ডে শুনানি শুরু হয়ে গিয়েছে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তদন্ত চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট বা ‘চুরি’ করেছেন।সুপ্রিম কোর্টে ইডির পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, ‘আই-প্যাক দফতরে অভিযান চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী নিজে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান।’ তাঁর অভিযোগ, সেই সময় তদন্তকারী আধিকারিকদের কাছ থেকে জোর করে ল্যাপটপ, গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়, যার ফলে তদন্ত প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।’স্তব্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনা, আইনি কাজকর্মে বাধা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী’, সুপ্রিম কোর্টে শুনানিতে সওয়াল সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার (Tushar Mehta)। কীভাবে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন শোনার যোগ্য, প্রশ্ন করেছেন বিচারপতি।

ইডির তদন্তকারী দল আইপ্যাক কর্ণধারের বাড়ি এবং দফতরে কেন গিয়েছিল, তা জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি মিশ্রের প্রশ্ন, “আপনারা সেখানে কেন গিয়েছিলেন? ঠিক কী বিষয় নিয়ে তদন্ত চলছিল?”ইডির সওয়াল, “ওরা বলছে আমরা নাকি সেখানে গিয়েছিলাম এসআইআর-এর তথ্য সংগ্রহ করতে। অবৈধ কয়লা পাচার মামলার তদন্তে আইপ্যাক-এ তল্লাশি করতে গিয়েছিল। কয়লা কেনাবেচার টাকা নগদে লেনদেন করা হত। ইডি যে সমন পাঠিয়েছিল, তার কোনও জবাব দেওয়া হয়নি। তদন্তে দেখা গিয়েছে, একটি হাওয়ালা চ্যানেল মারফত প্রায় ২০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।”বিচারপতি মিশ্র জানতে চান, এই আইপ্যাক কি সেই একই সংস্থা, যার সঙ্গে আগে প্রশান্ত কিশোর যুক্ত ছিলেন।মেহতা আদালতে বলেন, “ইডি আগেই ইমেল করে রাজ্যের আধিকারিকদের জানিয়ে দিয়েছিল। আমাদের কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না।” ওই দিনের ঘটনার ছবি দেখতে চান বিচারপতি। ইডির আইনজীবী আরও সওয়াল করেন, “এমন কী ছিল, যা লুকোনোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী পুরো পুলিশবাহিনী নিয়ে সেখানে ঢুকে পড়লেন? তাঁকে হস্তক্ষেপ না করার অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি তা মানেননি। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। এই মামলায় সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।”

বিচারপতি মিশ্রের মন্তব্য, “পশ্চিমবঙ্গে কি আইপ্যাক ভোট করাবে? না কি নির্বাচন কমিশন? অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। আমরা নোটিস জারি করছি।”রাজ্যের তরফে আইনজীবী কপিল সিব্বল সওয়াল করেন, “হাই কোর্ট এই বিষয়টি শুনতে পারে, তাই এই মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে শোনার প্রয়োজন কেন?” তখন বিচারপতি মিশ্র বলেন, “হাইকোর্টে যা যা হয়েছে তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন!” ওই ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি হবে না বলে সুপ্রিম কোর্টকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন সিব্বল। আইনজীবী অভিষেক মনুসিঙ্ঘভিও বলেন, “কোনও রকম উত্তেজনা বা বিশৃঙ্খলা ছাড়াই, গতকাল ইডি নিজেই শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছিল।

আরও পড়ুন: সাসপেন্ড করা হোক রাজীব কুমারকে, সুপ্রিমে নতুন আর্জি ইডির

কপিল সিব্বলের (Kapil Sibal ) সওয়াল, “আইপ্যাক-এর কাছে রাজনৈতিক দলের বিপুল পরিমাণ তথ্য থাকে। যখন ইডি সেখানে গিয়েছিল, তখন তারা জানত যে দলের বহু গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল তথ্য সেখানে থাকবে। নির্বাচনের ঠিক মাঝখানে সেখানে যাওয়ার প্রয়োজন কী ছিল? সিব্বল আরও বলেন, “দলের চেয়ারম্যানের সেখানে যাওয়ার পূর্ণ অধিকার ছিল। যদি ভিডিয়ো দেখানো হয়, তবে কে মিথ্যে বলছে তা স্পষ্ট হয়ে যাবে। কেন ইডি একটি রাজনৈতিক দলের অফিসের সেই অংশে ঢুকল, যেখানে দলের সব তথ্য সংরক্ষিত থাকে? মুখ্যমন্ত্রী নাকি সব ডিজিটাল ডিভাইস নিয়ে গিয়েছেন— এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ইডির নিজের তৈরি পঞ্চনামা দিয়েই প্রমাণ হয়ে যায়। দুপুর ১২টা ০৫ মিনিট পর্যন্ত কোনও কিছুই বাজেয়াপ্ত করা হয়নি—এ কথা পঞ্চনামাতেই লেখা আছে। মুখ্যমন্ত্রী শুধু একটি ল্যাপটপ, একটি আইফোন নিয়েছিলেন—এর বাইরে আর কিছুই নেওয়া হয়নি। তল্লাশির সময় কোনও বাধা তৈরি করা হয়নি।”

সিব্বলের উদ্দেশে বিচারপতি মিশ্র বলেন, “আপনাদের দাবি পরস্পরবিরোধী। যদি সত্যিই তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্য থাকত, তবে ইডি বাজেয়াপ্ত করত। কিন্তু বাস্তবে কিছুই বাজেয়াপ্ত করা হয়নি।” সিঙ্ঘভি বলেন, “ইডির পঞ্চনামায় ভুল তথ্য আছে, না হলে ইডির পিটিশনে ভুল তথ্য আছে। দুটোর মধ্যে একটি হবে।” রাজ্যের আধিকারিকদের তল্লাশির বিষয়ে জানানো প্রসঙ্গে তাঁর সওয়াল, “এক বার জানানো হয়েছিল। একটি খুবই সাধারণ ভাবে ইমেলের মাধ্যমে।” এই সওয়ালের বিরোধিতা করেন ইডির আইনজীবী। সলিসিটর জেনারেল মেহতা বলেন, “ইমেল কখনও ‘ক্যাজ়্যুয়াল’ বা গুরুত্বহীন হতে পারে না। ইমেল করা হয়েছে মানেই তা আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়েছে।”আইনজীবী সিঙ্ঘভির সওয়াল, “তল্লাশি শুরু হয়েছিল ভোর ৬টা ৪৫ মিনিটে। আর ইমেল পাঠানো হয়েছিল তার অনেক পরে, সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে। ওই ইমেল পাঠানোটা ছিল আসলে পরে নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা। ইডি অফিসাররা অনেক দেরিতে নিজেদের পরিচয় দেন।”অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজুর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, নগরপাল-সহ পুলিশকর্তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করে তদন্ত শুরু হোক। মধ্যাহ্নভোজের জন্য আপাতত মুলতুবি মামলা। তার আগে ইডিকে প্রশ্ন করেন বিচারপতি মিশ্র, “আপনাদের কেন মনে হয় হাই কোর্টে মামলা চালানো যাবে না?”

Read More

Latest News