কলকাতা: ১৫ হাজার টাকা বেতনসহ একাধিক দাবিতে আশা কর্মীদের (ASHA Workers Protest) স্বাস্থ্যভবন (Swasthya Bhavan) অভিযান। আশাকর্মীদের স্বাস্থ্যভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কাণ্ড। স্বাস্থ্যভবনের বাইরে লোহার দুর্গ, ব্যারিকেড করে রেখেছিল পুলিশ। সেই ব্যারিকেড পেরিয়ে স্বাস্থ্যভবনের দিকে এগোতেই পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। তাঁদের অভিযান শুরু হওয়ার আগেই ধরপাকড় শুরু করল পুলিশ। আশাকর্মীদের অভিযোগ, গন্তব্যে পৌঁছোনোর আগেই বিভিন্ন জায়গায় তাঁদের আটকে দেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলনে সামিল রয়েছেন আশাকর্মীরা। এই মুহূর্তে তাঁরা প্রত্যেকে ৫২৫০ টাকা বেতন পান। বর্তমান বাজারে সেই টাকায় তাঁদের চলে না, তাই অন্ততপক্ষে ১৫ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। আশাকর্মীদের (Asha Workers Swasthya Bhawan Abhijan)দাবি, গত ১৫ তারিখ তাঁরা সময় চেয়েছিলেন কিন্তু স্বাস্থ্য সচিব জানান তিনি ছুটিতে থাকবেন। তাই ২১ তারিখ আসতে বলা হয়েছিল। সেইমতোই আজ স্বাস্থ্যভবন অভিযান কর্মসূচি নিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু মঙ্গলবার রাত থেকেই পুলিশের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।শিয়ালদা স্টেশনে ধরপাকড়, আশাকর্মীদের আটক অভিযান ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আটক করে নিয়ে যাওয়া হলেও স্লোগান থামেনি তাঁদের।
স্বাস্থ্যভবনে রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরুপ নিগমের কাছে তাঁদের ডেপুটেশন দেওয়ার কথা বুধবার। সেই ডেপুটেশানে যোগ দিতেই এদিন সকালে পুরুলিয়া-বাঁকড়া এমনকী উত্তরবঙ্গ থেকেও একাধিক এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়ে কলকাতার উদ্যেশ্যে রওনা দেওয়ার চেষ্টা করেন আশাকর্মীদের একাংশ সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আশাকর্মীদের আটক করার অভিযোগ উঠেছে। উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে অনেক আশাকর্মীই ট্রেনে চেপে হাওড়া স্টেশনে পৌঁছোন। তাঁদের অভিযোগ, স্টেশনের মধ্যেই তাঁদের আটকে দিচ্ছে পুলিশ-প্রশাসন। স্টেশনের বাইরে বার হতে দেওয়া হচ্ছে না।। এঁদের মধ্যে অনেককেই আটক করা হয়েছে। এরপরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষোভ উগরে দেন বিক্ষোভকারীরা। পুলিশের সঙ্গে একাধিক এলাকায় আশাকর্মীদের ধস্তাধস্তি হয়েছে।অফিস টাইমে নিত্যযাত্রীরা হয়রানির শিকার হন। শিয়ালদা স্টেশনের ১৩ নম্বর প্ল্যাটফর্ম কার্যত অবরুদ্ধ।
আশাকর্মীদের আটকাতে এদিন ভোর থেকেই স্টেশনে স্টেশনে মোতায়েন ছিল বিপুল সংখ্যক মহিলা পুলিশ। আশাকর্মীরা শিয়ালদা স্টেশনে পৌঁছতেই মহিলা পুলিশ আশা কর্মীদের ঘিরে ধরে। বেশ কয়েকজন আশা কর্মীকে গাড়িতে চাপিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলেও অভিযোগ। ধরপাকড় এবং আটক অভিযান ঘিরে প্রবল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্বাস্থ্যভবনের সামনেই রাস্তায় বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ গাড়িতে তোলে। রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তার সামনেই বসে বিক্ষোভকারী আশাকর্মী বলেন, “যতই ধরপাকড় করে করুক, দেখি সরকার আমাদের জন্য কী করে। আমরা এখানেই বসে থাকব।”পুলিশের গাড়ির ভিতর দাঁড়িয়েই এক আশাকর্মী বলেন, “আমরা ৮০ হাজার আশাকর্মী রয়েছি। ২০২৬ সালে আমরা দেখে নেব। আমরা জবাব চাই, আমরা চুরি করিনি, ন্যায্য আদায় করতে এসেছি।







