ওয়েব ডেস্ক : বেতন বৃদ্ধি সহ একাধিক দাবি। তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন আশাকর্মীরা (ASHA workers)। বুধবার আশাকর্মীদের স্বাস্থ্যভবন (Swasthya Bhawan) অভিযান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হল। এদিন স্বাস্থ্যভবন অভিযানের আগেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে আশাকর্মীদের আটক করল পুলিশ (Police)।
জানা যাচ্ছে, বুধবার সকালে পানাগড় (Panagarh) স্টেশন থেকে এবং স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রায় ১০ জন আশা কর্মীকে আটক করে কাঁকসা থানার পুলিশ (Police)। এদিন সকালে তাদের আটক করে কাঁকসা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আশা কর্মীরা যাতে কলকাতায় কোনভাবেই যেতে না পারে সেই নির্দেশ আসে উপরমহল থেকে। যার কারণে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে পুলিশ আশা কর্মীদের আটক করা শুরু করে সকাল থেকেই। জানা গিয়েছে বেতন বৃদ্ধি সহ, সরকারি সুযোগ সুবিধা সহ একাধিক দাবি নিয়ে গত প্রায় একমাস ধরে কর্ম বিরতির পাশাপাশি আন্দোলনে নেমেছেন আশা কর্মীরা। কখনও রাস্তা অবরোধ, কখনও স্বাস্থ্য কেন্দ্র ঘেরাও অভিযান করেও কোন সুরাহা না মেলেনি।
বুধবার সারা রাজ্য জুড়ে আশা কর্মীরা স্বাস্থ্য ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছে। সেইমতো বুধবার সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রেন ও বাসে করে আশা কর্মীরা কলকাতার স্বাস্থ্য ভবনের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিলেও, বিভিন্ন এলাকা থেকে আশা কর্মীদের পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায় বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে পানাগড় (Panagarh) স্টেশনে আগে থেকেই মোতায়েন ছিল কাঁকসা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পানাগড় স্টেশনে আশা কর্মীরা পৌঁছাতেই তাদের আটক করে কাঁকসা থানার পুলিশ। কেউ কেউ ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করলেও তাদের উঠতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ আশা কর্মীদের। আশা কর্মীরা জানিয়েছেন, তারা নিয়মমতো টিকিট কেটেই ট্রেনে চাপার চেষ্টা করছিলেন কিন্তু পুলিশ তাদের আটকে দেয়।
আরও খবর : মেঘালয় রাজ্য প্রতিষ্ঠা দিবসে শুভেচ্ছা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
অম্বিকা কালনা স্টেশনেও বাঁধা দেয় কালনা রেল পুলিশ। পনেরোর বেশি আশা কর্মীরা টিকিট কেটে স্টেশনে উঠার সময় আটকায় পুলিশ। টিকিট কাটলেও তাঁদের ট্রেনে উঠতে দেওয়া হয়নি পুলিশের তরফে। তাদের টিকিট ফেরত নিয়ে তাদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কেন রেল পুলিশের এইরকম আচরণ পুলিশের তরফ থেকে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ, টিকিট থাকা সত্ত্বেও রেল পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁদের ট্রেনে উঠতে দেওয়া হয়নি। পুলিশ কর্মীরা জোর করে তাঁদের টিকিট ফেরত নিয়ে নেন এবং পরে টিকিটের টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তবে কেন এইভাবে তাঁদের আটকানো হল, কোন আইনি ভিত্তিতে টিকিট কেটে আসা যাত্রীদের ট্রেনে উঠতে বাধা দেওয়া হল? সে বিষয়ে পুলিশের তরফ থেকে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। আটক হওয়া আশা কর্মীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া পারিশ্রমিক, কাজের স্বীকৃতি, স্থায়ী নিয়োগসহ একাধিক দাবিতে তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। সেই দাবিগুলি নিয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই স্বাস্থ্য ভবন অভিযানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু গণতান্ত্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে যোগ দিতে যাওয়ার আগেই এইভাবে বাধা দেওয়া তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করার শামিল বলে অভিযোগ। ঘটনাকে ঘিরে স্টেশন চত্বরে কিছুক্ষণের জন্য উত্তেজনা ছড়ায়। আশা কর্মীরা পুলিশের এই আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশ্ন তোলেন “আমরা কি অপরাধী? টিকিট কেটে ট্রেনে ওঠাও কি এখন অপরাধ?” তাঁদের আরও অভিযোগ, কোনও লিখিত নির্দেশ বা সরকারি নোটিশ দেখানো ছাড়াই শুধুমাত্র আন্দোলনে যাওয়ার আশঙ্কায় তাঁদের আটকানো হয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনায় রেল পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে। টিকিট থাকা সত্ত্বেও যাত্রীদের ট্রেনে উঠতে না দেওয়ার নজির বিরল বলে মনে করছেন অনেকে। ঘটনার বিষয়ে রেল পুলিশের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। পুলিশের নীরবতা আরও জল্পনা বাড়াচ্ছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। আশা কর্মীদের দাবি, এই ঘটনার পূর্ণ তদন্ত হওয়া উচিত এবং ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের বাধা না দেওয়া হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের স্পষ্ট অবস্থান জানানো প্রয়োজন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে আশা কর্মীদের আন্দোলন আরও জোরালো হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। ময়নাতেও (Moyna) আশা কর্মীদের বাস আটকে দিল পুলিশ, তাদের সঙ্গে বচসা আশা কর্মীদের, অপরদিকে মেচেদার রেলস্টেশনের আশা কর্মীদের আটকালে বিক্ষোভ দেখালেন আশাকর্মীরা।
উল্লেখ্য, আজ আশা কর্মীদের স্বাস্থ্য ভবন অভিযান রয়েছে, বেতন বৃদ্ধি থেকে সরকারি স্বীকৃতি সহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে আশা কর্মী ইউনিয়নের ডাকে আজ স্বাস্থ্য ভবন যাওয়ার কথা আশা কর্মীদের। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মত পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নাতে (Moyna) দুটি বাস রিজার্ভ করে স্বাস্থ্য ভবনের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন আশা কর্মীরা। অভিযোগ, তাদের অভিযোগ মাঝ রাস্তায় পুলিশ তাদের আটকে দেয়। ড্রাইভার এবং আশা কর্মীদের নামে কেস দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। বাস ড্রাইভাররা আশা কর্মীদের নামিয়ে দেন। তারপরেই তমলুক ময়লা রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান আশা কর্মীরা। এমনকি পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। অন্যদিকে পাঁশকুড়া রেল স্টেশনে জিআরপি আশাকর্মীদের আটকে দেয়। মেচেদা নন্দকুমার সহ বিভিন্ন জায়গায় পুলিশি হয়রানির প্রতিবাদে মেচেদা বাস স্ট্যান্ডে বিক্ষোভ দেখান আশাকর্মীরা।
দেখুন অন্য খবর :







