ওয়েবডেস্ক- স্বামী খাওয়া দাওয়া সেরে স্কুলে বেরিয়েছিলেন৷ আর স্ত্রী দুপুরে নিশ্চিন্তে ঘুম দিচ্ছিলেন৷ আচমকা বাদ সাধে৷ স্বামী হন্তদন্ত হয়ে এসে স্ত্রীকে এসআইআর (SIR) এর শুনানির (Hearing) নোটিস (Notice) ধরালেন! এমনকি নিজেও নিজের নোটিস ধরলেন৷ কিছুক্ষণের জন্য কেতুগ্রামের ভোমরকোল প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক বিএলও দেবশঙ্কর চট্টোপাধ্যায় (Teacher BLO Devashankar Chatterjee) ও তাঁর স্ত্রী বাকরুদ্ধ হয়ে যান৷ স্বামী তাঁর স্ত্রীকেও শুনানির নোটিস ধরালেন৷
বিএলও স্বামীকে তাঁর স্ত্রী হাজারো প্রশ্নবাণ ছুঁড়ে দেন৷ কারণ নোটিসে লেখা রয়েছে কোনও প্রশ্ন থাকলে তা বিএলওকে জিজ্ঞাসা করবেন৷ স্ত্রী সেইমতো জিজ্ঞাসা করেন৷ কিন্তু বিএলও স্বামী সব প্রশ্নেরই নিরুত্তর থাকলেন৷ নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী অ্যাপে নোটিস এসেছে৷ তাই শুনানীতে স্ত্রীকে নিয়ে নিজেকেও হাজির থাকতে হবে৷ আর পাঁচজনের মতই তাঁদের নিজেদেরও শুনানির লাইনে দাঁড়াতে হবে৷
কাটোয়ার মহকুমা শাসক অনির্বান বোস বলেন, বিএলও হলেও নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনেই তাঁকে কাজ করতে হয়৷ তাই নিজের পরিবারের ক্ষেত্রেও সেই একই নিয়ম পালন করেছেন উনি৷
কেতুগ্রাম বিধানসভার ভোমরকোল অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দেবশঙ্কর চট্টোপাধ্যায় ১৬৫ নম্বর বুথের বিএলও৷ তাঁর বাড়ি ওই এলাকারই কোড়োলা গ্রামে৷ তিনি কাটোয়া শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের চৌরঙ্গি এলাকায় স্ত্রীঅনিন্দিতাদেবী ও এক পুত্র সন্তানকে নিয়ে থাকেন৷ দেবশঙ্কর বাবুর নিজের ও তাঁর স্ত্রী দু’ জনেরই শুনানির নোটিস এসেছে৷ দেবশঙ্করবাবু আবার নিজের বুথেই বিএলও৷ ফলে স্ত্রীকেও নিজের হাতে নোটিস ধরাতে হয়েছে৷ দেবশঙ্কর বাবুর বাবার নাম পুলকেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়৷ কিন্তু লজিক্যাল ডিসক্রিপেনসিতে পদবির বানান ভুল রয়েছে৷ কিন্তু ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতে ঠিক বানানই রয়েছে৷ তবুও তাঁকে কমিশন শুনানি নোটিস পাঠিয়েছে৷ আর তাঁর স্ত্রী অনিন্দিতাদেবীর বাপের বাড়ি নদিয়া জেলার নাকাশিপাড়া থানার মাঝেরগ্রামে৷ তাঁর বাবার নাম অনিল চট্টোপাধ্যায়৷ কিন্তু লজিক্যাল ডিসক্রিপেনসি এর জন্য তাঁর ও বাবার বয়সের পার্থক্য ৫০ বছর রয়েছে৷ তাই তাঁকে শুনানির নোটিস ধরিয়েছেন খোদ তাঁরই বিএলও স্বামী৷
আরও পড়ুন- জানুয়ারিতেই মালদহে মোদি! ট্রেন উদ্বোধন সহ আর কী কী কর্মসূচি
বিএলও দেবশঙ্কর চট্টোপাধ্যায় বলেন, কেতুগ্রামে আমরা ভোট দিই৷ গ্রামে আমার বুথে ৭১২ জন ভোটার রয়েছেন৷ তার মধ্যে আগে আমার বুথে ৭ জনের শুনানি হয়েছিল৷ আর এখন ৬২ জনের দ্বিতীয় পর্যায়ের শুনানির জন্য নোটিস এসেছে৷ তার মধ্যে আমার নিজের ও স্ত্রীর নোটিস ধরালাম৷ এটা সবটাই এআই এর জন্য লজিক্যাল ডিসক্রিপেনসি হচ্ছে৷ কিন্তু আমি তো নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে কাজ করতে বাধ্য৷ সেখানে আলাদা করে আমার নিজের পরিবারের কোনও গুরুত্ব নেই৷ সবাই সমান৷ আর পাঁচজনকে নোটিস ধরাতে গেলে আমাকে যেমন প্রশ্নবাণের মুখে পড়তে হচ্ছে৷ তেমনিভাবে আমার স্ত্রীর কাছেও অনেক প্রশ্নবানের মুখে পড়তে হয়েছিল৷ একটাই উত্তর দিয়েছি ম্যাডাম নির্বাচন কমিশন আমাকে যেমনটা নির্দেশ দিয়েছে৷ আমি তেমনি করেছি৷
এদিকে তাঁর স্ত্রী অনিন্দিতা দেবী বলেন, আমি প্রথমটা অবাকই হয়েছিলাম৷ কিন্তু এটা তো আমার স্বামীর কাজ৷ তাঁকে তো কাজটা করতে হবে৷ তাই স্বামী-স্ত্রী দু’ জনেই শুনানির লাইনে দাঁড়াব৷
বিয়ের দিনে ছাদনাতলাতে দাঁড়িয়ে অগ্নিসাক্ষী করে যে স্বামী তাঁর স্ত্রীর ভাত কাপড়ের দ্বায়িত্ব ভার নিজের কাঁধে নিয়েছিলেন৷ এসআইআর এর জন্য স্ত্রীর পাশাপাশি নিজের দ্বায়িত্বও নিলেন না, দু’ জনেই নোটিস দু’ জনেই নিলেন৷







