Thursday, January 15, 2026
HomeBig newsনিজেই নিজেকে শুনানির নোটিস দিলেন এই বিএলও, কেতুগ্রাম কাণ্ডে তীব্র জল্পনা
BLO SIR Hearing Notice

নিজেই নিজেকে শুনানির নোটিস দিলেন এই বিএলও, কেতুগ্রাম কাণ্ডে তীব্র জল্পনা

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী অ্যাপে নোটিস এসেছে

ওয়েবডেস্ক-  স্বামী খাওয়া দাওয়া সেরে স্কুলে বেরিয়েছিলেন৷ আর স্ত্রী দুপুরে নিশ্চিন্তে ঘুম দিচ্ছিলেন৷ আচমকা বাদ সাধে৷ স্বামী হন্তদন্ত হয়ে এসে স্ত্রীকে এসআইআর (SIR) এর শুনানির (Hearing) নোটিস (Notice) ধরালেন! এমনকি নিজেও নিজের নোটিস ধরলেন৷ কিছুক্ষণের জন্য কেতুগ্রামের ভোমরকোল প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক বিএলও দেবশঙ্কর চট্টোপাধ্যায় (Teacher BLO Devashankar Chatterjee) ও তাঁর স্ত্রী বাকরুদ্ধ হয়ে যান৷ স্বামী তাঁর স্ত্রীকেও শুনানির নোটিস ধরালেন৷

বিএলও স্বামীকে তাঁর স্ত্রী হাজারো প্রশ্নবাণ ছুঁড়ে দেন৷ কারণ নোটিসে লেখা রয়েছে কোনও প্রশ্ন থাকলে তা বিএলওকে জিজ্ঞাসা করবেন৷ স্ত্রী সেইমতো জিজ্ঞাসা করেন৷ কিন্তু বিএলও স্বামী সব প্রশ্নেরই নিরুত্তর থাকলেন৷ নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী অ্যাপে নোটিস এসেছে৷ তাই শুনানীতে স্ত্রীকে নিয়ে নিজেকেও হাজির থাকতে হবে৷ আর পাঁচজনের মতই তাঁদের নিজেদেরও শুনানির লাইনে দাঁড়াতে হবে৷

কাটোয়ার মহকুমা শাসক অনির্বান বোস বলেন, বিএলও হলেও নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনেই তাঁকে কাজ করতে হয়৷ তাই নিজের পরিবারের ক্ষেত্রেও সেই একই নিয়ম পালন করেছেন উনি৷

কেতুগ্রাম বিধানসভার ভোমরকোল অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দেবশঙ্কর চট্টোপাধ্যায় ১৬৫ নম্বর বুথের বিএলও৷ তাঁর বাড়ি ওই এলাকারই কোড়োলা গ্রামে৷ তিনি কাটোয়া শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের চৌরঙ্গি এলাকায় স্ত্রীঅনিন্দিতাদেবী ও এক পুত্র সন্তানকে নিয়ে থাকেন৷ দেবশঙ্কর বাবুর নিজের ও তাঁর স্ত্রী দু’ জনেরই শুনানির নোটিস এসেছে৷ দেবশঙ্করবাবু আবার নিজের বুথেই বিএলও৷ ফলে স্ত্রীকেও নিজের হাতে নোটিস ধরাতে হয়েছে৷ দেবশঙ্কর বাবুর বাবার নাম পুলকেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়৷ কিন্তু লজিক্যাল ডিসক্রিপেনসিতে পদবির বানান ভুল রয়েছে৷ কিন্তু ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতে ঠিক বানানই রয়েছে৷ তবুও তাঁকে কমিশন শুনানি নোটিস পাঠিয়েছে৷ আর তাঁর স্ত্রী অনিন্দিতাদেবীর বাপের বাড়ি নদিয়া জেলার নাকাশিপাড়া থানার মাঝেরগ্রামে৷ তাঁর বাবার নাম অনিল চট্টোপাধ্যায়৷ কিন্তু লজিক্যাল ডিসক্রিপেনসি এর জন্য তাঁর ও বাবার বয়সের পার্থক্য ৫০ বছর রয়েছে৷ তাই তাঁকে শুনানির নোটিস ধরিয়েছেন খোদ তাঁরই বিএলও স্বামী৷

আরও পড়ুন-  জানুয়ারিতেই মালদহে মোদি! ট্রেন উদ্বোধন সহ আর কী কী কর্মসূচি

বিএলও দেবশঙ্কর চট্টোপাধ্যায় বলেন, কেতুগ্রামে আমরা ভোট দিই৷ গ্রামে আমার বুথে ৭১২ জন ভোটার রয়েছেন৷ তার মধ্যে আগে আমার বুথে ৭ জনের শুনানি হয়েছিল৷ আর এখন ৬২ জনের দ্বিতীয় পর্যায়ের শুনানির জন্য নোটিস এসেছে৷ তার মধ্যে আমার নিজের ও স্ত্রীর নোটিস ধরালাম৷ এটা সবটাই এআই এর জন্য লজিক্যাল ডিসক্রিপেনসি হচ্ছে৷ কিন্তু আমি তো নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে কাজ করতে বাধ্য৷ সেখানে আলাদা করে আমার নিজের পরিবারের কোনও গুরুত্ব নেই৷ সবাই সমান৷ আর পাঁচজনকে নোটিস ধরাতে গেলে আমাকে যেমন প্রশ্নবাণের মুখে পড়তে হচ্ছে৷ তেমনিভাবে আমার স্ত্রীর কাছেও অনেক প্রশ্নবানের মুখে পড়তে হয়েছিল৷ একটাই উত্তর দিয়েছি ম্যাডাম নির্বাচন কমিশন আমাকে যেমনটা নির্দেশ দিয়েছে৷ আমি তেমনি করেছি৷

এদিকে তাঁর স্ত্রী অনিন্দিতা দেবী বলেন, আমি প্রথমটা অবাকই হয়েছিলাম৷ কিন্তু এটা তো আমার স্বামীর কাজ৷ তাঁকে তো কাজটা করতে হবে৷ তাই স্বামী-স্ত্রী দু’ জনেই শুনানির লাইনে দাঁড়াব৷

বিয়ের দিনে ছাদনাতলাতে দাঁড়িয়ে অগ্নিসাক্ষী করে যে স্বামী তাঁর স্ত্রীর ভাত কাপড়ের দ্বায়িত্ব ভার নিজের কাঁধে নিয়েছিলেন৷ এসআইআর এর জন্য স্ত্রীর পাশাপাশি নিজের দ্বায়িত্বও নিলেন না, দু’ জনেই নোটিস দু’ জনেই নিলেন৷

Read More

Latest News