Friday, January 9, 2026
HomeScrollAajke| অমিত শাহ, শুভেন্দু অধিকারী “দূর্নীতি” বলতে কী বোঝেন? কী বোঝান?
Aajke

Aajke| অমিত শাহ, শুভেন্দু অধিকারী “দূর্নীতি” বলতে কী বোঝেন? কী বোঝান?

বিজেপিতে চলে গেলেই যুধিষ্টিরের বংশধর হয়ে উঠছেন?

এমনিতেই দূর্নীতি শব্দটা খুউউব গোলমেলে, চুরি শব্দটা তো আরও বেশি কুয়াসায় ঢাকা। সেই কবে কমলাকান্ত বলেছিল, খিদে পেলে চুরি করা পাপ নহে, আর যার প্রচুর আছে তার থেকে খানিকটা নিয়ে নেওয়াকে নাকি চুরি বলেই না। কিন্তু সেসব দার্শনিক, ফিলোজফিক্যাল কথাবার্তা। এমনিতে সব দেশের আইনেই চুরি, দূর্নীতি ইত্যাদি শাস্তিযোগ্য অপরাধ, আমাদের দেশের আইনেও সে কথা লেখা আছে। কিন্তু গুজরাট হইতে দুই মক্কেল আসা ইস্তক দূর্নীতি শব্দটার এক আমূল পরিবর্তন ঘটে গেছে। এখন দূর্নীতির ডেফিনেশনই বদলে দিয়েছেন অমিত শাহ – নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। সাধারণ বোধ বুদ্ধি নিয়ে আমরা জানতাম সরকারের মন্ত্রী সান্ত্রীরা, সরকারি দল কোনও ব্যবসায়ীকে কোনও প্রকল্পের বরাত দিলে যদি সেই ব্যবসায়ী এক বড় পরিমাণ টাকা সেই দলকে দেয় তাহলে তাকে ঘুস বলে, আর আমাদের দেশের আইনে ঘুষ নেওয়া আইনত অপরাধ। কিন্তু দেখুন এই মোদি জামানাতে হুদো হুদো এমন ঘটনা দেখানো যায় যেখানে প্রজেক্ট দেওয়া হচ্ছে, শিল্পপতি ডোনেশন দিচ্ছেন, ইডি রেড হচ্ছে, শিল্পপতি ডোনেশন দিচ্ছেন। কদিন আগেই টাটাদের ১৪ হাজার কোটি টাকার এক প্রকল্প হাতে ধরে দেওয়া হল, দুদিনের মধ্যেই রিটার্ন গিফট, টাটারা ৩০০ কোটির মত ডোনেশন পাঠিয়েই দিলেন। হ্যাঁ দূর্নীতির ডেফিনেশনটাই বদলে দিয়েছে বিজেপি। সেটাই আজ বিষয় আজকে, অমিত শাহ (Amit Shah), শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) “দূর্নীতি” বলতে কী বোঝেন? কী বোঝান?

বাংলাতে বিধানসভার এখনও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন ভারতে এমন দূর্নীতিবাজ সরকার আর নেই। হ্যাঁ একথা তিনি একবার নয়, বহুবার বলেছেন আর সেটা যখনই বলেন তখন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) নামটা জুড়ে দেন। ইদানিং এটা ওনার অভ্যেসে দাঁড়িয়ে গেছে। ওদিকে গতকাল গুজরাটি ছোটা মোটাভাই গিয়েছিলেন তামিলনাড়ুতে, সেখানে গিয়ে বলেছেন দেশের সবথেকে দূর্নীতিবাজ সরকার হলো ডি এম কের সরকার, এম কে স্তালিনের সরকার, সেই সরকার নাকি সব প্রকল্প থেকে ২০% কমিশন নিয়ে থাকেন। তাহলে প্রথম প্রশ্ন তো এটাই হবে যে কে সত্যিটা বলছেন? গুজরাটের ছোটামোটাভাই? নাকি শান্তিকুঞ্জের মেজো খোকা? এবং দু ক্ষেত্রেই একটা প্রশ্ন তো ঠিক এরপরেই আসবে যে দিল্লিতে ১৪ বছর ধরে ইউনিয়ন গভর্নমেন্টের শীর্ষে থাকা অমিত শাহ যা বললেন তার প্রমাণ আছে কী? যদি থাকে তাহলে এত কথা না বলে স্তালিন কে গ্রেপ্তার করে জেলে পুরে দিলেই তো হতো? সেটা না করে যদি কেবল মুখেই চিৎকার করে যাওয়া হয় তাহলে সেটা যে ১০০ শতাংশ মিথ্যে তা তো লোকে বুঝে ফেলবে? এবং শান্তিকুঞ্জের মেজ খোকাকে বাংলার মানুষ তো প্রশ্ন করবেই যে এই যে দূর্নীতির শিরোমণি, ভাইপো কয়লাচোর, চাকরি চোর ইত্যাদি বলে চেঁচাচ্ছেন, তা গত ১১ বছর তো মোদি – শাহের সরকার ছিল, ইডি-সিবিআই তো আপনাদের হাতেই ছিল, কেন একটা প্রমাণ হাজির করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্য্যোপাধ্যায়কে জেলে পোরা গেল না? কেন একটা চুরির কোনও কিনারা হলো না? কেন হাজার একটা চুরির অপরাধে যাদের জেলে পাঠানো হয়েছিল, তারা একে একে সবাই জামিন পেয়ে জেল থেকে বেরিয়ে আসছে? কেন আপনাদের দলের এক্স জাস্টিস, প্রাক্তন বিচারক যিনি আইন কানুন কেবল বোঝেনই না, এই মামলাগুলোর সময়ে বিস্তর জলঘোলা করেছিলেন, তিনিই বলছেন যে ইডি, সিবিআই অপদার্থ? এবং একটা কথার জবাব তো মেজখোকাকে দিতেই হবে যে তিনি হাতে করে যে টাকা নিয়েছিলেন তার ভিডিও তো নেট দুনিয়াতে চাইলেই দেখা যায়, সেই মামলার কী হলো? কেন সেই দূর্নীতির বিচার হচ্ছে না? উলটে সারা দেশজুড়ে দেখুন যারা যারা দূর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তারা কেবল বিজেপিতে চলে গেলেই যুধিষ্টিরের বংশধর হয়ে উঠছেন? কোন সে পরশ পাথর যা ছুঁইয়ে দিয়ে কোটি কোটি টাকার দূর্নীতিবাজ অজিত পাওয়ার, হিমন্ত বিশ্বশর্মাদের দূর্নীতিমুক্ত করে তোলা হচ্ছে? আসলে আমাদের মেজখোকা বা গুজরাটের ছোটামোটাভাই এর কাছে ওনাদের স্বপক্ষে মানে সাধু সন্ত, আর বিরোধী মানেই দূর্নীতি, এই সরল ব্যাখ্যা নিয়েই তাঁরা এখন বক্তিমে করছেন। আমরা আমাদের দর্শকদের জিজ্ঞেষ করেছিলাম যে অমিত শাহ থেকে শান্তিকুঞ্জের মেজ খোকা, কেন সব দূর্নীতি খুঁজে পান বিরোধী দের মধ্যে? নাকি বিরোধীদের দূর্নীতিবাজ বলে নিজেদের দূর্নীতি ঢাকতে চান তাঁরা? শুনুন মানুষজন কী বলছেন।

আরও পড়ুন: Aajke | দিলীপের উত্থান, শুভেন্দুর পতন?

এমনিতেই ভারতের মানুষজনের কাছে দূর্নীতির আর বিশেষ কোনও গুরুত্বই নেই, হ্যাঁ সি এস ডি এস এর এক সমীক্ষায় বলা হয়েছিল দেশের মাত্র ৭/৮% মানুষ দূর্নীতিকে নির্বাচনের প্রধান ইস্যু বলে মনে করেন। কেন এমনটা হয়েছে? কারণ যে গেছে লঙ্কায় সেই হয়েছে রাবণ, সেটা দেখে দেখে ক্লান্ত মানুষ বুঝেছে রাজনীতি মানেই দূর্নীতি, তারা আর সেটাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেও না। কিন্তু সেই আবহে আর কোনও ইস্যু না থাকায়, মন্দির মসজিদ, হিন্দু মুসলমান ন্যারেটিভ এর মধ্যে দুর্নীতিতে আপাদমস্তক ডুবে থাকা আমাদের শান্তিকুঞ্জের খোকাবাবু বা দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাঝে মধ্যেই দূর্নিতি দূর্নীতি বলে খামোখাই চিল্লিয়ে ওঠেন।

Read More

Latest News