ওয়েব ডেস্ক: হল না রূপকথা। এজবাস্টন টেস্টে (Edgbaston Test) হেরেই গেল পাকিস্তান (Pakistan)। তিন টেস্টের সিরিজে ইংল্যান্ডের (England) কাছে ৩-০ হোয়াইটওয়াশ হল তারা। তবে, হেডিংলি এবং লর্ডসে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয়েছিল, এজবাস্টনে সম্মানজনক লড়াই করে হারল বাবর আজমের (Babar Azam) দল। প্রথম ইনিংসে ১৩৩ রানে অল আউট হয়ে গেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৪৯ করে তারা। তাতে অবশ্য লাভের লাভ হয়নি। জো রুটরা (Joe Root) টেস্ট জিতলেন আট উইকেটে।
প্রথম দুই ইনিংসের পরে ৩২০ রানে পিছিয়ে পড়েছিল পাকিস্তান। সেখান থেকে জিততে হলে তৃতীয় ইনিংসে ৫৫০ থেকে ৬০০ রানের প্রয়োজন ছিল, অন্তত এজবাস্টনের এই ব্যাটিং পিচে। তা না পারলেও পাক ব্যাটিংয়ে অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। অধিনায়ক বাবর ৭৬ রান করেন। শান মাসুদ ৯৫ করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। ওপেনার আজান ওয়েইস ৫৯ করেন।
আরও পড়ুন: প্রয়াত ঠাকুমা, ৯/১১ কাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের জয় উৎসর্গ করলেন শেলটন
তবে এ ম্যাচ ক্রিকেট দুনিয়া মনে রাখবে রাজাউল্লা মাশওয়ানি (Razaullah Mashwani) নামে ২১ বছর বয়সি এক তরুণের জন্য। বল হাতে চার উইকেট নেন, তার মধ্যে ছিল জো রুটের উইকেট। কিন্তু আসল চমক ব্যাট হাতে দেখালেন রাজাউল্লা। নয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ৬৩ বলে ৮১ রানের বিস্ময়কর ইনিংস খেলেন তিনি। বিস্ময়কর এই কারণেই, তাঁর ব্যাটিং কপিবুক স্টাইলের ধারে কাছে ছিল না। বল হাঁকড়ানোই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।
জফ্রা আর্চার, গাস অ্যাটকিনসনদের পালটা আক্রমণ করেন রাজাউল্লা। তাঁর ইনিংসে ছিল ন’টা ছয়, চারটে চার। দিন পনেরো আগে রাজাউল্লার নাম কেউ জানত না। জাতীয় দলের হয়ে খেলা তো দূর, এমনকী পাসপোর্ট ছিল না তাঁর কাছে। তাঁকে জাতীয় দলে নির্বাচনের খবর জানাতে গিয়ে পিসিবি দেখে, ফোন বন্ধ। তারপর স্থানীয় এক কোচের মাধ্যমে রাজাউল্লার বাড়িতে যোগাযোগ করা হয়।
যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তাঁর পাসপোর্ট, ভিসা করে ইংল্যান্ডের বিমানে তুলে দেওয়া হয়। আদতে জোরে বোলার রাজাউল্লার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে একটা মাত্র শতরান আছে। তবে এজবাস্টন টেস্টের পর নিশ্চয়ই ব্যাটিংয়ে আর একটু মনোযোগ দেবেন। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের অবশ্যই এই প্রতিভাকে লালনপালন করা উচিত। জীবনের প্রথম ম্যাচে ট্র্যাজিক হিরো হতে হলেও, ভবিষ্যতে আরও এক ইমরান খান হতে পারবেন না, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই।







