Tuesday, March 24, 2026
HomeScrollFourth Pillar | বিজেপির নতুন সভাপতি নীতিন নবীন কি আরেকজন কাঠপুতুল?
Fourth Pillar

Fourth Pillar | বিজেপির নতুন সভাপতি নীতিন নবীন কি আরেকজন কাঠপুতুল?

নীতিন নবীনের সামনে কেরল, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি, অসম আর বাংলার নির্বাচন

Written By
অনিকেত চট্টোপাধ্যায়

নতুন সভাপতি এবারে ঘন ঘন আসবেন বাংলাতে। হ্যাঁ, সভাপতি হওয়ার পরে এটাই তাঁর প্রথম অগ্নিপরীক্ষা। মুশকিল হচ্ছে, উনি তেমন একজন বিজেপি নেতা, যিনি এর আগে গোটা দেশ একবারও ঘোরেননি, শপিং করতেও কলকাতাতে আসেননি, কিন্তু এখন দায়ে পড়ে ওনাকে আসতেই হবে। এদিকে বিজেপি এমন একটা গণতান্ত্রিক দল, যা প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে তার সভাপতিকে বেছে নেওয়া হয়েছে, তিনি কখনও নির্বাচিত হননি। না, বিজেপির আসল ছাতা আরএসএস’এও সেটাই রীতি, সেখানেও সরসংঘচালক কোনওদিনও নির্বাচিত হন না। মানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করব, বলে যাঁরা হেদিয়ে মরেন, তাঁদের দলে নির্বাচন বলে বিষয়টাই নেই, কোনওদিনও ছিল না, সেখানে একজনকে বেছে নেওয়া হয়। কীভাবে? কোন পদ্ধতিতে? কোন মাপকাঠিতে বাছা হয়? তা কেউ জানেন না, বেশ কিছু বিজেপি নেতাদেরও জিজ্ঞেস করেছি, তাঁরাও জানিয়েছেন যে কীভাবে বাছা হয়, কে বাছেন, সেটা তাঁরাও জানেন না। মানে ‘মাদার অফ ডেমোক্রাসি’র ‘ফাদার অফ ডেমোক্রাসি’রা আসলে নির্বাচন বিষয়টাতে বিশ্বাসই করেন না। হ্যাঁ, সেটাই আরএসএস–বিজেপির দর্শনের মূল ভিত্তি। চাইছেন তো হিন্দুরাষ্ট্র, মানে সেই চোল, গুপ্ত, চালুক্য, পল্লব, রাষ্ট্রকূট বা সেন রাজাদের সময়ে ফিরে যেতে চান যেখানে নির্বাচন ছিল না, একজনকে রাজা হিসেবে মনোনীত করা হত, ব্যস, ফুরিয়ে গেল। কংগ্রেসে ধুন্ধুমার নির্বাচন দেখেছি, স্বাধীনতার আগে বা পরেও। কিন্তু যত দিন গিয়েছে, তত সেই নির্বাচনের ধার ভার কমেছে। সেটাও সত্যি, তবুও নির্বাচন আছে। খাড়গে, রাহুলের প্রতিনিধি হলেও শশী থারুর দাঁড়ান। কমিউনিস্ট পার্টিতে নির্বাচন আছে বটে, কিন্তু সে পদ্ধতিতে বিরাট গোলমালও আছে। মারা না গেলে সাধারণ সম্পাদক বদলায় না, এমন এক চালু ধারণাও খুব ভুল নয়। কিন্তু বিজেপিতে সেসব কিছুই নেই, একজনই প্রার্থী, একজনই সভাপতি।

একটা সময়ে ছিল বিজেপির সভাপতি দলের অন্যতম মুখ হতেন, এমন একজন যিনি সারা ভারতের বিজেপি রাজনীতির উজ্জ্বল পরিচিত মুখ। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৬ ছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ী। ১৯৮৬ থেকে ১৯৯১, ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৮, ২০০৪ থেকে ২০০৫ – সভাপতি ছিলেন লাল কৃষ্ণ আদবানি। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৩ সভাপতি মুরলি মনোহর যোশী, হ্যাঁ তাঁর সময়েই বাবরি মসজিদ ভাঙা হল, সেদিন সেখানে তিনি হাজির ছিলেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০০ কুশাভাউ ঠাকরে, কিডনি ক্যান্সার হওয়ার কারণেই তিনি পদত্যাগ করেন। ওনার পরে আসেন ২০০১ থেকে ২০০২ পর্যন্ত, বঙ্গারু লক্ষণ, দলিত চেহারা, কিন্তু এক স্টিং অপারেশনে টাকা নেওয়ার ছবি বাইরে আসার পরে তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়। অনেকে বলে এর পিছনে দলের অন্দরমহলের খেলা ছিল। ২০০১ থেকে ২০০২-কে জনা কৃষ্ণমূর্তি। তিনি ছিলেন এক মধ্যবর্তি সভাপতি, সরে আসার পরে বাজপেয়ী মন্ত্রী সভার মন্ত্রী হয়েছিলেন, সেই অর্থে বিজেপির দক্ষিণের পরিচিত মুখ। ২০০২ থেকে ২০০৪ ছিলেন ভেঙ্কাইয়া নাইডু, ২০০৪-এ বিজেপির হারের পর তিনি সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। রাজনাথ সিং ২০০৫ থেকে ২০০৯। ২০০৯-এর হারের পর তিনি পদত্যাগ করেছিলেন। ২০০৯ থেকে ২০১৩ সভাপতি হলেন নিতীন গডকরি, দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় তিনি পদত্যাগ করেন। আবার ২০১৩ থেকে ২০১৪ সভাপতি হন রাজনাথ সিং। ২০১৪-তে জয়ের পরে তিনি মোদি মন্ত্রিসভার স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্ব নেন, আর ঠিক সেই সময় থেকেই মোদিজির পছন্দের লোকজনেরা ক্রমশ দল আর মন্ত্রিসভাতে গুরুত্ব পেতে শুরু করে। ২০১৪-তে সভাপতি হন অমিত শাহ, তিনি তখন একজন তাড়িপার বিজেপি নেতা, গুজরাতের মন্ত্রী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন, দেশে সাধারণভাবে তাঁকে কেউ চিনত না। ২০২০-তে তিনি পদ ছেড়ে দেওয়ার পরে আরেকজন এলেন যাঁর সম্পর্কে আমরা সাংবাদিকেরা গুগল করেই জানতে পেরেছিলাম, জগৎ প্রসাদ নাড্ডা, তিনিও ছিলেন ৬ বছর, প্রতিটা দিন তিন ওই ‘দুধুভাতে সভাপতি’ হয়েই থেকে গিয়েছেন।

এবারে এলেন নীতিন নবীন সিনহা, ২০০৬ থেকেই বিজেপির এমএলএ, কখনও বিহারের মন্ত্রী, কিন্তু সংগঠনে? সর্বোচ্চ ভারতীয় জন যুবমোর্চার সাধারণ সম্পাদক। ব্যস! না, তিনি রাজ্য সভাপতিও ছিলেন না বা সারা ভারতের রাজনীতিতে কোথাও তাঁর কোনও জায়গা ছিল না। কিন্তু একলাফে তিনি সভাপতি। হ্যাঁ, ইচ্ছে হয়েছে তেনার, তাই খুঁজে বার করা হল আরও একজন ‘দুধুভাতে সভাপতি’কে, একজন এমন নেতাকে, যিনি মোদি–শাহকে দেখলে কুঁকড়ে যাবেন। আগের সভাপতিদের নামের সঙ্গে তুলনা করুন সত্যিটা বুঝে যাবেন। তিনি সভাপতি কিন্তু নির্দেশ থাকবে অমিত শাহের, অমান্য করার সাহস তাঁর নেই। তো সেই নীতিন নবীন সভাপতি হলেন কোন সময়ে? তাঁর সামনে কেরল, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি, অসম আর বাংলার নির্বাচন এই বছরেই। পরের বছরে, মানে ২০২৭-এ গুজরাত, গোয়া, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ ও মণিপুর; ২০২৮-এ মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, তেলঙ্গানা, কর্নাটক, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা ও মেঘালয়ে; আর ২০২৯-এ লোকসভার নির্বাচন। মানে বুঝতে পারছেন, এমন একজন নেতা, যিনি এখনও পর্যন্ত সারা দেশের রাজনীতির মাঠে নামও লেখাননি, তাঁকে কাজ হাতে নিয়েই মুখোমুখি হতে হবে পিনারাই ভিজয়ন, এম কে স্তালিন আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ২০২৭-এ কী হবে, ২০২৮ বা ২০২৯-এ কী হবে, বাদই দিলাম, কেবল ২০২৬-এর নির্বাচনী সম্ভাবনার কথা নিয়েই আসুন আলোচনা করি।

আরও পড়ুন: Fourth Pillar | এই মুহুর্তে ভোট হলে বাংলাতে তৃণমূল কোথায়? সিপিএম কোথায়?

কেরলে গত লোকসভা নির্বাচনেই বিজেপি ১৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে, ত্রিশুর থেকে সাংসদকে জিতিয়ে নিয়ে এসেছে, আর এবারে সব রেকর্ড ভেঙে তিরুবনন্তপুরমে মিউনিসিপাল কর্পোরেশন দখল করল। হ্যাঁ, এখানে বিজেপি রাইজিং ফোর্স, তারা এবারে কম করেও ২৪ থেকে ২৫ শতাংশ ভোট আর গোটা ১২ থেকে ১৪ আসন পেলে অবাক হব না, যার কৃতিত্ব নিশ্চিতভাবেই মোদি-শাহের, কিন্তু খাতায় কলমে এ জয় আসবে বিজেপির নতুন সভাপতির আমলে। এবং এরপর থেকে কেরল বিজেপির কাছে জিতে যাওয়ার মতো এক রাজ্য হয়ে উঠবে, যা কোনওদিনও ছিল না। হ্যাঁ, এইভাবেই রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয়। এবারে কেরলে সবথেকে বড় দল হবে কংগ্রেস, তারা জিতেও যেতে পারে। কিন্তু বড় দল হলে নিশ্চিতভাবেই সরকার সিপিএম কংগ্রেস কোয়ালিশনেরই হবে, আর সেই অবস্থায় বিজেপিই হয়ে উঠবে কেরালার একমাত্র বিরোধী দল। তামিলনাড়ুতে এআইডিএমকে-র বড় গোষ্ঠীর সঙ্গেই বিজেপির সমঝোতা হয়ে গেল, আর বিজয় থলপতির নতুন দল যেহেতু ঘোষিত ভাবেই বিজেপি বিরোধী, তাই এ যাত্রাতেও ডিএমকে জোট, ডিএমকে সরকার বিরোধী ভোট ভাগাভাগির সুযোগে অনায়াসে জিতে আসবে। কিন্তু বিজয় থলপতি কতটা শক্তি দেখাতে পারে তার উপরে নির্ভর করবে তামিলনাড়ুর আগামী রাজনীতি। কিন্তু যাই হোক, বিজেপির খুব একটা বিরাট শক্তিবৃদ্ধি তো হবে না, বরং হেরে যাওয়ার পরে এআইডিএমকে–বিজেপি জোট ভেঙে যেতেই পারে, বিজেপির মধ্যেও একটা আওয়াজ তো আছেই, একলা চলার, সেটা আবার সামনে আসবে। কিন্তু যাই হোক, তা নতুন সভাপতির মাথাব্যাথা হবে না। অসমে এখনও যা অবস্থা, তাতে বিজেপির জিতে আসাটা খুব স্বাভাবিক, বিরোধীদের ঐক্য নেই, মোটের উপরে হিমন্ত বিশ্বশর্মা সরকারের কাজ নিয়ে মানুষের অসন্তোষ সেই পর্যায়ে নেই, অসমেও এক বিরাট সংখ্যক মানুষ সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সরাসরি লাভ পাচ্ছে। কেবল দু’টো ফ্যাক্টর এই হিসেবকে বদলে দিতে পারে – (১) জুবিনের মৃত্যু নিয়ে আবার যদি কোনও সরকার বিরোধী আবেগ ছড়িয়ে পড়ে তাহলে হিসেব বদলাতে পারে, (২) এক সম্পূর্ণ বিরোধী ঐক্য অসমে হিমন্ত বিশ্বশর্মার সরকারকে ফেলে দেবেই, এরকমটা না বললেও বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করাবে, এটা নিশ্চিত। কিন্তু সেসবের এখনও কোনও চিহ্ন নেই মানে এই মূহুর্তে অসমের ফলাফল নতুন সভাপতির দিকে।

এবং বাংলা, হ্যাঁ সভাপতিকে এবার থেকে বাংলাতে ঘন ঘন আসতে হবে। শুনেছি তাঁর টিমে বাঙালি তরুণ আছে, সেসবের সাহায্য তিনি পাবেন কিন্তু এখানে খেলা তাঁর হাতে নেই, তাঁর হাতে এই লড়াইয়ের এক আনাও ছেড়ে দেবেন না অমিত শাহ বা নরেন্দ্র মোদি, এখানে তাঁরাই খেলবেন কারণ তাঁরা বুঝতে পেরেছেন এবারেও কিছু না করে উঠতে পারলে, বাংলাতে ঝান্ডা ধরারও লোক থাকবে না। কিন্তু খাতায় কলমে তো ঐ নীতিন নবীনই দলের সভাপতি। হ্যাঁ, এটা খুব জেনে বুঝেই করেছেন আমাদের দুই গুজরাতি মোটাভাই। প্রথমত ওনারা আসার পর থেকেই বিজেপিতে বামন চাষ চলছে। বিজেপির হাতে আছে ১৩টা রাজ্য, হ্যাঁ, যেখানে বিজেপি একলাই তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই রাজ্য চালায়। মোদি-শাহের সরাসরি নেতৃত্বেই ২০১৯, ২০২১, ২০২৪-এ বাংলাতে হেরেছে বিজেপি। কেবল হেরেছেন বললেও ভুল হবে এক উচ্চতায় যওয়ার পরে সেই উচ্চতা থেকে নামার ছবিও খুব পরিস্কার। গত ২০২১-এর নির্বাচনে বিজেপি আর তৃণমূল দলের ভোটে ১০ শতাংশের ফারাক। এবং মনে রাখুন পশ্চিমবঙ্গে মাঝের দল বলে এখনও কিছুই নেই, যারা ছিল, সেই সিপিএম এখন এক প্রান্তিক শক্তি। কাজেই দুই কি তিন শতাংশ ভোট জোগাড় করতেই গা ঘেমে যাচ্ছে বিজেপির। ২০১৯-এর ছপ্পড় ফাড়কে সিপিএম-এর ভোটব্যাঙ্কটা এসে ঢুকেছিল বিজেপির বাক্সে। হ্যাঁ, সিপিএম-এর র‍্যাঙ্ক অ্যান্ড ফাইল তৃণমূল স্থানীয় নেতাদের ঝাড় থেকে বাঁচতেই বিজেপির ছাতার তলায় গিয়েছিল। সিপিএম-এর অসম্ভব মমতা বিরোধিতার ফলেই এটা ঘটেছিল, মমতা বিরোধিতাই সমস্ত আদর্শের কাঁথায় আগুন লাগিয়েই বিজেপিকেও একটা সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ‘আগে রাম পরে বাম’-এর মতো এক উজবুক স্লোগানকে তুলে ধরেছিল। কিন্তু সেই পর্যায়ও শেষ। এখন পড়ে থাকা সিপিএম এর ৬ শতাংশ ভোটের আরও ক্ষয় কি সম্ভব? জানা নেই কিন্তু সেটার মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে সেই রাজনীতি, সংসদীয় রাজনীতির অনিশ্চয়তা। সেবারে হঠাৎ ১৮টা আসন পাওয়ার পরে বিজেপির, বিশেষ করে মোদি–শাহের মনে হয়েছিল, তৃণমূল দলটাকে খানিক ভেঙে কিছু রত্ন মণি মাণিক্যকে বের করে নিয়ে আসতে পারলেই কেল্লা ফতেহ। তো শুরু হয়েছিল ক্যাম্প করে যোগদান পর্ব। কিন্তু ২০২১-এ ফারাক বেড়ে ১০ শতাংশ। সেদিন এই দলভাঙা নব্য বিজেপির দল বুঝিয়েছিল, ‘সেন্টার্ল ফোর্স দিন’, ‘বুথে পাহারাদারি বাড়ান’, ‘সিবিআই-ইডির সাঁড়াশি আক্রমণ চলুক’, ‘জয় তো এসেই গিয়েছে’। কিন্তু একুশের ফলাফল বিজেপি উচ্চতম নেতারা, মোদি–শাহ বুঝতে পারেননি। বাংলার রাজনীতিতে সংগঠন আর ভোটের চলন নিয়ে সামান্য নাড়াঘাটা করলে তাঁরা বুঝতে পারতেন যে, (১) বাংলার মাটির সঙ্গে শেকড়ের যোগাযোগ না থাকলে বাংলাতে জায়গা পাওয়া কঠিন, (২) বাংলায় ভোট হয় না, ভোট করানো হয়, প্রতিটা ইঞ্চিতে সংগঠন দরকার, প্রতিটা মিলিমিটারে লড়াই হয়। একটা নতুন অটো রুট মানে ৫০০ ভোট, একটা নতুন ফুটপাথের পেছনে হকারদের বসানো মানে দেড় হাজার ভোট, একটা অঞ্চলে ধানে পোকা ধরলে, শিলাবৃষ্টিতে সব্জির ক্ষতি হলে সহায়তা মূলের ঘোষণা মানে ৬ থেকে ৮ লক্ষ ভোট, একটা বন্যা, একটা ছোট বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগে লেপটে থাকে নির্বাচনী পাটিগণিত। হ্যাঁ, কার্টিসি বাম জামানা, আরও ভালো করে বললে সিপিএম সংগঠনের এই নুয়ান্সেসগুলো এখন তৃণমূল শিখরে নিয়ে গিয়েছে, তার পাল্লা দিতে গেলে সেই উচ্চতাতে উঠতে তো হবে। সিপিএম এর ঐ ৬ থেকে ৭ শতাংশ ভোটের ৩ থেকে ৪ শতাংশকে নিজের দিকে নিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনও অঙ্কই বিজেপিকে ২০২৬-এ অন্তত একটা জোর লড়াই এর জায়গাতে নিয়ে যেতে পারবে না।

তাহলে নতুন সভাপতির কী হবে? ছোট্টবেলায় পাইরেটস, জলদস্যুর প্রচুর গল্প পড়তাম, জলদস্যুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশের সেনারা যখন যৌথ টহলদারি শুরু করল, তখন ঠিক হয়েছিল, জলদস্যুদের ধরা মাত্র তাদের নেতাটিকে ঢিচক্যাঁও, মানে প্রথমেই গুলি করে মারা হোক বা ঝুলিয়ে দেওয়া হোক মাস্তুলের তলায়। সবাই দেখতে পাবে, ভয় পাবে। তো সেই সর্দার জলদস্যুদের সর্দারকে চিনবে কী করে? কেন? তাদের মাথার সেই টুপি, যা জলদস্যুদের সর্দারেরাই পরত। তো সেই সময়ে বেশ কিছু জলদস্যুদের দল তাদের নেতাদের বাঁচানোর জন্য দলের এক তরুণ যুবককে ওই টুপি পরিয়ে দিত, সর্দার বেঁচে যেত, আবার দল তৈরি করে ফেলত। বিজেপি জিতলে বিজয় সভাতে নীতিন নবীন মোদি-শাহের পিছনে ঢাকা পড়ে যাবে, আর হারলে পদত্যাগও করতে হতে পারে। হ্যাঁ, বিজেপি সভাপতি নির্বাচিত হয় না বটে, কিন্তু নির্বাচনে হেরে গেলে অনেকেই পদত্যাগ করেছেন, আদবানি থেকে রাজনাথ সিং বা ভেঙ্কাইয়া নাইডু হারের পরে পদত্যাগ করেছেন। যদি খানিক ক্ষমতা বাড়ে কেরল, বাংলা, তামিলনাড়ুতে। অসমে বিজেপি থেকেই যায়, তাহলে উনিও থেকে যাবেন। কিন্তু আবার আসবে ২০২৭, আবার লড়াই। নবীনের সামনে একের পর এক অগ্নিপরীক্ষা আছে লাইন দিয়ে, ২০২৬ যার শুরুয়াত। শুনলাম একদা বিজেপির যুব মোর্চার বাঙালি বন্ধুর কাছে দু’একটা বাংলা শব্দ শেখার চেষ্টা করছেন নীতিন নবীন, আমাদের আবার শুনতে হবে, ‘চোলায় চোলায় বাজবি জোয়ের ভেড়ি’।

দেখুন আরও খবর:

Read More

Latest News

evos gaming

https://www.annabelle-candy.com/about/ JUARA88 situs slot gacor situs slot gacor joker toto slot maxwin slot maxwin situs bola WATITOTO LGO188 DEPOBOS https://www.demeral.com/it/podcast xgo88 WDBOS SLOT GACOR toto togel slot toto togel slot poker slot gacor idn poker 88 slot gacor mix parlay idn slot https://www.annabelle-candy.com/about/ https://www.demeral.com/it/demeral_software/ nobu99 toto slot