হুগলি (শ্রীরামপুর)- শিক্ষকতা শুধুমাত্র জীবিকা নয়, বেঁচে থাকার অক্সিজেন তা আরও একবার প্রমাণ করলেন শ্রীরামপুরের শিক্ষিকা। অবসরের পরেও শিক্ষকতা করে চলছেন স্কুলে। বয়স ষাটোর্ধ হওয়ায় অবসর পেলেও এখনও শিক্ষকতা থেকে অবসর নেননি তিনি। এখনও নিয়মিত স্কুলে ক্লাস করেন তিনি।
শ্রীরামপুর রাজ্যধরপুর নেতাজি গার্লস হাই স্কুলের (Serampore Rajyadharpur Netaji Girls High School ) শিক্ষিকা সুপর্ণা ঘোষ (Teacher Suparna Ghosh) । তিনি ইতিহাসের শিক্ষিকা।
প্রতিদিন নিয়মিত সময়ে স্কুলে যান তিনি। নিচু ক্লাসে ইংরেজি এবং বাংলা ক্লাস নেন। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত ইতিহাসের ক্লাস নেন তিনি।
বর্তমানে স্বামী এবং মেয়েকে নিয়ে শ্রীরামপুর লেনিন সরনিতে থাকেন তিনি। স্বামী পেশায় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এবং মেয়ে বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ইতিহাসের শিক্ষিকা।
তবে তাঁর জন্ম দুর্গাপুর শিল্প নগরীতে। সেখানেই ছোট থেকে বড় হয়েছেন তিনি। প্রথমে গিরিডিতে একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন সুপর্ণা দেবী। এরপর বিয়ে হয়ে চলে আসেন হওড়ার আমতায়। ১৯৯৭ সালের মে মাসে চাকরি পান শ্রীরামপুর রাজ্যধরপুর গার্লস হাই স্কুলে। চাকরির সুবিধার জন্য শ্রীরামপুরে লেনিন সরণিতে বাড়ি করে বসবাস শুরু করেন। এই বছর ৩১ অক্টোবর তিনি স্কুলের শিক্ষকতা থেকে অবসর নেন। তবে অবসরের পর একদিন ও ঘরে থাকেননি তিনি। অবসরের পরের দিন থেকে আজও স্কুলে শিক্ষকতা করে চলেছেন তিনি।
আরও পড়ুন- শ্বশুরকে ‘বাবা’ বানিয়ে ভোটার তালিকায় নাম! হ্যামিলটনগঞ্জে চাঞ্চল্য
সুপর্ণা ঘোষ বলেন, দীর্ঘ আঠাশ বছর শিক্ষকতা করেছেন এই স্কুলে। এর আগেও ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে শিক্ষকতা করেছি। ছাত্র ছাত্রীদের সাথে একটা সম্পর্কের টান তৈরি হয়ে গেছে। শিক্ষকতা আমার পেশা নয় এটা আমার কাছে বেঁচে থাকার অক্সিজেন।
এছাড়াও দেখছি স্কুলে ছাত্রীর তুলনায় শিক্ষক শিক্ষিকা কম রয়েছে। বর্তমানে ১২৫০ জন ছাত্রী রয়েছে স্কুলে। স্থায়ী শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছেন ১৮ জন মাত্র। স্কুলে পড়ানোর জন্য ২ জন পার্শ্ব শিক্ষিকা এবং ৩ জন চুক্তি ভিত্তিক শিক্ষিকা রয়েছেন। ছাত্রীদের মাঝপথে ছেড়ে যাওয়াটা ঠিক হবে না। এটা আমার নৈতিক দায়িত্ব। তাই এখনও নিয়মিত স্কুলে ক্লাস নিয়ে চলেছি।
স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী নেহা পাত্র বলেন, দিদিমণি খুব ভালো মানুষ। তাঁর অবসরের খবর পেয়ে মন খারাপ হয়েছিল সকলেরই। কিন্তু অবসরের পরও তিনি প্রতিদিন স্কুলে এসে আমাদের ক্লাস নেন। এতে আমরা খুব খুশি।
দেখুন আরও খবর-







