ওয়েব ডেস্ক: মণিপুরে গুরুতর সাংবিধানিক জটিলতা, দেড় বছর বসেনি মণিপুর বিধানসভা (Manipur Assembly)। মণিপুরে দ্বাদশ বিধানসভার ষষ্ঠ অধিবেশন শেষ হয় ২৪ আগস্ট ২০২৪। এর পরের ছ’মাস শেষ হওয়ার কথা ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫। ছ’মাসের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন ডাকার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণেই রাজ্যপাল অজয় কুমার ভল্লা (Ajay Kumar Bhalla) দ্বাদশ বিধানসভার সপ্তম অধিবেশন ডাকেন ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ কিন্তু ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ দু’টি ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটল। সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নংথোমবাম বীরেন সিংহ পদত্যাগ করলেন। জাতিদাঙ্গা বিধ্বস্ত মণিপুরে আর কেউ সরকার গড়তে এগিয়ে এলেন না। ওই দিনই দ্বিতীয় ব্যতিক্রমী ঘটনা, রাজ্যপাল অজয় কুমার ভল্লা বিধানসভার অধিবেশন ডাকা সংক্রান্ত নিজের বিজ্ঞপ্তি বাতিল (Null and Void) ঘোষণা করেন। সেই থেকে এখনও পর্যন্ত বিধানসভা অধিবেশন বসেনি।
এদিকে মণিপুরে কোনও সরকার না গড়তে পারার ফলে ছয় মাসের জন্য রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হয় ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, প্রায় ছ’মাস পরে আরও একবার ছ’মাসের জন্য বাড়ানো হয়। রাষ্ট্রপতির শাসন শেষ হওয়ার কথা ছিল ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। এর ক’দিন আগে ৪ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে ঘোষণা হয়, মণিপুরে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন মেইতেই জনগোষ্ঠীর ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিংহ, উপমুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন কুকি-জো সম্প্রদায়ের নেতা কংপোকপি। নাগা সম্প্রদায়ের থেকেও একজন উপমুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন বলে জানানো হয়।
আরও পড়ুন:সংসদে মোদির অনুপস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ প্রিয়াঙ্কার, এপস্টেইন ইস্যু টেনে আক্রমণ
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, প্রায় দেড় বছর বিধানসভার অধিবেশন না বসার পরে সেই বিধানসভার অস্তিত্ব আর আছে কি? সংবিধানের ১৭৪(১) ধারা অনুযায়ী বিধানসভার দু’টি অধিবেশনের মধ্যে সর্বাধিক ৬ মাসের ফারাক থাকতে পারে। সেই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এখানে মানা হচ্ছে না, সেটা স্পষ্ট। ফলে যারাই সরকার গড়ুক না কেন, তা কতটা বৈধ সাংবিধানিক সরকার হবে, সে প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। সংবিধান মানতে গেলে মণিপুরে বিধানসভা ভোট করা দরকার, কিন্তু হেরে যাওয়ার ভয়ে বিজেপি তা এড়িয়ে যাচ্ছে। সংবিধানের ১৭৪ নম্বর ধারায় অবশ্য ছ’মাসের মধ্যে বিধানসভার অধিবেশন না বসলে কি হবে, তা বলা নেই। সেটাই এই বিরাট সাংবিধানিক বিতর্কের ‘গ্রে এরিয়া’ বা ধূসর এলাকা।







