ওয়েব ডেস্ক: বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর গণনা শুরু হতেই ‘এক্স’ আওয়ামী লীগের ভেরিফাইড পেজ বাংলাদেশের নির্বাচন (Bangladesh General Election 2026) নিয়ে ঝাঁঝালো বার্তা দিলেন শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। সেখানে তিনি এই নির্বাচন প্রত্যাখান করার জন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানান। বাংলাদেশের নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ ও ‘ভোটবিহীন নাটক’ বলে তীব্র আক্রমণ করলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।শেখ হাসিনা তাঁর বার্তায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ‘খুনি-ফ্যাসিস্ট’ এবং ‘অসাংবিধানিক’ বলে অভিহিত করেছেন।
বাংলাদেশে ভোটদানের হার কম হওয়া নিয়ে সরব হলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লিগের তরফে বিবৃতিতে বলা হল, খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনুসের সাজানো ভুয়ো নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করার জন্য জনগণের নেতা শেখ হাসিনা দেশের সর্বস্তরের মানুষ, মা-বোন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ—সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। শেখ হাসিনা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দেশের ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল ‘নগণ্য’। রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বেশ কিছু জায়গায় বহু ভোটকেন্দ্র ছিল ‘ভোটারশূন্য’।হাসিনার দাবি, দেশবাসী এই ‘প্রহসনের ভোটকে প্রত্যাখান’ করেছেন। সে জন্য তাঁদের ধন্যবাদও জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রধান।
আরও পড়ুন: বিএনপি ক্ষমতায় এলে কেমন হবে দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক? অবস্থান স্পষ্ট করলেন তারেকের উপদেষ্টা
বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের সচিব জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেশের ৩২,৭৮৯ কেন্দ্রে ভোটের হার ছিল ৩২.৮৮ শতাংশ। হাসিনা জানান, দেশের মানুষ এই ভোটকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি লেখেন, ‘অবৈধ এবং অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখলকারী ইউনূসের আজকের তথাকথিত নির্বাচন ছিল মূলত একটি সুপরিকল্পিত প্রহসন। জনগণের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সংবিধানের চেতনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আয়োজন করা হয়েছে আওয়ামী লীগবিহীন— ভোটারবিহীন প্রতারণামূলক নির্বাচন।’এই বাংলাদেশ নির্বাচনে হাসিনার দল আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করতে পারেনি। তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছিল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। হাসিনা জানান, বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগ ছাড়া এই ভোটকে ‘প্রত্যাখ্যান’ করেছেন।
হাসিনা থামেননি। তিনি ভোট কেনাবেচা, কারচুপির অভিযোগও করেছেন। ভোটে হিংসা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। ১১ ফেব্রুয়ারির সন্ধ্যা থেকেই কেন্দ্র দখল, গুলিবর্ষণ, ব্যাপকভাবে টাকা দিয়ে ভোট কেনা, ব্যালট পেপারে সিল মারা এবং ফলাফল শিটে এজেন্টদের জোর করে সই নেওয়ার মাধ্যমে এই প্রহসনের সূচনা হয়। ১২ ফেব্রুয়ারির সকাল থেকে দেশের অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত কম। রাজধানীসহ অনেক জায়গায় বহু কেন্দ্র কার্যত ফাঁকা ছিল। নির্বাচন কমিশনের ব্রিফিং অনুযায়ী সকাল ১১টা পর্যন্ত (সাড়ে তিন ঘণ্টায়) ভোট পড়েছে মাত্র ১৪.৯৬ শতাংশ। ভোটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এত কম অংশগ্রহণই প্রমাণ করে যে আওয়ামী লীগ ছাড়া এই নির্বাচন জনগণ বর্জন করেছে। দেশের অধিকাংশ কেন্দ্র কার্যত ভোটারশূন্য হয়ে পড়ে। এছাড়া বিশেষ করে ঢাকায় ভোটার তালিকায় অস্বাভাবিক হারে ভোটার বৃদ্ধির বিষয়টি অত্যন্ত সন্দেহজনক ও অবিশ্বাস্য বলে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।







