ঘাটাল : লাগাতার বৃষ্টির জেরে নদীর জল বাড়তেই পশ্চিম মেদিনীপুরের (West Midnapore) ঘাটালে পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। ঝুমি নদীর (River) জল ঢুকে পড়েছে মনসুকার পার্বতীচক, প্রসাদচক, ধোসা চাঁদপুর-সহ একাধিক গ্রামে। কোথাও হাঁটুজল, কোথাও তার থেকেও বেশি জল জমে রয়েছে। বহু রাস্তা জলের তলায় চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক যাতায়াত কার্যত ব্যাহত। প্রয়োজনীয় কাজে বেরোতে বাধ্য হয়ে নৌকা ও ডিঙির সাহায্য নিচ্ছেন স্থানীয়রা।
শুধু রাস্তাঘাট নয়, প্লাবনের জল ঢুকে পড়ছে বাড়ির চৌহদ্দিতেও। ফলে একদিকে জলমগ্ন পথ, অন্যদিকে বাড়ির উঠোনে জল—দুই দিক থেকেই সমস্যায় পড়েছেন বাসিন্দারা। এই পরিস্থিতির মধ্যেই শিলাবতী নদীর উপর ঘাটাল (Ghatal) পুরসভার সদরঘাটের ঐতিহ্যবাহী ভাসাপোলের একাংশ ভেঙে পড়ায় আরও বড় ধাক্কা নেমে এসেছে যোগাযোগ ব্যবস্থায়।
আরও খবর : ভোট মিটলেও বাংলায় থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, আরও ৫০ কোম্পানি পাঠাচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক! কেন?
ব্রিটিশ আমলে তৈরি এই ভাসাপোল ঘাটালের (Ghatal) পুরনো যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম নিদর্শন। নীলকর সাহেবদের সময় শিলাবতীর উপর পরপর নৌকা ভাসিয়ে তার উপর পাটাতন বসিয়ে এই পথ তৈরি হয়েছিল বলে স্থানীয় ইতিহাস থেকে জানা যায়। দীর্ঘদিন ধরে নদী পারাপারের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল এটি। সম্প্রতি নদীর স্রোতে ভেসে আসা বাঁশের সাঁকো ও জমে থাকা পানার চাপে ভাসাপোলে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। পরে প্রবল স্রোতের ধাক্কায় এর একটি বড় অংশ ভেঙে যায় এবং দুটি নৌকাও ভেসে যায়।
ফলে একদিকে ঝুমি নদীর প্লাবনে গ্রামের পর গ্রাম জলমগ্ন, অন্যদিকে শিলাবতীর স্রোতে ভেঙে পড়েছে ঘাটালের ঐতিহ্যবাহী যোগাযোগ ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে বন্যা পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। দ্রুত ভাসাপোল মেরামত করে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না করা গেলে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সমস্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা।







