HomeScrollঅবসরের পরেও প্রতিদিন স্কুলে, ৩ বছরে ছুটি মাত্র ৩ দিন! বেতনের সিংহভাগই...
East Burdwan

অবসরের পরেও প্রতিদিন স্কুলে, ৩ বছরে ছুটি মাত্র ৩ দিন! বেতনের সিংহভাগই দিলেন বিদ্যালয়ের উন্নয়নে, কে সেই শিক্ষক?

শিক্ষকতা তাঁর কাছে পেশা নয়, জীবনের ব্রত। অবসরের পরেও প্রতিদিন নিয়ম করে স্কুলে এসে পড়ুয়াদের ক্লাস নিচ্ছেন পূর্ব বর্ধমানের (Purba Bardhaman) কালনার (Kalna) কুতুবপুর মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক গঙ্গাধর পাল।

ওয়েব ডেস্ক : শিক্ষকতা থেকে অবসর নিয়েছেন প্রায় তিন বছর আগে। কিন্তু অবসরের পরেও থেমে যায়নি তাঁর শিক্ষকতার পথচলা। পূর্ব বর্ধমানের কালনা মহকুমার কুতুবপুর মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রের (Kutubpur Madhyamik Shiksha Kendra) শিক্ষক গঙ্গাধর পাল (Gangadhar Pal) ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে অবসর নেন। তারপর থেকে আজও প্রতিদিন নিয়ম করে বিদ্যালয়ে এসে পড়ুয়াদের ক্লাস নেন তিনি।

শুধু অবসরের পরেও পড়ানো নয়, চাকরি জীবনেও তাঁর কর্মনিষ্ঠার নজির ছিল ব্যতিক্রমী। দীর্ঘ কর্মজীবনে মাত্র তিন দিন ছুটি নিয়েছিলেন গঙ্গাধরবাবু। তাঁর কথায়, বিদ্যালয়, শিক্ষা এবং ছাত্রছাত্রীদের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি এই কাজ করে চলেছেন।

আরও খবর :   নিম্নচাপ সরেও স্বস্তি নেই বাংলায়, শনিবার ফের বৃষ্টির দাপট! কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় সতর্কতা

তবে তাঁর অবদান শুধু ক্লাস নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চাকরি জীবনে পাওয়া বেতনের মধ্যে নিজের জন্য মাত্র এক টাকা রেখেছেন তিনি। সেই এক টাকা ‘গুরুদক্ষিণা’ হিসেবে নিজের কাছে রেখে বাকি অর্থ বিদ্যালয়ের উন্নয়নে ব্যয় করেছেন। স্কুলে শৌচালয়, শ্রেণিকক্ষ, চেয়ার-বেঞ্চ, লাইব্রেরি, পানীয় জল ও আলোর মতো বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরিতে নিজের সঞ্চয় থেকে সাহায্য করেছেন তিনি।

মূলত, গঙ্গাধর পালের এই মানসিকতার পিছনে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন তাঁর মা। মা তাঁকে বলেছিলেন, তাঁদের সংসারে আর্থিক সমস্যা নেই। কিন্তু তিনি যে স্কুলে শিক্ষকতা করেন, সেখানে অনেক পড়ুয়ার বই-খাতা কেনার সামর্থ্যও নেই। মায়ের সেই কথা মনে রেখেই সুযোগ পেলেই পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

বর্তমানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-সংকট মেটাতেও সাহায্য করছেন গঙ্গাধরবাবু। নিজের সঞ্চয় থেকে প্রায় ছয় লক্ষ টাকা রেখে দিয়েছেন স্কুলের জন্য। সেই অর্থের সুদ থেকে বর্তমানে দু’জন শিক্ষককে পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে। সরকারি নিয়োগ না হলেও পড়ুয়াদের স্বার্থে এই উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায় (Soumitra Bandyopadhyay)-এর কথায়, গঙ্গাধর পালের এই উদ্যোগ সত্যিই মহৎ। অবসরের পরেও স্কুল ও ছাত্রছাত্রীদের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা তাঁকে অনন্য করে তুলেছে।

[youtube-feed feed=1]
Read More

Latest News