Saturday, January 17, 2026
HomeScrollAajke | হে মহামান্য ইলেকশন কমিশনার, আপনি কি কারোর নাগরিকত্ব কাড়ার অধিকারী?
Aajke

Aajke | হে মহামান্য ইলেকশন কমিশনার, আপনি কি কারোর নাগরিকত্ব কাড়ার অধিকারী?

ইলেকশন কমিশন তো এখন এক ধমকিতে চলছে, ‘ইসকো বুলাও, উসকো বুলাও’!

Written By
অনিকেত চট্টোপাধ্যায়

সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেছেন, ‘Is it required under the scheme of Citizenship Act that ERO’s finding be referred for an appropriate decision?…can you take away a voter’s right till a decision is taken by the Central government?’ সহজ বাংলাটা হল, ‘নাগরিকত্ব আইনে একজন নির্বাচন আধিকারিক এর সিদ্ধান্তই কি প্রযোজ্য হবে? নাগরিক নাকি নাগরিক নয়,কেন্দ্রীয় সরকার সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই একজনের ভোটের অধিকার কি কেড়ে নেওয়া যায়?’ হ্যাঁ, গাঁয়ে না মানে আপনিই মোড়ল! এই এলেকশন কমিশনকে ঠিক এই প্রশ্নটা আমরা করেই চলেছি বহুদিন ধরে, ঠিক সেই প্রশ্নটাই এবারে এল সর্বোচ্চ আদালতের এক বিচারপতির কাছ থেকে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন করাবেন, নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকার সংশোধন করবেন, কিন্তু সেই সংশোধনের মানে এই নয় যে, তাঁরা কে নাগরিক, কে নাগরিক নয় সেটা খোঁজার দায়িত্ব পেয়েছেন। না, সেই অধিকার তাদের নেই। তারা ঘরে যাবেন, নাম বয়স ঠিকানা মেলাবেন, না পেলে স্থানান্তরিত লিখবেন, মারা গেলে মৃত লিখবেন, নতুন সংযোজন হলে তা তালিকাতে রাখবেন। হ্যাঁ, সেটাই তাদের কাজ। অমিত শাহ ওনার পুরাতন ভৃত্যকে দিয়ে বকলমে এনআরসি করাতে নেমেছেন যা ইলেকশন কমিশনের এক্তিয়ারভুক্ত নয়। এবং সদ্য মোড়লির দায়িত্ব পেয়ে উত্তেজনা আর আনন্দে তিনি আরও ছড়াচ্ছেন, ছড়িয়ে লাট করছেন, তা একে একে সামনে আসছে। কিন্তু এটাই শেষ নয় আরও বড় কেলেঙ্কারির জন্য অপেক্ষা করুন। সেই কেলেঙ্কারির তালিকাই বিষয় আজকে, হে মহামান্য ইলেকশন কমিশনার, আপনি কারোর নাগরিকত্ব কাড়ার অধিকারী?

প্রথমে অমর্ত্য সেন, জয় গোস্বামীকে জানাতে হল যে, না তাঁরা ভারতের নাগরিক, তাঁরা বাঙালি, তাঁরা সেই বঙ্গের মানুষ যাঁদের যুবকরা সবচেয়ে বেশি রক্ত দিয়েছিল দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে। তারপরে সেই তালিকাতে দেব। লোকজন কিঞ্চিত দুঃখিত, শুভশ্রীকে ডাকলে এই বাজারে একটা ভালো রোমান্টিক কমেডি দেখা যেত, তারকাঁটার বেড়ার ওপারে শুভশ্রী এপারে দেব, মাঝে বিএসেফ আর বিডিআর। এন কে সলিলের ডায়ালগ। সেসবের পরে এবারে ডেকে পাঠানো হয়েছে টুটু বসুকে, যাঁর ভাল নাম গুগল না করলে খুব বেশি লোক বলতেই পারবে না, মানে বলতে চাইছি যাঁকে ডাক নামেই বাংলার মানুষ চেনে, দিদিমণির দৌলতে তিনি সাংসদও হয়েছেন, তাঁকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি বাংলাদেশি নন, একজন মোহনবাগানির কাছে কতটা অপমানজনক তা ওই বেগুনখেকোরা বুঝতেও পারবে না। তো এই টুটু বসুকে তাঁর স্বর্ণযুগে ডাকলে যে বিশেষণ, বিশেষ্য, অব্যয়, সর্বনাম মুখে লক্ষ মোহনবাগানীরা ওই ইলেকশন কমিশনের গেটে জড়ো হতেন, তা ভেবেও আমি শিহরিত হচ্ছি। ওদিকে আমাদের শান্তিকুঞ্জের মেজখোকা বলেছেন তো কী? ডাকতেই পারে?

আরও পড়ুন: Aajke | এসআইআর কি আপাতত স্থগিত হবে?

সুকান্ত মজুমদার আরও এককাঠি এগিয়ে বলেছেন, ‘একজন মার্ডারার আর অমর্ত্য সেনের নাগরিক হিসেবে তো আলাদা প্রেফারেন্স পাওয়ার কথা নয়’, মানে প্রত্যেকের সমান অধিকার। এবং এই একঘর নগর কেত্তনের মধ্যেই হাতে এল ইলেকশন কমিশনের সার্কুলারের এক অংশ, ছ’সন্তানের বাপ আপনি? তাহলে কাগজপত্র নিয়ে আসুন, আপনি সন্দেহের তালিকাতে আছেন। এই বাজারে সেই অকুতোভয় বাপের ইন্টারভিউ হবে, চার ছেলে অলরেডি ভোটার, উনি এখন ৮০ পার করে একাশিতে, তদন্ত করে দেখা হবে এই সন্তানেরা তাঁরই সন্তান কী না, এতদিন পরে সে প্রশ্নে ওনার চেয়েও বেশি বিব্রত ছয় সন্তানের মা, পই পই করে বারণ করার পরেও। কিন্তু ইলেকশন কমিশন তো এখন এক ধমকিতে চলছে, ‘ইসকো বুলাও, উসকো বুলাও’। ছয় সন্তান হলেই তাঁদের মাতৃত্ব পিতৃত্ব যাচাই হবে, লিখিত জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এবং এই সার্কুলারের ঘোর কাটতে না কাটতেই খবর এল, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিটা জেলাতে ভূতেদের হাঁটাচ্ছেন, ঘোরাচ্ছেন, ফেরাচ্ছেন। মানে নির্বাচন কমিশন এনাদেরকে মৃত বলে ঘোষণা করেই দিয়েছে, অভিষেক তাঁদেরকে র‍্যাম্পে হাটাচ্ছেন, গিনিজ বুক অফ রেকর্ডস যাওয়া উচিত এই জ্ঞানেষ কুমারের নাম। আমরা আমাদের দর্শকদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে যে, পিতার ছয় সন্তান, ছেলে বা মেয়ে যাই হোক, তাঁদের এবং সেই পিতা মাতাকে ডেকে পাঠানো হবে, যাচাই করা হবে তাঁদের কাগজপত্র। আচ্ছা এটা নির্বাচন কমিশন না পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র?

শেষ করার আগে আরেকটা কেলেঙ্কারির কথা জানাই। মঙ্গলবার বাঁকুড়ার তালড্যাংরায় একটা গাড়িকে ধাওয়া করে ধরে ফেলেন তৃণমূলের স্থানীয় কর্মীরা, গাড়িতে করে বিজাপি কর্মীরা যাচ্ছিলেন, কিন্তু গাড়ির সামনে ইলেকশন কমিশনের বোর্ড ছিল। অভিযোগ, সেই গাড়িতে মেলে নির্বাচন কমিশনের তিন-চার হাজার সাত নম্বর ফর্ম। ভোটার তালিকায় থাকা যে কারও নাম বাদ দেওয়ার জন্য এই ফর্ম জমা দিতে হয়। পুলিশ এসে সেই ফর্ম বাজেয়াপ্ত করেছে। ফর্ম-৭ বাজেয়াপ্ত নিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল বলেন, ‘ফর্ম-৭ যে কেউ সর্বোচ্চ ১০টা জমা দিতে পারেন। বেশি সংখ্যক ফর্ম-৭ রাখা নিয়ম বহির্ভূত নয়।’ ফর্মগুলো যে তাদের, তা অস্বীকার করেনি বিজেপিও। কিন্তু কথা হচ্ছে বিজেপি কি নির্বাচন কমিশনের এই লক্ষ ভোট বাদ দেবার পরেও খুশি নন বলেই আরও ডিলিশনের জন্য ফর্ম নিয়ে যাচ্ছিলেন? হ্যাঁ, এগুলো কিন্তু কেলেঙ্কারির মাথাটাও নয়, কেবল টিকি দেখতে পাচ্ছেন, পুরোটা বের হবেই একদিন, সেদিন খুব দুরেও নয়।

দেখুন আরও খবর:

Read More

Latest News