ওয়েব ডেস্ক: আরব (Arab) দুনিয়ায় সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার জেরে বিমান চলাচলে বড়সড় প্রভাব পড়েছে। তার সরাসরি ধাক্কা লাগছে ভারতীয় যাত্রীদের উপর। গত কয়েক দিনে হাজার হাজার ভারতীয় দেশে ফিরতে গিয়ে চরম সমস্যায় পড়ছেন, কারণ একটাই! আকাশছোঁয়া বিমানভাড়া (Dubai Ticket Price)। কিছু রুটে একমুখী টিকিটের দাম প্রায় ১ লক্ষ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। ধীরে ধীরে বিমান পরিষেবা চালু হলেও পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। ফ্লাইটের সংখ্যা কম, যাত্রী বেশি-এই অবস্থাতেই ভাড়া কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে।
সামরিক উত্তেজনার জেরে কয়েকদিন প্রায় স্তব্ধ ছিল বিমান চলাচল। পরে ধীরে ধীরে পরিষেবা শুরু হয়েছে। ৪ মার্চ ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শহরের মধ্যে প্রায় ৫৮টি বিশেষ ফ্লাইট চালায় ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলি। এর মধ্যে ছিল ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস।
আরও পড়ুন: প্রাথমিক গণনায় এগিয়ে GenZ-র ‘মোস্ট ফেভারিট’ বলেন্দ্রর, পিছনে ওলি
বিদেশি বিমান সংস্থাগুলিও সীমিত পরিষেবা চালু করেছে। কিন্তু স্বাভাবিকের তুলনায় ফ্লাইট এখনও অনেক কম। ফলে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক যাত্রী দেশে ফিরতে চাইছেন, কিন্তু সিটের সংখ্যা কম থাকায় ভাড়া দ্রুত বাড়ছে।এয়ারলাইনগুলির ডাইনামিক প্রাইসিং ব্যবস্থার কারণেও বুকিং বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টিকিটের দাম বেড়ে যাচ্ছে।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা দেখা যাচ্ছে দুবাই–মুম্বই রুটে। সাধারণ সময়ে যেখানে একমুখী টিকিটের দাম থাকে ৫ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকার মধ্যে, সেখানে এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা।
৮ মার্চের সম্ভাব্য ভাড়া অনুযায়ী,
স্পাইসজেট: প্রায় ৫০,৪৩৭ টাকা
ফ্লাইদুবাই: প্রায় ১,০৭,৭৩৭ টাকা
অর্থাৎ স্বাভাবিক ভাড়ার ছয় থেকে সাত গুণ বেশি টাকা দিতে হচ্ছে যাত্রীদের।
এই পরিস্থিতিতে অনেকেই বিকল্প রুট ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে ওমানের মাসকট এখন গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট হয়ে উঠেছে। বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে মাসকটে বিমান চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেক প্রবাসী আবার ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে ওমান বা সৌদি আরবে পৌঁছে ফ্লাইট ধরছেন।
বর্তমানে মাসকট–দিল্লি রুটে ভাড়া,
এয়ার ইন্ডিয়া সরাসরি ফ্লাইট: প্রায় ৪৩,০৮২ টাকা
এয়ার ইন্ডিয়া লে-ওভার ফ্লাইট: প্রায় ১৯,১২৬ টাকা
অন্যদিকে জেদ্দা–মুম্বই রুটে—
ইন্ডিগো: প্রায় ৩৪,৭২৬ টাকা
এয়ার ইন্ডিয়া: প্রায় ১৯,৬১৯ টাকা
যদিও এই ভাড়াও স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি।
এদিকে এমিরেটস জানিয়েছে, আঞ্চলিক আকাশপথ বন্ধ থাকায় ৭ মার্চ পর্যন্ত বেশিরভাগ ফ্লাইট স্থগিত রাখা হয়েছে। আবার কাতার এয়ারওয়েজও সাময়িকভাবে পরিষেবা বন্ধ রেখেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই অস্বাভাবিক ভাড়া বজায় থাকতে পারে। আরও বেশি ফ্লাইট চালু হলে তবেই ধীরে ধীরে ভাড়া কমার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আপাতত উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে ভারতে ফেরা অনেকের কাছেই কঠিন পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।







