HomeBig newsঅভিষেকের আমতলার কার্যালয়ে বুলডোজার, এর ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ কলকাতা হাইকোর্টের
Calcutta High Court

অভিষেকের আমতলার কার্যালয়ে বুলডোজার, এর ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ কলকাতা হাইকোর্টের

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দেন বিচারপতি

ওয়েব ডেস্ক: আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) এমপি কার্যালয় ভবন ভাঙার ঘটনায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বর্তমানে ভবনের যে অবস্থা রয়েছে, সেটাই বহাল থাকবে। নতুন করে কোনও ভাঙার কাজ করা যাবে না। তবে ভবন থেকে পুলিশ জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে ও লুটপাট চালিয়েছে বলে আবেদনকারীর যে অভিযোগ করেছে, তা নিয়ে এই মুহূর্তে কোনও হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি আদালত।

রবিবার জরুরি শুনানিতে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতে দাবি করেন, শনিবার থেকেই ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। পঞ্চায়েত আইনের নিয়ম অনুযায়ী ভবনের মালিককে শুনানির নোটিস দেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। পরিবর্তে সংস্থার এক ডিরেক্টরকে নোটিস দেওয়া হয়েছিল। সুশান্ত মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা পরিষদ পদক্ষেপ করে। ১৫ জুলাই শুনানির দিন ধার্য থাকলেও ৮ জুলাই নোটিস পৌঁছেছিল, অর্থাৎ মাত্র সাত দিনের সময় দেওয়া হয়। অভিযোগের কপি, ভাঙার নির্দেশের কপি কিংবা অভিযোগের ভিত্তি কিছুই আবেদনকারীকে জানানো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর আরও বক্তব্য, সংবিধানের ৩০০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অভিযোগের কপি পাওয়ার অধিকার রয়েছে। বেআইনি নির্মাণ হলেও মালিককে আগে নিজে ভেঙে ফেলার সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু সেই সুযোগও দেওয়া হয়নি। এতে আইনি প্রক্রিয়া ও সাধারণ মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলেও আদালতে (Calcutta High Court) দাবি করা হয়।

আরও খবর : বিশ্বকাপে মেসির রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে, তৃতীয় স্থান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হল ফ্রান্সকে

এর জবাবে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র বলেন, হঠাৎ শুনানি হওয়ায় সব নথি আনা সম্ভব হয়নি। তবে গত ১৩ জুনই কোন আইনের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করা হচ্ছে তা জানানো হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট নির্মাণের কোনও অনুমোদন ছিল না এবং এটি সম্পূর্ণ বেআইনি। এই ধরনের নির্মাণে স্থগিতাদেশ দেওয়া হলে বেআইনি নির্মাণকে উৎসাহ দেওয়া হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, ছুটির দিনে আদালত বসিয়ে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ পাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। জেলা পরিষদের আইনজীবী তাপস মণ্ডল আদালতে জানান, এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের তদন্তে দেখা গিয়েছে ভবনটি অনুমোদিত উচ্চতার চেয়ে ৬.৫ মিটার বেশি। এই নির্মাণের জন্য জেলা পরিষদের অনুমতি প্রয়োজন ছিল, কিন্তু তা নেওয়া হয়নি। গত ২৫ জুনের রিপোর্টের ভিত্তিতে হিয়ারিং অফিসার ভবন ভাঙার নির্দেশ দেন। তিনি আরও জানান, ভাঙার কাজ হচ্ছে ৫০৭ নম্বর দাগে, অথচ আবেদনকারী ৫০৯ নম্বর দাগের উল্লেখ করেছেন।

আদালতে (Calcutta High Court) পাল্টা কিশোর দত্ত বলেন, যদি নির্মাণ বেআইনি হয়, তাহলে আগে মালিককে নিজে ভাঙার জন্য সময় দেওয়া উচিত ছিল। সেই সময়সীমা অতিক্রম করলে জরিমানা বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু কোনও সুযোগ না দিয়েই শনিবার থেকে ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। আদালতে আসার সুযোগ না দিতেই এত তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। জবাবে অ্যাডভোকেট জেনারেল বলেন, নির্মাণ সংক্রান্ত নোটিসের বিষয়টি মালিকপক্ষ জানত। অন্যদিকে বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী জানতে চান, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের নোটিস জমির মালিক আদৌ পেয়েছিলেন কি না এবং ভাঙার নির্দেশের কপি তাঁকে দেওয়া হয়েছিল কি না। তিনি মন্তব্য করেন, মামলাটি নিয়মিত বেঞ্চে না ওঠা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অপেক্ষা করা উচিত ছিল।

সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি মামলাটি নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভাঙার কাজে স্থগিতাদেশ দেন। এই মামলার আবেদিনকারীর আরও আবেদন ছিল, ওই ভবন থেকে কিছু জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। তারা সেখানে লুটপাট চালিয়েছে। যে সব জিনিস নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেগুলি ফেরত দিক পুলিশ। যদিও বিচারপতি রাজা বাসু চৌধুরী ওই আবেদন নাকচ করে দেন। বিচারপতি জানান, আপাতত এই আবেদনে কোনও হস্তক্ষেপ নয়।

[youtube-feed feed=1]
Read More

Latest News