কলকাতা: রাজারহাট বিস্ফোরণকাণ্ডে (Rajarhat Incident) তদন্তে আরও এক ধাপ এগোল পুলিশ। রবিবার এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হল ব্রোকার শাহেনশাহকে। অভিযোগ, ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে মূল অভিযুক্ত শামিমকে রাজারহাটের দক্ষিণ নারায়ণপুরের সুপারিবাগান এলাকার একটি বাড়ি ভাড়া পাইয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকেই শাহেনশাহকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। পাশাপাশি বাড়ির মালিক জুলফিকার আনসারি এবং এক নাবালককেও জেরা করেন তদন্তকারীরা। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর রবিবার শাহেনশাহকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়।
আরও পড়ুন: হাওড়ায় আমুলের দই কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন আজ
তদন্তে উঠে এসেছে, কয়েক দিন আগে শামিম ওই বাড়ির একটি ঘর ভাড়া নেন। অভিযোগ, ঘটনার দিন এক নাবালক একটি সাদা ব্যাগ নিয়ে এসে সেই ঘরে রেখে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনায় অন্তত এক ব্যক্তি আহত হন। বিস্ফোরণের মুহূর্ত সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে বলেও তদন্তকারীদের দাবি।
ঘটনার পর এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালিয়ে আরও দুটি তাজা বোমা উদ্ধার করে। পরে বোম্ব স্কোয়াড সেগুলি নিষ্ক্রিয় করে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র প্রতিনিধিরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যান্য ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য এখন, বিস্ফোরকগুলি কেন মজুত করা হয়েছিল এবং এর নেপথ্যে কোনও বড় নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা। সেই সঙ্গে ভুয়ো পরিচয়পত্র ব্যবহার করে কীভাবে বাড়ি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল এবং এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বিচারাধীন বলেই গণ্য হবে।







