কলকাতা: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎসব রথযাত্রা। জগন্নাথদেবের এই পুণ্যযাত্রাকে কেন্দ্র করে আপামর ভক্তকুলের উন্মাদনা চিরন্তন। তবে এবার কেবল রথ টানা বা মেলার জিলিপিতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না সেই উদযাপন। বাংলা সংস্কৃতির পীঠস্থান রবীন্দ্র সদনের মঞ্চে পরিবেশিত হতে চলেছে এক অনন্য আধ্যাত্মিক ও নান্দনিক মহাযজ্ঞ। আগামী ২৬ জুলাই, ২০২৬ রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছটায় রবীন্দ্র সদনের মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ সাঙ্গীতিক প্রযোজনা ‘জগন্নাথমঙ্গলম্’(Jagannathmangalam)। বাংলার সঙ্গীতজগতে সুপরিচিত এবং অত্যন্ত প্রতিভাবান শিল্পী সৃজন চ্যাটার্জীর সম্পূর্ণ পরিকল্পনা ও পরিচালনায় এই অনুষ্ঠান পরিবেশিত হতে চলেছে। বাংলায় এই প্রথমবার এত বড় মাপে জগন্নাথ সংস্কৃতি নিয়ে এই ধরনের কোনো কাজ মঞ্চস্থ হতে চলেছে যা এক নতুন নজির সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন সংস্কৃতিপ্রেমীরা।

বাংলার নিজস্ব শিল্পমাধ্যম পালাকীর্তন এবং কথকতার ঐতিহ্যকে পাথেয় করে গড়ে উঠেছে এই বিশেষ প্রযোজনা। ‘জগন্নাথমঙ্গলম্’ নামক এই আয়োজনে পদাবলী কীর্তনের পাশাপাশি কীর্তনের বিভিন্ন প্রাচীন ও আধুনিক শৈলী, ধ্রুপদী নৃত্য এবং নাট্যরূপের এক অপূর্ব সৃজনশীল মেলবন্ধন দেখতে পাবেন দর্শক। শ্রীক্ষেত্র পুরী, লীলাময় শ্রীজগন্নাথদেব, তাঁর মহিমান্বিত মন্দির এবং জগন্নাথ সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নানান কিংবদন্তি, ইতিহাস ও ভক্তিমূলক আখ্যান এই মঞ্চে শিল্পের সাবলীল ভাষায় নতুন প্রাণ লাভ করবে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ জন শিল্পীর সম্মিলিত পরিবেশনায় গড়ে উঠবে এই নান্দনিক কোলাজ। সুর, তাল, পদ, অভিনয় ও নৃত্যের যুগলবন্দিতে সৃষ্টি হবে ভক্তিরসের এক পরম শান্তিময় আবহ। এটি কেবল একটি সাধারণ সঙ্গীতানুষ্ঠান নয়, বরং বাংলা কীর্তনের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য এবং শ্রীজগন্নাথের চরণে নিবেদিত এক আন্তরিক ও শৈল্পিক অর্ঘ্য।
গোটা অনুষ্ঠানের রূপরেখাটি অত্যন্ত যত্ন সহকারে সাজানো হয়েছে। রবীন্দ্র সদনের সান্ধ্য পরিবেশকে এক টুকরো শ্রীক্ষেত্রে পরিণত করতে আয়োজনের কোনো খতিয়ান বাকি রাখা হয়নি। মূল অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে থাকবে হরিনাম সংকীর্তন। এরপর বৈষ্ণব ও রসিকজনদের যথোচিত সম্বর্ধনা জানানো হবে। আর অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত ভক্ত ও দর্শকদের জন্য থাকবে জগন্নাথদেবের মহাপ্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে গোটা সন্ধ্যাটি এক অপূর্ব বৈষ্ণবীয় ভক্তিময় রূপ ধারণ করতে চলেছে যেখানে ভক্তি আর শিল্পের কোনো বিভেদ থাকবে না।
নিজের এই স্বপ্নের প্রজেক্ট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পরিচালক তথা সঙ্গীতশিল্পী সৃজন চ্যাটার্জী অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি জানান যে প্রভু জগন্নাথ দেবের আখ্যান এবার এক সম্পূর্ণ নতুন এবং অভিনব প্রযোজনার মাধ্যমে তিনি এবং তাঁর সহশিল্পীরা মিলে দর্শকদের দরবারে নিয়ে আসতে চলেছেন। রথযাত্রার এই পবিত্র মাসটিকে মাথায় রেখেই এই বিশেষ পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনি আশাবাদী যে সঙ্গীত, নৃত্য ও নাটকের এই কোলাজ দর্শকদের হৃদয় স্পর্শ করবে এবং তাঁদের এক অন্য আধ্যাত্মিক জগতে নিয়ে যাবে। আধ্যাত্মিক চেতনা ও শৈল্পিক উৎকর্ষের এই মিলনমেলা দেখতে ইতিমধ্যেই শহরের সংস্কৃতিমনস্ক ও ঈশ্বরপ্রেমী মানুষের মধ্যে বিপুল উৎসাহ তৈরি হয়েছে। আগামী ২৬ জুলাই রবীন্দ্র সদনের প্রেক্ষাগৃহ যে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।







