কলকাতা: বাংলার মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় ধরনা কর্মসূচি নিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলের (Mamata Dharna Metro Channel) সামনে ধরনা-অবস্থান করছেন মুখ্যমন্ত্রী। এসআইআর ইস্যু নিয়ে দিল্লি পর্যন্ত গিয়েছেন মমতা-অভিষেক। শুধু তা-ই নয়, এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টে নিজে সওয়াল করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তারপরও বাংলার প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। এর মধ্যে ৬৩ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম স্রেফ ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। ধর্মতলায় তৃণমূলের ধর্নামঞ্চে উপস্থিত হয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশের আসনেই বসেছেন তিনি। ধরনা মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে মানুষের অধিকার রক্ষার স্বার্থে পথে নেমেছি।
ধর্মতলার ধর্নামঞ্চে বক্তব্যের শুরুতেই মানুষের অধিকারের প্রসঙ্গ তুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, ”মানুষের অধিকার রক্ষার্থে পথে নেমেছি। অপরিকল্পিতভাবে বাংলায় এসআইআর করা হয়েছে।” এও বলেন, বাংলার মানুষের নাম কেটে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছে, তাই তাঁরা প্রতিবাদে পথে নেমেছেন।এসআইআর নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বলেন, ‘‘ইতিমধ্যে বাংলা থেকে ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম কাটা হয়েছিল। খসড়া তালিকা সেটা। তার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি দেখা গেল সংখ্যাটা ৬৩-৫৪ লক্ষ। বিবেচনাধীন সংখ্যা ৬০ লক্ষের বেশি। সবমিলিয়ে ১ কোটি ২০ লক্ষ। বিজেপি নেতারা যে কথাটা আগে থেকে বলছিলেন। এটা তো কাকতালীয় হতে পারে না।’’আমাদের মুখ্যমন্ত্রীই একমাত্র নেত্রী যিনি সাধারণ নাগরিক হিসাবে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে লড়তে গিয়েছেন। আর কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে দেশের মানুষ সওয়াল করতে দেখেননি।
আরও পড়ুন: ‘বিজেপি কোনওদিন জিতবে না সম্ভব নয়’, বিস্ফোরক কবীর সুমন
৬০ লক্ষ মানুষের নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ রয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কটাক্ষ, এত মানুষের নাম এই তালিকায় থাকলে নরেন্দ্র মোদির চেয়ারটাও ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ থাকবে। কারণ এই ভোটারদের ভোটেই তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। ধর্নামঞ্চ থেকে বললেন অভিষেক। অভিষেক বিজেপিকে বয়কটের ডাক দিয়ে বলেন, ‘ অভিষেক আরও বলেন, “অপরিকল্পিত এসআইআরের জন্য ১৭২ জন সহনাগরিককে হারিয়েছি। মাটির জন্য তাঁরা প্রাণ দিয়েছেন। তাঁদের বলিদান, প্রাণ আমরা বৃথা যেতে দেব না। ২০২১ সালে কিছু সামাজিক সংগঠন বলেছিল নো ভোট টু বিজেপি। এ বার শুধু নো ভোট টু বললে হবে না। এ বার বলতে হবে বয়কট বিজেপি’, তোপ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। দেশ কার থেকে পেট্রোল কিনবে সেটা ঠিক করে দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প! অমিত শাহ এলে তাঁর সভা শুরু শেষ হয় আমার নাম দিয়ে। বিজেপির সবার গায়ে জ্বালা আমায় নিয়ে। আমি ছোট একটা প্রস্তাব দিচ্ছি। পাশে অসম, একপাশে ত্রিপুরা, বিহার ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট। সব রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায়। কোনও শর্ত ছাড়া আড়াই কোটি মহিলাকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিয়েছে। মোদির একটা সরকার দিয়ে দেখাক! যদি দিতে পারে আমি রাজনীতি থেকে অবসর নেব।
অভিষেক বললেন, SIR-এ কারচুপি হয়েছে। শুধু মুখে বলা নয়, ‘প্রমাণ’ দেখালেন অভিষেক। ফর্ম-৬ ও ফর্ম-৭ জমার সংখ্যা নিয়ে সরব হলেন তিনি। হুঁশিয়ারি, সব নথি আদালতে জমা দেবেন তাঁরা।সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ। সেই বিতর্কে মুখ খুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কটাক্ষ, “সৌরভ যদি দালাল হন, ২০২১ সালে শুভেন্দু অধিকারী, দিলীগ ঘোষদের বগলদাবা করে বেহালায় তাঁর বাড়িতে গিয়ে লুচি-আলুর দম খেয়ে এসেছিলেন কেন অমিত শাহ? বাঙালি তো, তাই উনি মাথানত করেননি।”সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ। সেই বিতর্কে মুখ খুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কটাক্ষ, “সৌরভ যদি দালাল হন, ২০২১ সালে শুভেন্দু অধিকারী, দিলীগ ঘোষদের বগলদাবা করে বেহালায় তাঁর বাড়িতে গিয়ে লুচি-আলুর দম খেয়ে এসেছিলেন কেন অমিত শাহ? বাঙালি তো, তাই উনি মাথানত করেননি।”







