ওয়েব ডেস্ক : পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক বিস্ফোরক দাবি করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। জামিনের মামলার শুনানিতে ইডির আইনজীবী অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু অভিযোগ করেন, প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর নির্দেশে বিপুল সংখ্যক প্রার্থীকে বেআইনিভাবে পুরসভায় নিয়োগ করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ৩৪০ জন প্রার্থীর সুপারিশ করা হয়েছিল এবং তাঁদের মধ্যে ২৮৬ জন আনডিজার্ভড প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
ইডির দাবি, প্রতিটি নিয়োগের জন্য প্রায় ৬ লক্ষ টাকা করে নেওয়া হত। দক্ষিণ দমদম পুরসভায় ২৮৪টি বেআইনি নিয়োগের অভিযোগও আদালতে তুলে ধরা হয়। তদন্তকারী সংস্থার আরও দাবি, সুজিত বসুর সঙ্গে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। অয়ন শীলের বক্তব্যের ভিত্তিতে ইডি আদালতে জানায়, প্রার্থীদের রেফার করতেন সুজিত এবং অন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সুপারিশও পুরসভায় পাঠানো হত। দক্ষিণ দমদম পুরসভায় ১৫২ জনের সুপারিশ করার কথাও আদালতে জানানো হয়েছে।
আরও খবর : ভারতীয় নৌবাহিনীর শক্তি বাড়াতে জলে নামল ‘শ্রুতি’, দেশীয় প্রযুক্তিতে বড় সাফল্য জিআরএসই-র
মামলার শুনানিতে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ ইডির কাছে জানতে চান, যাঁদের ওএমআর শিটে কারচুপি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ, সেই প্রার্থীদের বয়ান নেওয়া হয়েছে কি না। জবাবে এসভি রাজু জানান, নিতাই দত্তের বাড়ি এবং দক্ষিণ দমদম পুরসভা থেকে প্রার্থীদের তালিকা উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদেরও আর্থিক সুবিধাভোগী করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ইডির। মোহিনী বসুর অ্যাকাউন্টে ৫২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা থাকার বিষয়টিও আদালতে তুলে ধরা হয়।
ইডির আরও অভিযোগ, সুজিত বসুর হাতে ২০০৩ সালেই ১ কোটি ৮ লক্ষ টাকার বেশি ছিল এবং পরবর্তী সময়ে সেই অর্থের পরিমাণ বাড়তে থাকে। রেস্তরাঁ ব্যবসার মাধ্যমে টাকা লেনদেনের বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। এমনকী করোনার সময়ে রেস্তরাঁ বন্ধ থাকার পরও সেখানে টাকা আসার অভিযোগ করা হয়েছে। ইডির বক্তব্য, এটি মানি লন্ডারিংয়ের একটি ‘ক্লাসিক কেস’ এবং তদন্ত এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। জেলে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আদালতের প্রশ্নের জবাবে ইডি জানায়, এই দুর্নীতির সঙ্গে আরও কোনও অপরাধ বা বৃহত্তর চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার পরবর্তী শুনানি ১৭ আগস্ট। ওই দিন ইডির বক্তব্যের জবাব দেবেন সুজিত বসুর আইনজীবী।







