কলকাতা: তৃণমূলে যোগ দিলেন কার্শিয়াংয়ের BJP বিধায়ক বিষ্ণপ্রসাদ শর্মা (Bishnu Prasad Sharma)। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি বিধায়কের ফুলবদল। বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘বিদ্রোহী’ বিজেপি বিধায়কের দলবদল নিঃসন্দেহ তাৎপর্যপূর্ণ।পাহাড়ি এলাকার উন্নয়নের জন্যবারবার তাঁর মুখে শোনা গিয়েছিল বাংলা ভাগের কথা। বিজেপি সেই আশ্বাস দিলেও কার্যক্ষেত্রে কিছুই করে উঠতে পারেনি। বিজেপির উপর বরাবর ক্ষুব্ধ কার্শিয়াংয়ের ‘বিদ্রোহী’ বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা। এবার ২৬-এর নির্বা্চনের আগে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন।বৃহস্পিবার দুপুরে তৃণমূল ভবনে এসে শশী পাঁজা ও ব্রাত্য বসুর হাত থেকে তৃণমূলের দলীয় পতাকা তুলে নিয়ে আনু্ষ্ঠানিকভাবে নাম লেখালেন বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা। তৃণমূলের যোগ দিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন সদ্য দলত্যাগী বিধায়ক। তিনি বলেন, মানুষ হয়ে জন্ম নিয়েছি সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করতে পারব না।
বিগত কিছুদিন আগেই বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক বার ভোক্ষ উগড়ে দিয়েছেন।কার্শিয়াঙের বিধায়ক বিষ্ণু প্রসাদ শর্মা বলেছিলেন, বিজেপি তাসের ঘরের মতো হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ছে। নির্বাচনের আগেই বিজেপির ভিত নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে। তাঁকে বোলতে শোনা গিয়েছিল বিজেপি মনিথ্যাচারের রাজনীতি করছে। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছিলেন। বিজেপির এই সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি এবং মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ। এর আগেও তাঁকে বলবতে শোনা গিয়েছিল বিজেপি বিধায়ক হয়ে আর আসবেন না। তিনি বলেছিলেন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগাতে পারবেন না। রাজনীতিও ছাড়তে পারবেনা না, কিন্তু বিজেপির হয়ে রাজনীতি করবেন না সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। বিধায়কের এই মন্তব্যে এটা স্পষ্ট হয়েছিল বিজেপির অন্তর্কলহকে।
আরও পড়ুন: ২৬-এর ভোটের আগে বড় ভাঙন বিজেপিতে, এই বিজেপি বিধায়ক যোগ দেবেন তৃণমূলে
এদিন তৃণমূলে যোগ দিয়ে বিজেপি ও এসআইআরের বিরুদ্ধে সরব বল বিষ্ণপ্রসাদ শর্মা। তিনি বলেন আমি অনেকদিন ধরে এসআইআরের বিরোধীতা করছি। এত কম সময়ের মধ্যে তাড়াহুড়ো করে এসআইআর করার কী প্রয়োজন ছিল।তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিজেপি গোর্খাল্যাণ্ডের কথা বলে ভাঁওতা দিচ্ছে। পাহাড়ের কোনও উন্নতিতে কেন্দ্রীয় সরকার টাকা দিচ্ছে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা করার নিজের থেকে করেছেন। কেন্দ্র থেকে না পেলেও রাজ্যে উন্নয়ন হয়েছে। বিজেপি ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে ব্যস্ত, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করতে পারব না। দল যে দায়িত্ব দেবে, তা মেনে চলব। আমি গোর্খা ভাইবোনদের দ্বারা নির্বাচিত হয়েও তাঁদের জন্য কাজ করতে পারছি না। বিজেপি কথা দিয়েও কোনও কাজ করেনি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত, বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মার হাত ধরে দার্জিলিং পাহাড়ে নিজেদের ভিত শক্ত করতে তৎপর শাসকদল। ছাব্বিশে সেখান থেকে আরও খানিকটা সমর্থন ঘাসফুল শিবিরের ভোটবাক্সে পড়বে বলে আশা। তবে আরেকাংশের মত, বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মার দলবদল মোটেই পাহাড়ে ভোটের উপর তেমন প্রভাব ফেলবে না।







