কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election) ‘বিজেপিই জিতবে’, আত্মবিশ্বাসী পদ্ম শিবির। ভোটের আগে রাজ্যবাসীর কাছে সুযোগ চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। এবার মোদির খেলা চিঠিকে কটাক্ষ করে রাজ্যবাসীকে পাল্টা পত্র দিল তৃণমূল। চিঠির শুরুতে বাংলার মানুষের কাছে আমার অকপট স্বীকারোক্তি।এক্স হ্যান্ডলে তা পোস্ট করে তৃণমূল লিখেছে, ‘মোদি যা লিখতে পারেননি’। ছাব্বিশের ভোটের আগে দুই যুযুধান শিবিরের এই চিঠি-যুদ্ধ ঘিরে বেশ সরগরম সোশাল মিডিয়া।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গবাসীর উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। নরেন্দ্র মোদি লিখেছিলেন, আর মাত্র কয়েক মাস, তারপরেই নির্ধারিত হবে পশ্চিমবঙ্গের ভাগ্য। আমার স্বপ্নের সোনার বাংলার আজ চরম বঞ্চনার শিকার। অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আমি একটিই সংকল্প গ্রহণ করেছি, পশ্চিমবঙ্গকে বিকশিত’ ও সমৃদ্ধ করে তোলার সংকল্প। চিঠিতে দুর্নীতি, অপশাসনের কথা উল্লেখ করে ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’ গড়ার ডাক দিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ চিঠিতে কেন্দ্র ‘জনধন যোজনা’, ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’, ‘অটল পেনশন যোজনা’, ‘উজ্জ্বলা যোজনা’র মতো প্রকল্প নিয়ে বিজ্ঞাপন করেছেন। এবার চিঠির পালটা ভিন্ন বয়ানে অন্য এক চিঠি লিখে প্রচারে নামল শাসক শিবির।
আরও পড়ুন: পরিবর্তন যাত্রায় অনুমতি দেয়নি পুলিশ, আদালতে বিজেপি
চিঠির শুরুতে মোদির বয়ানে লেখা, ‘শুরু করছি আমার বহু প্রতীক্ষিত স্বীকারোক্তি দিয়ে: আমার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আমি বারবার দাবি করেছিলাম যে, বাংলায় দুর্গাপুজো বন্ধ করা হয়েছে, যা শেষপর্যন্ত মিথ্যে বলে প্রমাণিত হয়েছে। চিঠির ধাপে ধাপে এমন অনেক কিছুই রয়েছে, যা বাংলার ক্ষেত্রে বাস্তব। অথচ সেসব কখনও মোদি সরকার স্বীকার করে না। বাংলাকে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে তৃণমূলের বয়ানে মোদির লেখা– আমাকে ‘জয় মা কালী’ স্লোগান দিয়ে লোকদেখানো ভক্তিপ্রদর্শনের অভিনয় করতে হচ্ছে।’ বাধ্য হয়েই একগুচ্ছ স্বীকারোক্তির মাধ্যমে সবার সামনে নিজের আসল ছবি তুলে ধরছি। বাংলার উন্নয়নের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে বাংলার প্রাপ্য আটকে রেখেছি। এগুলো আমারই পরিকল্পিত বঞ্চনা, যা রাজ্যের সাধারণ মানুষের জীবনে দুর্ভোগ ডেকে এনেছে। আমার নীতিগুলো দেশের মানুষের আশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, পোস্টে দাবি তৃণমূলের।এখানেই শেষ নয়, লেখা হয়েছে, ‘আমার দলের শাসনে চলা রাজ্যগুলোতে বাঙালিদের নিশানা করা শুরু করেছি।মাতৃভাষার মাধ্যমে পরিচয় নির্ধারণ করে আটক, দেশান্তর, নির্যাতন করছি।আমি ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে অত্যন্ত হাল্কাভাবে বঙ্কিমদা বলে সম্বোধন করেছি।







