ওয়েব ডেস্ক: রাষ্ট্রপতির প্রোটোকল ইস্যুতে (Presidential Protocol Issue) সংঘাত চরমে।উত্তরবঙ্গ সফরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Droupadi Murmu) প্রোটোকল লঙ্ঘন এবং নিরাপত্তা-ত্রুটি নিয়ে দিল্লি ও নবান্নের প্রশাসনিক সংঘাত চরমে উঠেছে। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানের স্থান বদল-প্রোটোকল বিতর্কে কড়া অবস্থান কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের। দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক ও শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারকে ডেপুটেশনে চাইল কেন্দ্র। তিন দিনের মধ্যে রাজ্যকে উত্তর দিতে হবে তারা ডেপুটেশনে পাঠাতে পারবেন নাকি। কেন ডেপুটেশনে চাওয়া হল তা নিয়ে কেন্দ্রের তরফে নির্দিষ্ট কোনও কারণ না দেওয়া হলেও, রাষ্ট্রপতি প্রটোকল সংক্রান্ত ইস্যুতেই কেন্দ্র ডেপুটেশনের চাইছে এই দুই সরকারি আধিকারিককে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হলো রাজ্যকে।
গত শনিবার শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে এসে রাষ্ট্রপতি নিজেই প্রশ্ন তুলেছিলেন রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। বলেছিলেন, “আমি বাংলার মেয়ে, অথচ আমাকেই বাংলায় আসতে দেওয়া হয় না।”জবাবে কলকাতার ধর্নামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) জানান, তিনি রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে ওই অনুষ্ঠানের কথা জানতেনই না। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে রাষ্ট্রপতির রাজ্য সফর সম্পর্কে অবহিত থাকলেও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা কারা, কী নিয়ে এই অনুষ্ঠান, এ সব নিয়ে তাঁর ধারণাই ছিল না। অচিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এ নিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন। পরে মৌখিকভাবেও মমতার সরকারের ভূমিকার নিন্দা করেন। খোদ রাষ্ট্রপতির মুখে ‘অসম্মানে’র কথা শোনার পর বিষয়টি যে হালকাভাবে নেওয়া হবে না, তা সবার অজানা ছিলনা। তার ইঙ্গিত মিলেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কড়া পদক্ষেপে।
আরও পড়ুন: সাক্ষাৎ চেয়ে ফের রাষ্ট্রপতিকে চিঠি তৃণমূলের!
শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার (সিপি) সি সুধাকর এবং দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক মণীশ মিশ্রকে ডেপুটেশনে চেয়েছে অমিত শাহের (Amit Shah) মন্ত্রক।এই নিয়ে রাজ্য সরকারের মতামত চেয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, খবর নবান্ন সূত্রে। রাষ্ট্রপতির সফরের দায়িত্বে ছিলেন শিলিগুড়ির CP ও দার্জিলিঙের জেলাশাসক। সেই কারণে এই ২ আমলাকেই কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে চায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। এদিকে এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি পেলেন না তৃণমূল সাংসদরা। সময়ের অভাবে অনুমতি দেওয়া হয়নি রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে, খবর সূত্রের। আদিবাসীদের রাজ্য সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান দিতে দেখা করার আর্জি তৃণমূল সাংসদদের।







