ওয়েব ডেস্ক : অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার বিষয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর পদক্ষেপ এবং মানি লন্ডারিং তদন্তের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়নি কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হল তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি বি ভারালের বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়।
শুনানিতে তৃণমূলের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল (Kapil Sibal)। তিনি আদালতে বলেন, “অনুগ্রহ করে অভিযোগগুলো দেখুন।” এর জবাবে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (এএসজি) এস ভি রাজু জানান, এটি একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ। তখন কপিল সিব্বল বলেন, “আমি জানি এটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ। আমি কেন এখানে এসেছি বলে আপনার মনে হয়? অভিযোগের অঙ্ক ১৬০ কোটি টাকা।”
বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ পর্যবেক্ষণে বলেন, “আমরা যদি এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি, তবে মূল মামলায় আর কী অবশিষ্ট থাকবে? আপনারা দু’পক্ষই সহযোগিতা করুন এবং বিষয়টির নিষ্পত্তি করুন।” এর পর কপিল সিবাল দাবি করেন, যে আদেশকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, সেটি তথ্যগতভাবে ভুল। তবে বিচারপতি সুন্দরেশ স্পষ্ট করে জানান, আদালত এই মুহূর্তে মামলার মেরিট নিয়ে আলোচনা করছে না, বরং বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানতে চাইছে।
আরও খবর : ভোররাতে প্যাসেঞ্জার ট্রেনে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে গেল তিনটি বগি, অল্পের জন্য রক্ষা পেল শতাধিক যাত্রী
এসময় এএসজি এস ভি রাজু আদালতে জানান, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে নিয়মিত আর্থিক লেনদেন হয়েছে। এর জবাবে কপিল সিব্বল প্রশ্ন তোলেন, “ইডি কি একটিও লেনদেনের উদাহরণ দেখাতে পারবেন! যে লেনদেনের ওপর ফ্রিজ করা হয়েছে। তিনি কী বলছেন? আমি আমার কর্মীদের বেতন দিতে পারছি না। দয়া করে এর বিষয়টি দেখুন।” বিচারপতি সুন্দেশের মন্তব্য, বেআইনি আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অর্থ আসলে কী এবং আপনারা কী করতে চাইছেন? পরিমান ১৬০ কোটি টাকা। আবেদনকারী বলছে যে এটি এখন প্রশাসকের হাতে রয়েছে।
শুনানির শেষে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) প্রস্তাব দেয়, দলের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনার জন্য প্রশাসকের হাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ব্যবহারের সুযোগ রাখা যেতে পারে। এই বিষয়ে ইডিকে মতামত জানানোর জন্য সময় দেওয়া হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার মামলাটি ফের শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।







