নয়াদিল্লি: প্রজাতন্ত্র দিবসের (Republic Day 2026) কুচকাওয়াজ মানেই দিল্লির (Delhi) আকাশে যুদ্ধবিমানের গর্জন। ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি সেই আকাশযুদ্ধের প্রস্তুতিতেই অভিনব কৌশল নিচ্ছে প্রশাসন। বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিল্লি সরকার কিনছে ১,২৭৫ কেজি হাড়বিহীন মুরগির মাংস! লক্ষ্য একটাই, পাখির ধাক্কা থেকে রক্ষা করা সুখোই, রাফালের মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানকে।
সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে বিমানবাহিনীর মহড়ার সময় দিল্লির আকাশে বড় বিপদ হয়ে ওঠে কালো চিল ও বাজজাতীয় পাখি। কম উচ্চতায় ওড়ার সময় বিমান ইঞ্জিনের সামনে আচমকাই চলে এলে মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। অতীতে একাধিকবার ‘বার্ড হিট’-এর কারণে মাঝ আকাশ থেকে জরুরি অবতরণ করতে হয়েছে যুদ্ধবিমানকে।
আরও পড়ুন: ঠান্ডায় শিমলা–মৌসুরিকে পিছনে ফেলল দিল্লি ও গুরুগ্রাম!
এই ঝুঁকি এড়াতেই ‘চিকেন শিল্ড’ কৌশল। ১৫ জানুয়ারি থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজধানীর ২০টি চিহ্নিত এলাকায়—লাল কেল্লা, জামা মসজিদ, মান্ডি হাউস, দিল্লি গেট-সহ নানা জায়গায়, ছোট ছোট টুকরো করে মুরগির মাংস ছড়ানো হবে। এতে পাখিরা বিমান চলাচলের রুট ছেড়ে নির্দিষ্ট এলাকায় খাবার নিয়ে ব্যস্ত থাকবে।
বন দফতর সূত্রে খবর, আগে মোষের মাংস ব্যবহার করা হত। কিন্তু এ বছর পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার ভারসাম্য রাখতে বেছে নেওয়া হয়েছে হাড়ছাড়া মুরগির মাংস। প্রতিদিন ২০০ থেকে ৪০০ কেজি পর্যন্ত মাংস ব্যবহার হবে। সর্বাধিক ২৫৫ কেজি ছড়ানো হবে ২২ জানুয়ারি।
বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী (প্রতি কেজি প্রায় ৩৫০ টাকা), এই ‘পাখিভোজে’ সরকারের খরচ হতে পারে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ টাকা। কিন্তু নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন। স্থল, জল ও আকাশ—তিন বাহিনীর শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ প্রজাতন্ত্র দিবস। সেই ঐতিহাসিক দিনে দিল্লির আকাশ যাতে নির্বিঘ্নে গর্জে ওঠে, তার জন্যই এবার যুদ্ধবিমানের পাশে নীরবে পাহারা দেবে এই অভিনব ‘চিকেন শিল্ড’।







