নদিয়া: নদিয়ার (Nadia) শান্তিপুরের (Shantipur) শান্তিগড় দু’ নম্বর কলোনির বাসবী ভৌমিক ভোটার তালিকায় ভয়াবহ সমস্যার মুখে পড়েছেন। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে নিয়মিত ভোট দিয়ে এলেও এবারের সংশোধিত তালিকায় তাঁর ছবির পাশে লেখা রয়েছে প্রতিবেশী রতন পাটোয়ারীর নাম। স্বামী সুশান্ত ভৌমিক এসআইআর ফর্ম পেলেও বাসবী নিজে ফর্ম পাননি। পরে জানা যায়, রতন পাটোয়ারীকেও ফর্ম দেওয়া হয়নি—অর্থাৎ দু’জনের ক্ষেত্রেই ঘটেছে মারাত্মক তথ্যগত ত্রুটি। বিষয়টি জানতেই বাসবী দেবী সেক্টর অফিসে অভিযোগ জানান (District news)।
এই ভুলে দিশেহারা বাসবী ভৌমিক বলেন, “ছবি আমার, কিন্তু নাম অন্যের! আমি ভোট দেব কীভাবে?” আতঙ্কে ও মানসিক চাপে অসুস্থ বোধ করছেন তিনি। রাগের মাথায় বি.এল.ও-কে ধমকও দেন এবং পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও ভাবেন। তবে বি.এল.ও আশ্বস্ত করেছেন—আগামী ৪ তারিখের মধ্যেই সংশোধন সম্পূর্ণ করে ভোটার তালিকায় তাঁর সঠিক নাম যুক্ত করা হবে। তবুও প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে—এ ধরনের ভুল কি সাধারণ নাগরিকের ভোটাধিকারকেই সন্দেহের মুখে ফেলে দিচ্ছে? আরও কত মানুষ এমন বিভ্রাটের শিকার হচ্ছেন?
আরও পড়ুন: শান্তিপুরে শীতলা মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরি, উধাও মন্দিরের সোনা–রুপোর গয়না
এই ঘটনার জেরে রাজনৈতিক পারদও চড়েছে। স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক অভিযোগ করেছেন—২০০২ সালে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে যেখানে তিন বছর সময় মিলেছিল, সেখানে এবার মাত্র তিন মাসে সবকিছু করতে গিয়ে ভুলভ্রান্তি বাড়ছে। মুখ্যমন্ত্রীও শুরু থেকেই সতর্ক থাকতে বলেছেন যাতে একজন নাগরিকও বাদ না পড়েন। অন্যদিকে বিজেপি জানিয়েছে, এটি শুধু একটি সাধারণ টেকনিক্যাল ভুল এবং দ্রুত সমাধান হবে। তবে বিধায়কের প্রশ্ন—একাকী বা অসুস্থ মানুষজনের কাছে তথ্য পৌঁছবে কীভাবে? আর এমন ভুলের কারণে কেউ কি ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে আদৌ নিজের ভোটাধিকার ফিরে পাবেন?
দেখুন আরও খবর:







