HomeScrollসূর্যকে সরিয়ে শ্রেয়সকে টি-২০ অধিনায়ক করবে BCCI? IPL-এর সাফল্যই নতুন দিশা দেখাবে...
Shreyas Iyer

সূর্যকে সরিয়ে শ্রেয়সকে টি-২০ অধিনায়ক করবে BCCI? IPL-এর সাফল্যই নতুন দিশা দেখাবে আইয়ারকে?

বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সাফল্য পাওয়ার অভিজ্ঞতা শ্রেয়স আইয়ারকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে

ওয়েব ডেস্ক: আইপিএলে (IPL) অধিনায়ক হিসেবে লাগাতার নিজেকে প্রমাণ করে চলেছেন শ্রেয়স আইয়ার (Shreyas Iyer)। নাইট সেনাপতি হিসেবে ট্রফি জয়ের পর পাঞ্জাব দলকে নিয়ে একবার ফাইনাল খেলে নিয়েছেন, এবারের মরশুমেও প্রীতি জিন্টার দল দুর্দান্ত পাররফর্ম করে চলেছেন তাঁর অধিনায়কত্বেও। গত কয়েক বছরে শ্রেয়সের পারফরম্যান্স ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা অনেককেই ভাবতে বাধ্য করেছে—ভারতের পরবর্তী টি-২০ অধিনায়ক (India T20 Captain) কি তিনিই?

ক্রিকেটে প্রায়ই দেখা যায়, অধিনায়কত্বের চাপ ব্যাটিং পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে। কিন্তু শ্রেয়স সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছেন। তিনি শুধু দলকে নেতৃত্ব দেননি, ব্যাট হাতেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন। ২০২০ সালের আইপিএলে তাঁর নেতৃত্বে দিল্লি প্রথমবার ফাইনালে ওঠে, যেখানে তিনি ১৭ ম্যাচে ৫১৯ রান করেছিলেন। এরপর ২০২৪ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে চ্যাম্পিয়ন করেন। আর ২০২৫ সালে পঞ্জাব কিংসকে ১১ বছর পর ফাইনালে তোলেন, যেখানে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৬০৪ রান। এই ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে—তিনি শুধু নেতা নন, ম্যাচ উইনারও। এদিকে শ্রেয়সের নেতৃত্বের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল, তিনি শুধু নির্দেশ দেন না, নিজেই সামনে থেকে লড়াই করেন। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁর ইনিংস বহুবার দলকে জয়ের পথ দেখিয়েছে।

আরও পড়ুন: IPL-এর ইতিহাসে তৃতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি! দেখুন বৈভবের ৫ কীর্তি

এদিকে বর্তমানে ভারতীয় টি-২০দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব’ও (Suryakumar Yadav) সাফল্যের দিক থেকে পিছিয়ে নেই। তাঁর নেতৃত্বে ভারত এশিয়া কাপ ও টি-২০ বিশ্বকাপ জিতেছে। ৫২ ম্যাচে ৪০ জয় তাঁর সাফল্যের প্রমাণ। তবে ব্যাট হাতে সূর্যর সাম্প্রতিক ফর্ম ও বয়স নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বড় টুর্নামেন্টে তাঁর ব্যাটিং প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ২০২৮ সালের টি-২০ বিশ্বকাপ ও অলিম্পিক্সের সময় তাঁর বয়স হবে ৩৮—যা নির্বাচকদের ভাবনায় প্রভাব ফেলতেই পারে। এক্ষেত্রে ভারতীয় দলে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের দৌড়ে রজত পতিদার বা অক্ষর প্যাটেলের মতো নাম থাকলেও অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতায় এগিয়ে শ্রেয়সই। বিভিন্ন দলে, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সাফল্য পাওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

শুধু পরিসংখ্যান নয়, ক্রিকেটবিশ্বের অনেক কিংবদন্তিও শ্রেয়সের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। ইতিমধ্যে অনিল কুম্বলে তাঁকে ‘সবচেয়ে কম গুরুত্ব পাওয়া অধিনায়ক’ বলেছেন। এছাড়াও বিশ্বজয়ী অজি অধিনায়ক রিকি পন্টিং মনে করেন, শ্রেয়স নিজের খেলাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন। আরেক অজি তারকা ব্র্যাড হাডিন আবার তাঁকে ‘গেমচেঞ্জার’ বলে অভিহিত করেছেন। এছাড়াও রবীচন্দ্রন অশ্বিন বিশেষভাবে তাঁর দলের পরিবেশ তৈরির ক্ষমতার কথা তুলে ধরেছেন।

সব মিলিয়ে, পারফরম্যান্স, নেতৃত্বগুণ, এবং দলের সঙ্গে সংযোগ—এই তিনের সমন্বয়ে শ্রেয়স আইয়ার এখন ভারতীয় টি-২০ দলের ভবিষ্যৎ অধিনায়ক হিসেবে অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার। আগামী কয়েক বছরে তাঁর পথচলাই ঠিক করে দেবে—ভারতের নেতৃত্বের ব্যাটন সত্যিই তাঁর হাতেই উঠবে কি না।

দেখুন আরও খবর:

[youtube-feed feed=1]
Read More

Latest News