হুগলি: ডিভিসি (DVC)-তে চাকরি ও কাজ দেওয়ার নামে প্রতারণা (Fraud)। তীব্র চাঞ্চল্য হুগলি (Hooghly) জেলার পান্ডুয়া এলাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এক ব্যক্তি নিজেকে ডিভিসি-র অফিসার পরিচয় দিয়ে একাধিক পরিবার থেকে টাকা আদায় করার পাশাপাশি শ্রমিকদের দিয়ে খাল পরিষ্কারের কাজ করিয়ে মজুরি না দিয়েই উধাও হয়ে গিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পান্ডুয়া ব্লকের সিমলাগড় ভিটাসিন গ্রাম পঞ্চায়েতের তালবোনা কলোনি এলাকায় কয়েক সপ্তাহ আগে রসময় পাইক নামে এক ব্যক্তি আসেন। তিনি নিজেকে ডিভিসি-র একজন অফিসার বলে পরিচয় দিয়ে জানান, ডিভিসি-তে সুপারভাইজার পদে নিয়োগ হবে। সেই চাকরি পাইয়ে দেওয়ার জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৩ হাজার ৬৬০ টাকা করে দাবি করা হয়। তাঁর কথায় বিশ্বাস করে চার থেকে পাঁচটি পরিবার চাকরির আশায় ওই টাকা দেন বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুন: ‘ফিঙ্গারপ্রিন্ট’ না থাকায় মেলেনি বার্ধক্য ভাতা! ১০৬ বছরের বৃদ্ধের দাবিতে শুরু রাজনৈতিক তরজা
এছাড়াও ডিভিসি খাল পরিষ্কারের কাজের জন্য প্রতিদিন ৬০০ টাকা মজুরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১৮ থেকে ১৯টি পরিবারকে কাজে লাগানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল পরিষ্কারের কাজ চলে টানা ১০ থেকে ১২ দিন। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পর মজুরি চাইতে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে থাকেন। এরপর হঠাৎই তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, খালে কাজ করার সময় একাধিক শ্রমিক আহত হন। সেই সময় কোনও প্রশিক্ষিত চিকিৎসক না হয়েও রসময় পাইক নিজেই চিকিৎসার নামে কারও গায়ে ইনজেকশন দেন, কাউকে ওষুধ খাওয়ান। এতে ওই চিকিৎসা কতটা নিরাপদ ছিল, তা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
পরবর্তীতে গ্রামবাসীরা ডিভিসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, রসময় পাইক নামে কোনও ব্যক্তি তাদের কর্মী নন এবং ওই এলাকায় ডিভিসি-র পক্ষ থেকে কোনও কাজও চলছিল না। এরপর প্রতারিত ১৮ থেকে ১৯টি পরিবার একসঙ্গে পান্ডুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
দেখুন আরও খবর:







