শান্তিনিকেতন: বৈতালিক, বৈদিক মন্ত্রপাঠ এবং রবীন্দ্রসঙ্গীতের আবহে শান্তিনিকেতনে (Shantiniketan) পালিত হল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম তিরোধান দিবস (Rabindranath Tagore 85th Death Anniversary)। শনিবার বাইশে শ্রাবণে কবিগুরুর স্মৃতিতে সকাল থেকেই নানা অনুষ্ঠানে মুখর হয়ে ওঠে বিশ্বভারতীর কর্মভূমি শান্তিনিকেতন।
ভোরে সমবেত ছাত্রছাত্রী, অধ্যাপক, কর্মী এবং আশ্রমিকেরা রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতে গাইতে বৈতালিকে অংশ নেন। তার পর সকাল ৭টায় মন্দিরে আয়োজিত হয় বিশেষ উপাসনা। বৈদিক মন্ত্রপাঠের পাশাপাশি রবীন্দ্রসঙ্গীতের মাধ্যমে কবিগুরুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ-সহ পড়ুয়া, অধ্যাপক, কর্মী এবং আশ্রমিকেরা।
আরও পড়ুন: জমি সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে নতুন হেল্পলাইন চালু মালদায়
বিশেষ উপাসনা শেষে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতে গাইতে সকলে এগিয়ে যান কবিগৃহ উত্তরায়ণের দিকে। সেখানে রবীন্দ্রনাথের ব্যবহৃত চেয়ারে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করে শ্রদ্ধা জানানো হয়। কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত এই স্থানে এ দিনও ছিল আবেগঘন পরিবেশ।
শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের তিরোধান দিবস পালন শুধু একটি স্মরণ অনুষ্ঠান নয়, বরং তাঁর জীবন, দর্শন ও সৃষ্টির সঙ্গে নতুন করে সংযোগ স্থাপনেরও দিন। সেই আবহেই এ দিন আশ্রমিক ও বিশ্বভারতীর পড়ুয়াদের কণ্ঠে বার বার ফিরে আসে রবীন্দ্রসঙ্গীত।
বিকেলে শান্তিনিকেতনের গৌরপ্রাঙ্গণে রবীন্দ্রভাবনায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের নিবিড় সম্পর্কের যে ভাবনা রবীন্দ্রনাথ তাঁর সৃষ্টিতে তুলে ধরেছিলেন, সেই আদর্শকে সামনে রেখেই এই কর্মসূচি।
বাইশে শ্রাবণে তাই গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগে কবিগুরুকে স্মরণ করল তাঁর শান্তিনিকেতন। বৈতালিক থেকে বিশেষ উপাসনা, উত্তরায়ণে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন—দিনভর নানা আয়োজনে ফিরে এলেন বাঙালির প্রিয় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।







