কলকাতা: সম্পর্কের জটিল মনস্তত্ত্ব নিয়ে পর্দায় আসছে ‘সব চরিত্ররা’ (Sob Charitrara)। সব চরিত্ররা’ সেই অদৃশ্য, অস্বস্তিকর অথচ গভীর মানবিক লড়াইয়ের মর্মস্পর্শী চলচ্চিত্ররূপ, যার পরিচালক দীপ মোদক। সমসাময়িক সম্পর্কের টানাপোড়েন, না-বলা কথার ভার এবং আত্মমর্যাদার সূক্ষ্ম দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সব চরিত্ররা’। পরিচালক দীপ মোদক (Dip Modak) তাঁর স্বতন্ত্র নির্মাণশৈলীতে ছবিটিকে গড়ে তুলেছেন এক গভীর ও স্তরসমৃদ্ধ মনস্তাত্ত্বিক আবহে, যেখানে প্রতিটি চরিত্রই নিজের যুক্তি ও আবেগ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
ঋত্বিক দাশগুপ্ত চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেবরাজ ভট্টাচার্য (Debraj Bhattacharya)। তাঁর চরিত্রটি এমন এক মানুষের প্রতিচ্ছবি, যিনি সম্পর্কের ভেতরে থেকেও একাকীত্বে ভোগেন। ভালোবাসা, অবিশ্বাস এবং আত্মসম্মানের সূক্ষ্ম সংঘাত তাঁকে ক্রমশ এক অস্থির মানসিক অবস্থার দিকে ঠেলে দেয়। সহ-অভিনেতা ঋতব্রত ও প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের রসায়ন গল্পটিকে বহুমাত্রিক করে তোলে। ঋতব্রতের চরিত্রে রয়েছে বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি, অন্যদিকে প্রিয়াঙ্কার উপস্থিতি গল্পে এনে দেয় আবেগের গভীরতা ও সংবেদনশীলতার ছোঁয়া। তিনটি চরিত্রের ভিন্ন মানসিক অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গির সংঘর্ষই ছবির মূল চালিকাশক্তি।
আরও পড়ুন: লটারির টিকিটেই উলটপুরাণ! রহস্যে মোড়া ড্রামেডি ‘ভাগ্যলক্ষ্মী বাম্পার’
পরিচালকের ভাবনায়, মানুষ কখনও সম্পূর্ণ সঠিক বা সম্পূর্ণ ভুল নয়; পরিস্থিতি ও অনুভূতির প্রেক্ষাপটই তাকে নির্ধারণ করে। সেই দর্শন থেকেই ছবিটি সাদা-কালোর বিভাজন ভেঙে ধূসর বাস্তবতার ভেতর প্রবেশ করে। সংলাপের পাশাপাশি নীরব মুহূর্তগুলোকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কারণ সেই নীরবতার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে অপ্রকাশিত সত্য। চিত্রগ্রহণে আলো-ছায়ার ব্যবহার, সংযত আবহসংগীত এবং মিতব্যয়ী সম্পাদনা ছবিটিকে দিয়েছে এক আবেশময় গতি। প্রতিটি দৃশ্য যেন চরিত্রগুলোর মানসিক স্তর উন্মোচনের দিকে ধাপে ধাপে এগিয়ে যায়। ‘সব চরিত্ররা’ কেবল সম্পর্কের গল্প নয়; এটি আত্মসমীক্ষা, দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য এবং মানবিক দুর্বলতার এক নির্মোহ উপস্থাপনা—যেখানে প্রত্যেক চরিত্রই নিজের মতো করে সত্য, আর সেই সত্যের সংঘাতই তৈরি করে নাটকীয়তা।







